ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

দুনীতিবাজ মাফিয়া মাসুদ এখন আলমডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা, সারের বাড়তি দামে ঝুকিতে আলমডাঙ্গা কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ২৭৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বহাল তবিয়তে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

৩২তম বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে আলমডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে যশোরের ঝিকরগাছায় কর্মরত থাকাকালীন মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে কৃষক ইমদাদুল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। তৎকালীন উপ-পরিচালক (যশোর) কর্তৃক তদন্তে মাসুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির

মাশরুম প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ: মাশরুম চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা কৃষকদের না দিয়ে ‘মেসার্স বাংলা এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

মডেল ইউনিয়ন প্রকল্পে অনিয়ম: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিনি মাত্র ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখান, বাকি টাকা নয়ছয় করা হয়।সাপ্তাহিক অধিবেশনে অনুপস্থিতি এবং রাজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর অস্তিত্ব না থাকার সত্যতাও তদন্তে উঠে আসে।

রাজনৈতিক ভোল পরিবর্তন ও অবৈধ সম্পদ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে বদলি হন।

৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজেকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় পদায়ন বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকারি দলীয় (বিএনপি) ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, যশোর বিমানবন্দর এলাকায় তার কোটি টাকার জমি ও বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি সবসময় তা অস্বীকার করে আসছেন।

ঝুঁকিতে আলমডাঙ্গার কৃষিখাত ।আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই সারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও সারের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিসের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

যশোরে দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দেওয়া হলো তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার কৃষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই ‘দুর্নীতিবাজ মাফিয়া’ কর্মকর্তার অপসারণ ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

দুনীতিবাজ মাফিয়া মাসুদ এখন আলমডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা, সারের বাড়তি দামে ঝুকিতে আলমডাঙ্গা কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন।

আপডেট সময় : ১২:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বহাল তবিয়তে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

৩২তম বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে আলমডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে যশোরের ঝিকরগাছায় কর্মরত থাকাকালীন মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে কৃষক ইমদাদুল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। তৎকালীন উপ-পরিচালক (যশোর) কর্তৃক তদন্তে মাসুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির

মাশরুম প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ: মাশরুম চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা কৃষকদের না দিয়ে ‘মেসার্স বাংলা এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

মডেল ইউনিয়ন প্রকল্পে অনিয়ম: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিনি মাত্র ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখান, বাকি টাকা নয়ছয় করা হয়।সাপ্তাহিক অধিবেশনে অনুপস্থিতি এবং রাজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর অস্তিত্ব না থাকার সত্যতাও তদন্তে উঠে আসে।

রাজনৈতিক ভোল পরিবর্তন ও অবৈধ সম্পদ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে বদলি হন।

৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজেকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় পদায়ন বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকারি দলীয় (বিএনপি) ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, যশোর বিমানবন্দর এলাকায় তার কোটি টাকার জমি ও বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি সবসময় তা অস্বীকার করে আসছেন।

ঝুঁকিতে আলমডাঙ্গার কৃষিখাত ।আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই সারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও সারের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিসের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

যশোরে দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দেওয়া হলো তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার কৃষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই ‘দুর্নীতিবাজ মাফিয়া’ কর্মকর্তার অপসারণ ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।