গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ মাত্র ৬০০ টাকার পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোনাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধকে ঘিরে কিশোর ও তরুণদের সংঘবদ্ধ তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কোনাবাড়ী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মোছা. মরজিনা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী রইজ উদ্দিনের কাছ থেকে অভিযুক্ত রাসেল প্রায় ১০-১৫ দিন আগে ৬০০ টাকা ধার নেন। গত ২৫ জুন বিকেলে পাওনা টাকা চাইলে রাসেল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাহিম, নুর নবী, রাসেল ও জুয়েল সংঘবদ্ধভাবে রইজ উদ্দিনকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফয়সাল সরকার বিচার করার কথা বলে রইজ উদ্দিনকে ভান্ডারী গলির সামনে ডাকেন। সেখানে পৌঁছালে ফয়সাল সরকারসহ অভিযুক্তরা আবারও হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভান্ডারী গলিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ ‘ময়মনসিংহ গ্রুপ’ নামে পরিচিত। অপরদিকে, কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বারেক সরকারের ছেলে ফয়সাল সরকারের অনুসারীদের নিয়ে আরেকটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাহিমের সঙ্গে রইজ উদ্দিনের কথাকাটাকাটির পর বিষয়টি ফয়সাল সরকারকে জানানো হয়। পরে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও ফয়সাল সরকারকে দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাহিম প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, “রইজউদ্দিনকে আমি নিজেই মারধর করেছি। ফয়সাল ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন।” যদিও তিনি ঘটনার পেছনে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ফয়সাল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদল কিশোর ও তরুণ প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল শোডাউন, মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ফয়সাল সরকার “বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে” বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেদক। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোনাবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমন এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
গাজীপুর প্রতিনিধি 


















