ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ধামরাইয়ে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের মরদেহ উদ্ধার – আটক ২ গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও। “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গোপালগঞ্জ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষন”  কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার। বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের আয়োজনে “ওপেন হাউজ ডে” অনুষ্ঠিত ধামরাইয়ে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের মরদেহ উদ্ধার – আটক ২ কুমিল্লা দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকারে মিললো ১০০ কেজি গাঁজা, চালক পলাতক দিনাজপুরে ওয়ান শুটার ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ দুইজন আটক মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ৮২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। বাতিল ওয়াবিবাদি গোত্রবাদী সৌদি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দিবস ২৩শে সেপ্টেম্বর(১৯৩২)কে মহা প্রলয়ংকর আঁধার দিবস হিসেবে ঘোষনা আল্লামা ইমাম হায়াতের

গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও।

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

 

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বড় আকৃতির পুরনো আম গাছ কেটে ফেলা এবং তার মূল ডালপালা গায়েব হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দাপ্তরিক চিঠিতে ‘ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে নষ্ট হওয়া’র দাবি করা হলেও আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি। সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও ঘটনাটি নিয়ে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার মনগড়া আষাঢ়ে গল্পের অমিল জনমনে সৃষ্টি করছে সন্দেহ।

 

​গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মরিয়ম রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে(স্মারক নং:৩৩.০১.৭৭৭০.০০০.২৮.০০০.২৬-৩১৮) দাবি করা হয়, ১৯ আগস্ট ভোরবেলা প্রাকৃতিক ঝড়ে গাছটি স্বমূলে উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা পুকুরে পড়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। গাছটির অবশিষ্ট অংশ তালিকা ভুক্তি ও মূল্য নির্ধারণের জন্য সামাজিক বন বিভাগ, দিনাজপুরকে অনুরোধ জানানো হয়।

 

কিন্তু ​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বড় আকৃতির গাছটি টেন্ডারের আগেই বড় করাত দিয়ে কেটে খন্ড করা হয়েছে। কাটা গুঁড়ি(লগ) পড়ে থাকলেও ডালপালার কোনো চিহ্ন নেই।

 

​গাছটির ডালপালার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মরিয়ম রহমান দাবি করেন, ডালপালা কোথায় গেছে বা কে চুরি করেছে তা তিনি বলতে পারেন না, কারণ তাদের জনবল কম। তবে জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতো সুরক্ষিত একটি সরকারি দপ্তর থেকে এত বড় গাছের ডালপালা কীভাবে রাতারাতি চুরি হয়ে যায়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে, এ নিয়ে এত প্যাঁচানোর কী আছে?”

 

​তবে, তেঁতুলিয়া আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্যে সেদিন পুরো জেলার কোথাও ঝড় হয়েছিলো, এমন সত্যতা মেলেনি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ওই এলাকায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার, যা কোনোভাবেই একটি বড় গাছ ভেঙে ফেলার মতো বাতাস নয় বলে জানান তেতুলিয়া আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।

 

এদিকে ​দিনাজপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, তারা চিঠি পেয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছেন। তবে গাছের ডালপালা পঁচে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

 

পঞ্চগড় বাপা সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশাল আকৃতির একটি আমগাছ এবং তা রাতের আধারে ষড়যন্ত্র করে ডালপালা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়, পঞ্চগড় জেলা শহরের চুরি হওয়ার এমন নজির খুবই কম। “প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে আমাদের এই প্রাকৃতিক সম্পদ” উল্ল্যেখ করে, ঘটনার সুস্থ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

 

​জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম গাছ পড়ে যাওয়ার কারন হিসেবে ঝড়কে দায়ী করলেও, আবহাওয়া অফিসের তথ্যের সাথে অসঙ্গতি ও ডালপালা গায়েবের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং বিষয়টিকে ছোট ঘটনা আখ্যা দিয়ে এসব এড়িয়ে তাদের ভালো কাজের দিক তুলে ধরার পরামর্শ দেন সাংবাদিকদের।

 

ধারনা করা হয় ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রাঙ্গণে এসব বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো হয়েছিলো। বিশেষ কারন ছাড়া সরকারি চত্বরের গাছ কেটে ফেলা, এবং নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা থেকে ডালপালা নিমিষেই উধাও হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

আসাদুজ্জামান আপেল

পঞ্চগড়

২৩/০৯/২০২৬

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের মরদেহ উদ্ধার – আটক ২

গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও।

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও।

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

 

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বড় আকৃতির পুরনো আম গাছ কেটে ফেলা এবং তার মূল ডালপালা গায়েব হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দাপ্তরিক চিঠিতে ‘ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে নষ্ট হওয়া’র দাবি করা হলেও আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি। সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও ঘটনাটি নিয়ে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার মনগড়া আষাঢ়ে গল্পের অমিল জনমনে সৃষ্টি করছে সন্দেহ।

 

​গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মরিয়ম রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে(স্মারক নং:৩৩.০১.৭৭৭০.০০০.২৮.০০০.২৬-৩১৮) দাবি করা হয়, ১৯ আগস্ট ভোরবেলা প্রাকৃতিক ঝড়ে গাছটি স্বমূলে উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা পুকুরে পড়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। গাছটির অবশিষ্ট অংশ তালিকা ভুক্তি ও মূল্য নির্ধারণের জন্য সামাজিক বন বিভাগ, দিনাজপুরকে অনুরোধ জানানো হয়।

 

কিন্তু ​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বড় আকৃতির গাছটি টেন্ডারের আগেই বড় করাত দিয়ে কেটে খন্ড করা হয়েছে। কাটা গুঁড়ি(লগ) পড়ে থাকলেও ডালপালার কোনো চিহ্ন নেই।

 

​গাছটির ডালপালার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মরিয়ম রহমান দাবি করেন, ডালপালা কোথায় গেছে বা কে চুরি করেছে তা তিনি বলতে পারেন না, কারণ তাদের জনবল কম। তবে জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতো সুরক্ষিত একটি সরকারি দপ্তর থেকে এত বড় গাছের ডালপালা কীভাবে রাতারাতি চুরি হয়ে যায়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে, এ নিয়ে এত প্যাঁচানোর কী আছে?”

 

​তবে, তেঁতুলিয়া আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্যে সেদিন পুরো জেলার কোথাও ঝড় হয়েছিলো, এমন সত্যতা মেলেনি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ওই এলাকায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার, যা কোনোভাবেই একটি বড় গাছ ভেঙে ফেলার মতো বাতাস নয় বলে জানান তেতুলিয়া আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।

 

এদিকে ​দিনাজপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, তারা চিঠি পেয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছেন। তবে গাছের ডালপালা পঁচে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

 

পঞ্চগড় বাপা সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশাল আকৃতির একটি আমগাছ এবং তা রাতের আধারে ষড়যন্ত্র করে ডালপালা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়, পঞ্চগড় জেলা শহরের চুরি হওয়ার এমন নজির খুবই কম। “প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে আমাদের এই প্রাকৃতিক সম্পদ” উল্ল্যেখ করে, ঘটনার সুস্থ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

 

​জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম গাছ পড়ে যাওয়ার কারন হিসেবে ঝড়কে দায়ী করলেও, আবহাওয়া অফিসের তথ্যের সাথে অসঙ্গতি ও ডালপালা গায়েবের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং বিষয়টিকে ছোট ঘটনা আখ্যা দিয়ে এসব এড়িয়ে তাদের ভালো কাজের দিক তুলে ধরার পরামর্শ দেন সাংবাদিকদের।

 

ধারনা করা হয় ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রাঙ্গণে এসব বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো হয়েছিলো। বিশেষ কারন ছাড়া সরকারি চত্বরের গাছ কেটে ফেলা, এবং নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা থেকে ডালপালা নিমিষেই উধাও হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

আসাদুজ্জামান আপেল

পঞ্চগড়

২৩/০৯/২০২৬