মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার সৃজনশীল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে , নর্থ ল্যান্ড স্কুল আন্ড কলেজে এবং সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে “ফ্রেন্ডস অফ লাইফ ব্লাড ডোনেশন” সংগঠনের আয়োজনে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (12 অক্টোবর) বিকেল সকাল 10 টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রায় হাজার এর কাছাকাছি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, নিজের রক্তের গ্রুপ জানা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিতে দ্রুত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তদানের উপকারিতা, জরুরি রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা: হালিমা খাতুন বলেন,“শিক্ষার্থীদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা শিক্ষার অংশ। এমন উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে সামাজিকভাবে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।”
ফ্রেন্ডস অফ লাইফ ব্লাড ডোনেশন সংগঠনের সাধারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (পঞ্চগড় শাখা) মো: জসীম আলী জানান,“বন্ধুরা সবাই একত্রিত, সমাজ করবো আলোকিত”—এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা কাজ করছি। পর্যায়ক্রমে দেবীগঞ্জ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরো জানান রক্ত বিষয়ে অনেক কিছু গুরুত্বপুর্ন তথ্য:
রক্তদান একটি মহৎ কাজ, যা একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে এবং একই সাথে দাতার শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরি হতে উৎসাহিত করে। রক্তদানের মাধ্যমে শরীরে লোহিত কণিকার প্রাণবন্ততা বাড়ে, নতুন রক্তকণিকা তৈরির হার বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিবার প্রায় ৬০০-৬৫০ ক্যালোরি পোড়ানো যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। রক্তদানের আগে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি পান করতে হবে এবং রক্তদানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে।
রক্তদানের উপকারিতা : জীবন বাঁচানো:আপনার দান করা রক্ত একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
শরীরকে উদ্দীপ্ত করে:রক্তদানের পর শরীরের ‘বোন ম্যারো’ নতুন রক্তকণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়, যা ২ সপ্তাহের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করে।
লোহিত কণিকার প্রাণবন্ততা বৃদ্ধি:বছরে ৩ বার রক্তদান করলে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়ে এবং নতুন কণিকা তৈরির হার বৃদ্ধি পায়।
ক্যালোরি পোড়ায়:রক্তদানের সময় শরীর প্রতিস্থাপনের জন্য কাজ করে এবং প্রতিবার প্রায় ৬০০-৬৫০ ক্যালোরি পোড়ায়।
রক্তদানের পূর্বে ও পরে
খাবার ও পানি:রক্তদানের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে পেট ভরে খাবার খেতে হবে এবং আধা লিটার পানি পান করতে হবে।
বিশ্রাম:রক্তদানের পর ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে।
তরল পানীয়:বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রচুর পানি, ফলের রস বা হারবাল চা পান করা উচিত।
কারা রক্ত দিতে পারবেন
বয়স:১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
স্বাস্থ্য:দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
ওজন:কমপক্ষে ৪৫ কেজি বা ১০০ পাউন্ড হতে হবে।
হৃদস্পন্দন:নাড়ির গতি প্রতি মিনিটে ৬০-১০০–এর মধ্যে থাকতে হবে।
দেহের তাপমাত্রা:স্বাভাবিক থাকতে হবে।
মনে রাখবেন,
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিবার ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দিতে পারেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।
রক্তদান একটি স্বেচ্ছাসেবী কাজ যা অনেক সংগঠন নিয়মিত পরিচালনা করে থাকে।
মোঃ লিমন আহম্মেদ 

















