ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁও, রাঙিয়ে তোলা হয়েছে শহর। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব: দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও সমকালীন পৃথিবীতে কৃষ্ণের প্রাসঙ্গিকতা। ভাঙ্গার আলগীর ঝালডাঙ্গা বিলে শতাধিক নৌকার মহারণ, সেরা রাজৈরের ‘বৈতরণী’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের বার্তা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের জাগরণ- অপর্ণা রায় দাস। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এর কাজ শতভাগ আওয়ামী প্রতিষ্ঠানের দখলে! এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা! শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন আবুল কালাম আজাদ নজরুল বর্ষ ও আমাদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন: বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা ও উত্তরাধিকার। যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

বিটিসিএলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারি: ই-জিপির আড়ালে পছন্দের প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গোপন লেনদেনে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কপার ক্যাবল ও অপটিক্যাল ফাইবার লেইং কাজের জন্য তালিকাভুক্ত ১১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পছন্দের কিছু প্রতিষ্ঠানকে গোপনে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে তোলপাড় চলছে।

বিগত তিন বছর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে খুলনা, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে ই-জিপি চালু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ই-টেন্ডারের নামে টেন্ডারে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে আড়াল করে কিছু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে অধিকাংশ কাজ ভাগ করে দেয়া হয়।

খুলনা অঞ্চলের ৬টি টেন্ডারের মধ্যে আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ পায় ৪টি কাজ। বগুড়ার ৪টি টেন্ডারের মধ্যে পায় ২টি, আর রংপুরের ৩টি টেন্ডারের মধ্যে পায় আরও ২টি কাজ। অর্থাৎ, ১৩টি টেন্ডারের মধ্যে একই প্রতিষ্ঠান ৮টি কাজ পেয়েছে।
অন্যদিকে প্রডাক্ট প্লাস নামের একটি প্রতিষ্ঠান তিনটি অঞ্চলে একটি করে কাজ পেয়েছে যা সংশ্লিষ্টদের মতে দুর্নীতি ছাড়া সম্ভব নয়।

সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি বা ই-মেইলে অবহিত করার কথা থাকলেও কাউকেই জানানো হয়নি। অভিযোগ আছে, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গোপন বৈঠক করে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

খুলনা অঞ্চলের ডিজিএম তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ই-জিপিতে টেন্ডার হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হয়নি তবে কেন হঠাৎ ই-জিপি চালু করা হলো সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
বগুড়ার ডিজিএম দিপুল কুমার রায় ও রংপুরের ডিজিএম জগেন্দ্রনাথ রায়ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের কর্ণধারের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, তিনি ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান এবং যেকোনো উপায়ে কাজ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এ ধরনের জালিয়াতি বিটিসিএলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি জানিয়ে তারা বলছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত না করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Tag :
About Author Information

Milon Ahammed

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন।

বিটিসিএলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারি: ই-জিপির আড়ালে পছন্দের প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গোপন লেনদেনে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কপার ক্যাবল ও অপটিক্যাল ফাইবার লেইং কাজের জন্য তালিকাভুক্ত ১১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পছন্দের কিছু প্রতিষ্ঠানকে গোপনে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে তোলপাড় চলছে।

বিগত তিন বছর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে খুলনা, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে ই-জিপি চালু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ই-টেন্ডারের নামে টেন্ডারে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে আড়াল করে কিছু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে অধিকাংশ কাজ ভাগ করে দেয়া হয়।

খুলনা অঞ্চলের ৬টি টেন্ডারের মধ্যে আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ পায় ৪টি কাজ। বগুড়ার ৪টি টেন্ডারের মধ্যে পায় ২টি, আর রংপুরের ৩টি টেন্ডারের মধ্যে পায় আরও ২টি কাজ। অর্থাৎ, ১৩টি টেন্ডারের মধ্যে একই প্রতিষ্ঠান ৮টি কাজ পেয়েছে।
অন্যদিকে প্রডাক্ট প্লাস নামের একটি প্রতিষ্ঠান তিনটি অঞ্চলে একটি করে কাজ পেয়েছে যা সংশ্লিষ্টদের মতে দুর্নীতি ছাড়া সম্ভব নয়।

সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি বা ই-মেইলে অবহিত করার কথা থাকলেও কাউকেই জানানো হয়নি। অভিযোগ আছে, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গোপন বৈঠক করে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

খুলনা অঞ্চলের ডিজিএম তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ই-জিপিতে টেন্ডার হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হয়নি তবে কেন হঠাৎ ই-জিপি চালু করা হলো সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
বগুড়ার ডিজিএম দিপুল কুমার রায় ও রংপুরের ডিজিএম জগেন্দ্রনাথ রায়ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের কর্ণধারের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, তিনি ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান এবং যেকোনো উপায়ে কাজ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এ ধরনের জালিয়াতি বিটিসিএলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি জানিয়ে তারা বলছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত না করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।