ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • ৬৩০ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে বহুবিধ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ৩,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড্রেজার ও জলযান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির বিস্তৃতি এতটাই ব্যাপক যে, অভিযোগ রয়েছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শেখরের ‘খালাতো ভাই’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিআইডব্লিউটিএ-তে দাপট দেখিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও প্রকল্পের বিল বণ্টনে গড়ে তুলেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

ড্রেজার কেলেঙ্কারিতে কোটি টাকার হাতবদল

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেনা ড্রেজার ও যন্ত্রাংশ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ১১টি নিম্নমানের ড্রেজার আমদানির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে বিল অনুমোদন করেছেন আইয়ুব আলী। ওই ড্রেজারের একাধিকটি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এমনকি এক সময় ঠিকাদারদের মারধরের শিকারও হয়েছিলেন তিনি, তবুও তার দাপট কমেনি।

ঘুষ বাণিজ্য ও বৈদেশিক সম্পদ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী সরকারের পতনের দিন অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট, বুড়িগঙ্গার তীরে ৩০০ কোটি টাকার একটি নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে নেন এবং ওই দিনই ঘুষ হিসেবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দুই ছেলের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রেরণসহ লন্ডন ও নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার কোনো বিদেশি সম্পত্তি নেই। আমি একজন সৎ কর্মকর্তা।”

দুদকে একাধিক অভিযোগ, ব্যবস্থা অধরা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সূত্র জানায়, আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন একজন পরিচালক। তিনি বলেন, “সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এপিএস শেখরের প্রভাবেই আইয়ুব আলী রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ

বিআইডব্লিউটিএ’র অনেক সৎ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, আইয়ুব আলী দীর্ঘ ১৫ বছরে যে হারে প্রকল্প, যন্ত্রাংশ, টেন্ডার ও বিল বিভাজনের মাধ্যমে দুর্নীতি করেছেন, তা “সাগর চুরির” সঙ্গে তুলনীয়। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনানুগ পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

Tag :
About Author Information

Sanjib Das

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে বহুবিধ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ৩,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড্রেজার ও জলযান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির বিস্তৃতি এতটাই ব্যাপক যে, অভিযোগ রয়েছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শেখরের ‘খালাতো ভাই’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিআইডব্লিউটিএ-তে দাপট দেখিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও প্রকল্পের বিল বণ্টনে গড়ে তুলেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

ড্রেজার কেলেঙ্কারিতে কোটি টাকার হাতবদল

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেনা ড্রেজার ও যন্ত্রাংশ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ১১টি নিম্নমানের ড্রেজার আমদানির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে বিল অনুমোদন করেছেন আইয়ুব আলী। ওই ড্রেজারের একাধিকটি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এমনকি এক সময় ঠিকাদারদের মারধরের শিকারও হয়েছিলেন তিনি, তবুও তার দাপট কমেনি।

ঘুষ বাণিজ্য ও বৈদেশিক সম্পদ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী সরকারের পতনের দিন অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট, বুড়িগঙ্গার তীরে ৩০০ কোটি টাকার একটি নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে নেন এবং ওই দিনই ঘুষ হিসেবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দুই ছেলের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রেরণসহ লন্ডন ও নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার কোনো বিদেশি সম্পত্তি নেই। আমি একজন সৎ কর্মকর্তা।”

দুদকে একাধিক অভিযোগ, ব্যবস্থা অধরা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সূত্র জানায়, আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন একজন পরিচালক। তিনি বলেন, “সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এপিএস শেখরের প্রভাবেই আইয়ুব আলী রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ

বিআইডব্লিউটিএ’র অনেক সৎ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, আইয়ুব আলী দীর্ঘ ১৫ বছরে যে হারে প্রকল্প, যন্ত্রাংশ, টেন্ডার ও বিল বিভাজনের মাধ্যমে দুর্নীতি করেছেন, তা “সাগর চুরির” সঙ্গে তুলনীয়। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনানুগ পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা।