ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নির্বাচন কমিশনের সতর্কবার্তা। সাবধান থাকার পরামর্শ। স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ।

দলীয় মনোনয়ন ঘিরে খুলনা বিএনপিতে ত্রিমাত্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণ ।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫০ জন সংবাদটি পড়েছেন
6

খুলনা মহানগর বিএনপির পুরোনো বিভেদে ঘি ঢেলেছে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ। খুলনা-২ আসনে এতদিন মনোনয়ন পেতে কাজ করছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন নগর সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও নগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নিজের পাল্লা ভারী করতে আলাদা বলয় করছেন তিন নেতা। তাদের পেছনে বিভক্ত মাঠের কর্মীরা।

খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন একসঙ্গে হেঁটেছেন মঞ্জু, মনা ও তুহিন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়ে মনাকে নগর কমিটির আহ্বায়ক ও তুহিনকে সদস্য সচিব করা হয়। প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলে মঞ্জুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে মঞ্জুর বিপরীতে চলছেন মনা-তুহিন। পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে দুপক্ষ। সম্প্রতি খুলনা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে বিভেদ তৈরি হয়েছে মনা ও তুহিনের মধ্যে।

গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে গণসংযোগ করছেন তুহিন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শুরু করেছেন মনা। মঞ্জু প্রচারে না নামলেও নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত সভা করছেন। তিন নেতার অনুসারীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

গত এপ্রিলে খুলনা-২ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন তুহিন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় নগরীর সবগুলো কেন্দ্রের সামনে তাঁবু টানিয়ে অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, দুর্গাপূজার সময় প্রতিটি মণ্ডপে অনুদান দেন। গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন তুহিন।

সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬ নং ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক সাংগঠনিক সভা এবং মহিলা দল নিয়ে সভা করেছেন তিনি। বর্তমান কমিটির ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা সঙ্গে থাকায় প্রস্তুতির দৌড়ে এগিয়ে তুহিন। তবে দলের মধ্যে থাকা তুহিনবিরোধী পক্ষও সংগঠিত হয়েছে। তারা মনাকে দলীয় প্রার্থী করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন।

এ ব্যাপরে তুহিন সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, বিগত দিনে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপদে-আপদে আমাকে পাশে পেয়েছে। তাদের অনুরোধে প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। বিএনপি সমর্থন দিলে প্রার্থী হব, না হলে যাকে দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করব।

এতদিন মনা কেসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। নতুন করে তিনিও খুলনা-২ আসনে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন তাঁর পক্ষে নগরীতে লিফলেট বিতরণ হয়েছে। গতকাল তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ করেন। মনা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত কমিটি যারা মানেনি, তার কাছে মনোনয়ন চাওয়া তাদের মানায় না। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। মাঠে কাজ শুরু করেছি, বাকি সিদ্ধান্ত দলের।

সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জু শুরু থেকেই নিজেকে দলের প্রার্থী দাবি করে আসছেন। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে তাঁর পৃথক কর্মী-সমর্থক রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন অনুসারীরা। মঞ্জু বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যে পরিষ্কার দল এবার সৎ, সাহসী ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।

নেতাকর্মীরা জানান, তিন নেতাই দলের জন্য নিবেদিত। কিন্তু বর্তমানে তাদের ত্রিমুখী অবস্থানে অনেকেই বিব্রত। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বিভক্তির কারণে বাড়ছে উত্তেজনা; সংঘাতের আশঙ্কা।

১৯৮৩ সালে রাজনীতি শুরু করা তুহিন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০২১ সাল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০৮ মামলা নিয়ে ৯ বার জেলে গেছেন তুহিন।

১৯৭৩ সালে মনা ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে জাগ যুবদলে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৮ বছর জেলা বিএনপি ও গত চার বছর নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মনার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন, জেলে গেছেন দুবার।

অন্যদিকে মঞ্জু ২৯ বছর খুলনা নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী দ্বিতীয় প্রার্থী তিনি। গত সাড়ে ১৫ বছরে ১৯ মামলা নিয়ে একবার জেল খেটেছেন মঞ্জু। ত্রিপাক্ষিক রাজনৈতিক প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি ও আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশনের সতর্কবার্তা। সাবধান থাকার পরামর্শ।

