ভুয়া সরকারি পরিচয়পত্র ও চাকরির কার্ড তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে এক যুবককে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের রেকর্ডকিপার তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম একটি ভুয়া “অস্থায়ী পরিচয়পত্র” দেখিয়ে নিজেকে সরকারি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবি করেন। সেই পরিচয়পত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নাম, ভুয়া পরিচয়পত্র নম্বর, ইস্যু তারিখ এমনকি যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষরের উল্লেখ থাকলেও সেটি সম্পূর্ণ জাল বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি করে টাকা দেন বাবা। ভুক্তভোগী যুবকের পিতা আলিম বলেন, “আমার ছেলেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে তরিকুল ইসলাম দুই লাখ টাকা নেয়। সেই টাকা জোগাড় করতে আমার স্ত্রীর স্বর্ণ পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। এখন সে টাকা ফেরত দিচ্ছে না, নানা অজুহাত দেখাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, চাকরির প্রমাণ হিসেবে তার ছেলেকে একটি ভুয়া আইডি কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে হাসপাতালে কাজে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি অভিযুক্ত রেকর্ডকিপার নিজেও এখন হাসপাতালে নিয়মিত আসছেন না।
এ বিষয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. মহসিন ফকির বলেন, “রেকর্ডকিপার তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি ঠিকমতো ডিউটি করেন না, ফোন রিসিভ করেন না। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেকর্ডকিপার তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি টাকা নিয়েছি, এটা ঠিক। তবে আমি প্রতারণা করিনি। টাকা ফেরত দিয়ে দেবো, কয়েকদিন সময় লাগবে।” তবে তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ও চাকরির কার্ড তৈরির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের হাতে থাকা পরিচয়পত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড বা অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার গুরুতর অপরাধ বলে
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি 
















