নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শেখ ও মোল্যা পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (২৩ মার্চ,২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কালিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষে মোল্যা বংশের মাহাবুর মোল্যা (৪০), রমজান মোল্যা (৫৫), মিন্টু মোল্যা (৫২), নাহিদ মোল্যা (২১), টুটুল মোল্যা (৩০), শাহীদুল মোল্যা (৪৮), রাজা মোল্যা (৫০), বাঁধন মোল্যা (২৬), তামিম মোল্যা (১৯), সুমন মোল্যা (২৮) এবং শেখ বংশের আজানুর শেখসহ (১৮) উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নোয়াগ্রামে শেখ বংশের মাহবুবুর রহমান শেখ ও ইসরাইল শেখ এবং প্রতিপক্ষ মোল্যা বংশের খায়রুল মোল্যা ও তাদের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার ঈদের দিন মাংস ভাগাভাগি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে এই দুই পক্ষের বিরোধ আবারও চাঙ্গা হয়। এর জেরে সোমবার রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় শটগানের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতরা বর্তমানে নড়াইল জেলা হাসপাতাল ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচি বলেন, কালিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শরীরে ছররা গুলির অংশ পাওয়া গেছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছি, বর্তমানে প্রত্যেকেই আশঙ্কামুক্ত।
নড়াইল জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি 


















