ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বিয়ের আশ্বাসে সুন্দরী নারীর দেহভোগ: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদার রিটে হাইকোর্টের আদেশ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহা-পরিচালককে তলব। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে হাড়িভাসা ইউপির উদ্যোগ, ১৭ বিদ্যালয়ে ফ্লোর ম্যাট প্রদান। ডুমুরিয়ার আন্দুলিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ছানি রোগী বাছাই। ঠাকুরগাঁওয়ে সারের সিন্ডিকেটের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির দাবি। ফতুল্লায় শামীম ওসমানের আস্থাভাজন আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক গ্রেফতারে জনমনে স্বস্তি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন।

জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার উৎস কোথায়? দাপুটে জাহাঙ্গীর এখনো বহাল তবিয়তে গণপূর্তে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।

  • রোস্তম মল্লিক
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৪৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে | শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও | আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ |

 

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান | বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন |

 

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি | বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে | বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

 

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন |

এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে |

 

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই | তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে | অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় | কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে |

 

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএ তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন | অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল | তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালতকর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল | এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন | ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ |

 

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত |

 

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন | মামলাটির শুনানি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে | এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার , আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন | তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন | এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন |

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের আশ্বাসে সুন্দরী নারীর দেহভোগ: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার উৎস কোথায়? দাপুটে জাহাঙ্গীর এখনো বহাল তবিয়তে গণপূর্তে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে | শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও | আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ |

 

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান | বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন |

 

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি | বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে | বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

 

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন |

এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে |

 

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই | তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে | অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় | কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে |

 

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএ তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন | অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল | তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালতকর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল | এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন | ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ |

 

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত |

 

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন | মামলাটির শুনানি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে | এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার , আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন | তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন | এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন |