গ্রেফতারি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানিকর প্রচারণার অভিযোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবী,
একটি গ্রেফতারি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে তথ্য যাচাই করে সংবাদটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু সেই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই যেন শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ধারাবাহিক অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম।
ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে কেবল একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য প্রকাশের অধিকারের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, গত ২৩ মে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাকার চকবাজার থানার একটি প্রতারণা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাকারিয়া আহমদ স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের পর ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম। একই তথ্য দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক রেজাউল করিমকে উদ্দেশ্য করে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ও মানহানিকর মন্তব্য করতে থাকেন। শুধু সংবাদটির মন্তব্য ঘরেই নয়, সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক রেজাউল করিম বলেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশ করা আমার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ বা উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কখনো সংবাদ প্রকাশ করিনি। অথচ একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আমাকে এবং আমার পেশাগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আজ যদি সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে সামাজিকভাবে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়, তাহলে আগামী দিনে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তাই নয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবাদলিপিতে সাংবাদিক রেজাউল করিম দাবি করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সবার অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে অপমান, হেয়প্রতিপন্ন বা মানহানি করার সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, চলমান অপপ্রচার শুধু তার ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং সাংবাদিকতা পেশার সম্মানকেও ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত অপপ্রচার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য শুভ সংকেত নয়।
প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাংবাদিক কি শুধুমাত্র তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করার কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের শিকার হবেন? নাকি সত্য প্রকাশের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ।
সূনামগঞ্জ প্রতিনিধি 




















