ভালোবাসার সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ের পর বিদেশে গিয়ে় দ্বিতীয় বিয়ে, প্রথম স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে স্বামী, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে মামলা দায়ের কর হয়েছে।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে তার মেয়ে মৌমিতা বড়ুয়ার সঙ্গে চয়ন বড়ুয়ার পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের কয়েক বছর পর ২০২২ সালে চয়ন বড়ুয়া বিদেশে চলে যান। সেখানে গিয়ে় তিনি প্রথম স্ত্রী মৌমিতা বড়ুয়াকে না জানিয়ে একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই সংসারে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়ে়ছে।
বাদীর দাবি, বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই চয়ন বড়ুয়া প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পরে অন্যত্র বিয়ে়র বিষয়টি জানতে পেরে পারিবারিক আদালতে মামলা করা হয় এবং আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে চয়ন বড়ুয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন নামে একাধিক ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে মৌমিতা বড়ুয়া, তার মা অ্যাডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন পোস্ট প্রচার করেন। এতে বাদী ও তার পরিবারের সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুন্ন হয়ে়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ২৪ ও ২৫ জুন আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় মৌমিতা বড়ুয়ার ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে অভিযোগের সঙ্গে দাখিল করা ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) কাজী মিজানুর রহমান অভিযোগটি আমলে নেন। পরে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২২, ২৫ ও ২৭ ধারায়় অপরাধের প্রাথমিক উপাদান রয়ে়ছে উল্লেখ করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হিসেবে অভিযোগটি রুজু করতে কোতোয়়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আগামী ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়ে়ছে। মামলার প্রথম চার আসামি হলেন ধরিত্রীময়ী বড়ুয়া, অনুপমা বড়ুয়া, চয়ন বড়ুয়়া ও উপমা বড়ুয়া তুষি। এছাড়া আরও ১৫ জন ব্যক্তি, একাধিক ফেসবুক আইডি এবং কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে অভিযুক্ত করা হয়ে়ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়়ী মামলার কার্যক্রম চলবে।
বিশেষ প্রতিনিধি 