দলীয় মনোনয়ন ঘিরে খুলনা বিএনপিতে ত্রিমাত্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণ ।

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
6

খুলনা মহানগর বিএনপির পুরোনো বিভেদে ঘি ঢেলেছে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ। খুলনা-২ আসনে এতদিন মনোনয়ন পেতে কাজ করছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন নগর সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও নগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নিজের পাল্লা ভারী করতে আলাদা বলয় করছেন তিন নেতা। তাদের পেছনে বিভক্ত মাঠের কর্মীরা।

খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন একসঙ্গে হেঁটেছেন মঞ্জু, মনা ও তুহিন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়ে মনাকে নগর কমিটির আহ্বায়ক ও তুহিনকে সদস্য সচিব করা হয়। প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলে মঞ্জুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে মঞ্জুর বিপরীতে চলছেন মনা-তুহিন। পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে দুপক্ষ। সম্প্রতি খুলনা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে বিভেদ তৈরি হয়েছে মনা ও তুহিনের মধ্যে।

গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে গণসংযোগ করছেন তুহিন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শুরু করেছেন মনা। মঞ্জু প্রচারে না নামলেও নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত সভা করছেন। তিন নেতার অনুসারীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

গত এপ্রিলে খুলনা-২ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন তুহিন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় নগরীর সবগুলো কেন্দ্রের সামনে তাঁবু টানিয়ে অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, দুর্গাপূজার সময় প্রতিটি মণ্ডপে অনুদান দেন। গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন তুহিন।

সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬ নং ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক সাংগঠনিক সভা এবং মহিলা দল নিয়ে সভা করেছেন তিনি। বর্তমান কমিটির ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা সঙ্গে থাকায় প্রস্তুতির দৌড়ে এগিয়ে তুহিন। তবে দলের মধ্যে থাকা তুহিনবিরোধী পক্ষও সংগঠিত হয়েছে। তারা মনাকে দলীয় প্রার্থী করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন।

এ ব্যাপরে তুহিন সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, বিগত দিনে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপদে-আপদে আমাকে পাশে পেয়েছে। তাদের অনুরোধে প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। বিএনপি সমর্থন দিলে প্রার্থী হব, না হলে যাকে দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করব।

এতদিন মনা কেসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। নতুন করে তিনিও খুলনা-২ আসনে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন তাঁর পক্ষে নগরীতে লিফলেট বিতরণ হয়েছে। গতকাল তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ করেন। মনা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত কমিটি যারা মানেনি, তার কাছে মনোনয়ন চাওয়া তাদের মানায় না। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। মাঠে কাজ শুরু করেছি, বাকি সিদ্ধান্ত দলের।

সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জু শুরু থেকেই নিজেকে দলের প্রার্থী দাবি করে আসছেন। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে তাঁর পৃথক কর্মী-সমর্থক রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন অনুসারীরা। মঞ্জু বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যে পরিষ্কার দল এবার সৎ, সাহসী ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।

নেতাকর্মীরা জানান, তিন নেতাই দলের জন্য নিবেদিত। কিন্তু বর্তমানে তাদের ত্রিমুখী অবস্থানে অনেকেই বিব্রত। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বিভক্তির কারণে বাড়ছে উত্তেজনা; সংঘাতের আশঙ্কা।

১৯৮৩ সালে রাজনীতি শুরু করা তুহিন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০২১ সাল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০৮ মামলা নিয়ে ৯ বার জেলে গেছেন তুহিন।

১৯৭৩ সালে মনা ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে জাগ যুবদলে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৮ বছর জেলা বিএনপি ও গত চার বছর নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মনার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন, জেলে গেছেন দুবার।

অন্যদিকে মঞ্জু ২৯ বছর খুলনা নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী দ্বিতীয় প্রার্থী তিনি। গত সাড়ে ১৫ বছরে ১৯ মামলা নিয়ে একবার জেল খেটেছেন মঞ্জু। ত্রিপাক্ষিক রাজনৈতিক প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি ও আলোচনা সমালোচনার ঝড়।