ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: স্পেনের সোনালি উত্থান, আর্জেন্টিনার অশ্রু, মেসির উত্তরাধিকার এবং ফুটবলের অনন্ত মহাকাব্য। বিশ্বকাপের মহারণ: স্পেন না আর্জেন্টিনা—কার হাতে উঠবে ফুটবলের স্বপ্নের ট্রফি? চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে আলোর পথে ফাউন্ডেশন পঞ্চগড় এর ত্রাণ বিতরণ। ডিবির হাতে যৌন উত্তেজক সিরাপসহ ১’জন গ্রেফতার। ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন। স্বাধীন বেলুচিস্তানের স্বপ্ন, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিতব্য: একটি গভীর পর্যালোচনা। রাজউকের তেলেসমাতি কারবার! পাবনা গণপূর্তে কোটি টাকার বিল বিতর্ক: নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরকে ঘিরে : দুর্নীতির অভিযোগ, দেশত্যাগের শঙ্কা। চট্টগ্রাম বন্দরে গ্যান্ট্রি ক্রেনের ক্যাবল ছিঁড়ে দুমড়ে মুচড়ে গেছে ট্রেইলার ও কন্টেইনার। মাটির মা ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কমিটি আহ্বায়ক মোঃ আলমগীর কবির আযাদ ও সদস্য সচিব মোঃ আলী আজম। 

রাজউকের তেলেসমাতি কারবার!

রেজিষ্টার অপ্রত্যহারযোগ্য আম-মোক্তার চুক্তিপত্র থাকার পরেও অন্য এক ব্যক্তির নামে প্লট হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছে রাজউক। নিকুজ্ঞ ক্লাব লি: কর্তৃক রাজউকে দাখিলকৃত অভিযোগ পত্র সুত্রে জানা যায়, নিকুজ্ঞস্থ কবি ফররুখ স্মরনীর ২১ নং প্লটটি বরাদ্দ প্রাপ্ত মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। উক্ত প্লটটি তিনি ডেভলপার দ্বারা (উন্নয়ন) করার জন্য নিকুজ্ঞ ক্লাব লি: এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং ২০১৪ সালে অপ্রত্যহারযোগ্য রেজি: আমমোক্তারনামা মুলে ৫০ লক্ষ টাকার সাইনিং মানিতে চুক্তিবদ্ধ হন এবং নগদ ২৮.৫০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী প্লটটি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বুঝাইয়া দেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ রাজউক কর্তৃক প্ল্যান পাশ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের কায্যকর্ম পরিচালনার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সাময়িক ভাবে একটি স্থাপনা নির্মান করেন।

পরবর্তী পর্য্যায়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মামলা জনিত সমস্যা নিষ্পত্তি হলে প্লট মালিক ক্লাবের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং রাজউকের কর্মচারী – কর্মকর্তাদের সহায়তায় নথি হতে নিকুঞ্জ ক্লাবের সকল চিঠিপত্র সরাইয়া প্লটটি অন্যত্র বিক্রির অনুমতিপত্র নিতে সক্ষম হন। বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানার পরে পুনরায় রাজউকে চিঠি দেয় এবং বিষয়টির তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়াসহ প্লট হস্তান্তরের অনুমতি পত্রটি বাতিলের অনুরোধ জানায়। সে প্রেক্ষিতে রাজউক উভয় পক্ষকে নিয়ে বিগত ০৯/০৬/২৬ ইং তারিখে সভা করে।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন মেম্বার এস্টেট , পরিচালক এস্টেট -১ সহ বাদী, বিবাদী পক্ষের লোকজন।

শুনানী ও মতামত গ্রহন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান এই মর্মে সিদ্ধান্ত দেন যে, (১) নিকুঞ্জ ক্লাবের চিঠি নথিতে না রাখার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং এ বিষয়ে় মেম্বার এস্টেটকে দায়িত্ব দেন। (২) প্লট জটিলতা সম্পর্কিত বিষয়টি উভয়ের মধ্যে ( বাদী- বিবাদী ) আলোচনা করে শেষ করতে নতুবা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে।

এছাড়া চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলীকে এ ধরনের হীনকাজ করার জন্য তীব্র ভাষায় নিন্দা জানান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নিকট হতে এ ধরনের প্রতারনা মুলক আচরণ আশা করেন না বলেও জানান।

পরবর্তী পর্যায়ে নিকুঞ্জ ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ তৃতীয় আদালতে প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে প্রণীত দলিলটি বাতিলসহ প্রতারণার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মামলা করেন যার নং ৫৮/২৬। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত হতে মোহাম্মদ আলী, জিয়াউর রহমান (প্লট গ্রহিতা) , রাজউকের চেযারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে ২০ দিনের মধো জবাব দিতে বলা হয়।

মামলার বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে রাজউককে বিগত ২৫/৬/২৬ তারিখে অবহিত করলেও রাজউক হতে জনৈক ফয়সাল ১৮/৭/২৬ ইং তারিখে নিকুঞ্জ ক্লাবে যেয়ে ক্লাবের আসবাব পত্র সরানোর জন্য নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবী, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট দলিল বাতিলের মামলা চলমান সেখানে কার স্বার্থে একটি সামাজিক ক্লাবকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? তাহলে টাকার কাছে কি রাজউক বিক্রি হচ্ছে?

উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ আলী প্লটটি বিক্রিকালে যে হলফনামা দিয়েছে সেখানে উল্লেখ করেছে আলোচ্য প্লটটির জন্য সে অন্য কোথাও চুক্তি করেন নি বা কাউকেও আমমোক্তার নিয়োগ করেন নি। এবং প্লটটি সম্পন্ন খালি ও তার দখলে। যা সর্বই অসত্য ও মিথ্যা । এখানেও মোহাম্মদ আলী ও দলিল লেখক প্রতারণার আশ্রয়় নিয়েছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর দাবী, জমির বর্তমান বাজার মুল্য ৫ কোটি টাকা হলেও দলিলে ৩০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে প্লট গ্রহিতা তার কালো টাকাকে সাদা করেছেন এবং সরকানকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্লট হস্তান্তর করেছেন বিধায় দলিলটি বাতিল যোগ্য এবং রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নিতে পারে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: স্পেনের সোনালি উত্থান, আর্জেন্টিনার অশ্রু, মেসির উত্তরাধিকার এবং ফুটবলের অনন্ত মহাকাব্য।

রাজউকের তেলেসমাতি কারবার!

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রেজিষ্টার অপ্রত্যহারযোগ্য আম-মোক্তার চুক্তিপত্র থাকার পরেও অন্য এক ব্যক্তির নামে প্লট হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছে রাজউক। নিকুজ্ঞ ক্লাব লি: কর্তৃক রাজউকে দাখিলকৃত অভিযোগ পত্র সুত্রে জানা যায়, নিকুজ্ঞস্থ কবি ফররুখ স্মরনীর ২১ নং প্লটটি বরাদ্দ প্রাপ্ত মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। উক্ত প্লটটি তিনি ডেভলপার দ্বারা (উন্নয়ন) করার জন্য নিকুজ্ঞ ক্লাব লি: এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং ২০১৪ সালে অপ্রত্যহারযোগ্য রেজি: আমমোক্তারনামা মুলে ৫০ লক্ষ টাকার সাইনিং মানিতে চুক্তিবদ্ধ হন এবং নগদ ২৮.৫০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী প্লটটি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বুঝাইয়া দেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ রাজউক কর্তৃক প্ল্যান পাশ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের কায্যকর্ম পরিচালনার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সাময়িক ভাবে একটি স্থাপনা নির্মান করেন।

পরবর্তী পর্য্যায়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মামলা জনিত সমস্যা নিষ্পত্তি হলে প্লট মালিক ক্লাবের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং রাজউকের কর্মচারী – কর্মকর্তাদের সহায়তায় নথি হতে নিকুঞ্জ ক্লাবের সকল চিঠিপত্র সরাইয়া প্লটটি অন্যত্র বিক্রির অনুমতিপত্র নিতে সক্ষম হন। বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানার পরে পুনরায় রাজউকে চিঠি দেয় এবং বিষয়টির তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়াসহ প্লট হস্তান্তরের অনুমতি পত্রটি বাতিলের অনুরোধ জানায়। সে প্রেক্ষিতে রাজউক উভয় পক্ষকে নিয়ে বিগত ০৯/০৬/২৬ ইং তারিখে সভা করে।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন মেম্বার এস্টেট , পরিচালক এস্টেট -১ সহ বাদী, বিবাদী পক্ষের লোকজন।

শুনানী ও মতামত গ্রহন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান এই মর্মে সিদ্ধান্ত দেন যে, (১) নিকুঞ্জ ক্লাবের চিঠি নথিতে না রাখার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং এ বিষয়ে় মেম্বার এস্টেটকে দায়িত্ব দেন। (২) প্লট জটিলতা সম্পর্কিত বিষয়টি উভয়ের মধ্যে ( বাদী- বিবাদী ) আলোচনা করে শেষ করতে নতুবা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে।

এছাড়া চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলীকে এ ধরনের হীনকাজ করার জন্য তীব্র ভাষায় নিন্দা জানান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নিকট হতে এ ধরনের প্রতারনা মুলক আচরণ আশা করেন না বলেও জানান।

পরবর্তী পর্যায়ে নিকুঞ্জ ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ তৃতীয় আদালতে প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে প্রণীত দলিলটি বাতিলসহ প্রতারণার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মামলা করেন যার নং ৫৮/২৬। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত হতে মোহাম্মদ আলী, জিয়াউর রহমান (প্লট গ্রহিতা) , রাজউকের চেযারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে ২০ দিনের মধো জবাব দিতে বলা হয়।

মামলার বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে রাজউককে বিগত ২৫/৬/২৬ তারিখে অবহিত করলেও রাজউক হতে জনৈক ফয়সাল ১৮/৭/২৬ ইং তারিখে নিকুঞ্জ ক্লাবে যেয়ে ক্লাবের আসবাব পত্র সরানোর জন্য নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবী, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট দলিল বাতিলের মামলা চলমান সেখানে কার স্বার্থে একটি সামাজিক ক্লাবকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? তাহলে টাকার কাছে কি রাজউক বিক্রি হচ্ছে?

উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ আলী প্লটটি বিক্রিকালে যে হলফনামা দিয়েছে সেখানে উল্লেখ করেছে আলোচ্য প্লটটির জন্য সে অন্য কোথাও চুক্তি করেন নি বা কাউকেও আমমোক্তার নিয়োগ করেন নি। এবং প্লটটি সম্পন্ন খালি ও তার দখলে। যা সর্বই অসত্য ও মিথ্যা । এখানেও মোহাম্মদ আলী ও দলিল লেখক প্রতারণার আশ্রয়় নিয়েছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর দাবী, জমির বর্তমান বাজার মুল্য ৫ কোটি টাকা হলেও দলিলে ৩০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে প্লট গ্রহিতা তার কালো টাকাকে সাদা করেছেন এবং সরকানকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্লট হস্তান্তর করেছেন বিধায় দলিলটি বাতিল যোগ্য এবং রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নিতে পারে।