ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা। সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ সরকারি আইনজীবীর একযোগে পদত্যাগ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবি সহকর্মীদের। আর্জেন্টিনার বিজয়ে ভোররাত থেকেই ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস।

আমতলীতে এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার।

 

আমতলীতে আপন খালুর বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতা মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার পর ধর্ষক আপন খালু আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ধর্ষক আলমগীর হোসেন (৪০) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। সে কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের নূর হোসেনের ছেল। এ ঘটনায় রবিবার সকালে ধর্ষিতার নানী বাদী হয়ে আমতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামাতা আলমগীর হোসেনকে আসামী করে মামলা করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের উনূর হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গত রোজার ঈদে স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে সে শ্বশুর বাড়ী বেড়াতে আসে। শারিরিক অসুস্থতার কথা বলে সে শনিবার রাত পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করে আসছে। শ্বশুর বাড়িতে অবস্থানের সময় তার লোলুপ দৃষ্টি পরে মা হারা এতিম আপন ভায়রার মেয়ে নানা বাড়িতে থাকা ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীর উপর। সুযোগ খুঁজতে থাকে লম্পট আলমগীর হোসেন।

ঘটনার দিন ১৮ মে সোমবার সকাল ১০টার সময় মেয়েটির নানা নানী মাঠে কাজ করতে যায়। এই সুযোগে আলমগীর হোসেন মেয়েটিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমে ঝাপটে ধরে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে হাত পা মুখ বেঁধে ভায়রার মেয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থী (১৪) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মেয়েটির নানী বাড়ীতে আসার পর সে এঘটনা তাকে জানায়। নিজেদের পরিবারের মধ্যে এঘটনা হওয়ায় বিষয়টি লোক লজ্জার ভয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীকে পুন:রায় ধর্ষনের চেষ্টা করে। নানা নানি এঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দেয়। আমতলী থানা পুলিশ শনিবার রাতেই আলমগীর হোসেনকে তার শ্বশুর বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

এঘটনায় রবিবার সকালে মেয়েটির নানী বাদী হয়ে ধর্ষক জামাতা মো. আলমগীর হোসেনকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ধর্ষিতা মেয়েটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দুই বছর বয়সের সময় আমার মা মারা যায়। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমি আমার নানার বাড়িতে থাকি। এবং মাদরাসায় পড়াশুনা করে আসছি। আমি বর্তমানে অষ্ট শ্রেণির ছাত্রী। আমার আপন খালু আমার নানা বাড়ী বেড়াতে এসে গত ১৮ মে আমাকে খুনের ভয় দেখিয়ে হাত-পা মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। বিষয়টি আমি আমার নানীকে জানাই। প্রথমবার তারা তাকে মাফ করে দেয়। পরের বার শনিবার রাতে যখন সে আমাকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে আমি আমার নানা নানীকে জানাই। তারা তখন পুলিশকে জানায় এবং মামলা করে। আমি এঘটনা বিচার চাই।

মেয়েটির নানী জানান, আমার জামাই আমার নাতনীকে ধর্ষণ করেছে। আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমি এই ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদৎ হাসনাইন পারভেজ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষক আলমগীর হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫।

আমতলীতে এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার।

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

 

আমতলীতে আপন খালুর বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতা মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার পর ধর্ষক আপন খালু আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ধর্ষক আলমগীর হোসেন (৪০) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। সে কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের নূর হোসেনের ছেল। এ ঘটনায় রবিবার সকালে ধর্ষিতার নানী বাদী হয়ে আমতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামাতা আলমগীর হোসেনকে আসামী করে মামলা করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের উনূর হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গত রোজার ঈদে স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে সে শ্বশুর বাড়ী বেড়াতে আসে। শারিরিক অসুস্থতার কথা বলে সে শনিবার রাত পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করে আসছে। শ্বশুর বাড়িতে অবস্থানের সময় তার লোলুপ দৃষ্টি পরে মা হারা এতিম আপন ভায়রার মেয়ে নানা বাড়িতে থাকা ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীর উপর। সুযোগ খুঁজতে থাকে লম্পট আলমগীর হোসেন।

ঘটনার দিন ১৮ মে সোমবার সকাল ১০টার সময় মেয়েটির নানা নানী মাঠে কাজ করতে যায়। এই সুযোগে আলমগীর হোসেন মেয়েটিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমে ঝাপটে ধরে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে হাত পা মুখ বেঁধে ভায়রার মেয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থী (১৪) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মেয়েটির নানী বাড়ীতে আসার পর সে এঘটনা তাকে জানায়। নিজেদের পরিবারের মধ্যে এঘটনা হওয়ায় বিষয়টি লোক লজ্জার ভয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীকে পুন:রায় ধর্ষনের চেষ্টা করে। নানা নানি এঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দেয়। আমতলী থানা পুলিশ শনিবার রাতেই আলমগীর হোসেনকে তার শ্বশুর বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

এঘটনায় রবিবার সকালে মেয়েটির নানী বাদী হয়ে ধর্ষক জামাতা মো. আলমগীর হোসেনকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ধর্ষিতা মেয়েটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দুই বছর বয়সের সময় আমার মা মারা যায়। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমি আমার নানার বাড়িতে থাকি। এবং মাদরাসায় পড়াশুনা করে আসছি। আমি বর্তমানে অষ্ট শ্রেণির ছাত্রী। আমার আপন খালু আমার নানা বাড়ী বেড়াতে এসে গত ১৮ মে আমাকে খুনের ভয় দেখিয়ে হাত-পা মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। বিষয়টি আমি আমার নানীকে জানাই। প্রথমবার তারা তাকে মাফ করে দেয়। পরের বার শনিবার রাতে যখন সে আমাকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে আমি আমার নানা নানীকে জানাই। তারা তখন পুলিশকে জানায় এবং মামলা করে। আমি এঘটনা বিচার চাই।

মেয়েটির নানী জানান, আমার জামাই আমার নাতনীকে ধর্ষণ করেছে। আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমি এই ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদৎ হাসনাইন পারভেজ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষক আলমগীর হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।