ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: ‘তথ্য সন্ত্রাস’ নাকি অনিয়মের অনুসন্ধান? নেপথ্যে কি পদ দখলের সমীকরণ ? কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭। সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার। কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা।

সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন।

সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম। এসময় সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিংগু মুর্মু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, অ্যাডভোকেট উকিল মুরমু, ইলিয়াস সরেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আদিবাসী নেতারা। অনুষ্ঠানের শেষে আগামী তিন বছরের জন্য সুমী মুরমুকে সভাপতি এবং ইলিয়াস সরেন সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো—সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ, সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরবঙ্গের একজন আদিবাসী নারীর সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পৃথক আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের অধিকার, ভূমি এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব আজও অনিরাপদ রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় সমতল আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সমতল অঞ্চলে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক আদিবাসীর বসবাস। উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় সাঁওতাল, ওঁরাও, কোল, মুন্ডা, রাজোয়াড়, তুরি, মাহালী, মালো, মাহাতোসহ ৩২টিরও বেশি সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কাঠামো না থাকায় ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইভাবে পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, উচ্ছেদ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমতল আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং দেশে একটি অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী।

সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন।

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম। এসময় সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিংগু মুর্মু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, অ্যাডভোকেট উকিল মুরমু, ইলিয়াস সরেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আদিবাসী নেতারা। অনুষ্ঠানের শেষে আগামী তিন বছরের জন্য সুমী মুরমুকে সভাপতি এবং ইলিয়াস সরেন সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো—সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ, সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরবঙ্গের একজন আদিবাসী নারীর সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পৃথক আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের অধিকার, ভূমি এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব আজও অনিরাপদ রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় সমতল আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সমতল অঞ্চলে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক আদিবাসীর বসবাস। উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় সাঁওতাল, ওঁরাও, কোল, মুন্ডা, রাজোয়াড়, তুরি, মাহালী, মালো, মাহাতোসহ ৩২টিরও বেশি সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কাঠামো না থাকায় ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইভাবে পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, উচ্ছেদ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমতল আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং দেশে একটি অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে।