ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের! অসীম ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম একসাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে।  বিআইডব্লিউটিএ’ র বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দেশের জ্বালানী ও অর্থনীতি সংকটেও বিআইডব্লিউটিএতে বিলাসী বনভোজনের নামে অর্থ ও জ্বালানি অপচয়ে মনোরঞ্জন।  বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ ‘চাক্তাই ডাইভারশন খালটি’ সংস্কার জরুরী। আমতলীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকারে, বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা। বাংলাদেশ সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক বর্ধিত সভা অনুষ্টিত। অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত। ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

টাঙ্গাইলে আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ বসন্তের বার্তা, ভালো ফলনের আশায় কৃষক।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই টাঙ্গাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার ১২টি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগানগুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

 

১২ উপজেলাতেই মুকুলের সমারোহ

জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী উপজেলা, ঘাটাইল উপজেলা, মধুপুর উপজেলা, ধনবাড়ী উপজেলা, ভূঞাপুর উপজেলা, গোপালপুর উপজেলা, বাসাইল উপজেলা, সখিপুর উপজেলা, নাগরপুর উপজেলা, দেলদুয়ার উপজেলা ও মির্জাপুর উপজেলা—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।

বিশেষ করে মধুপুর ও ঘাটাইলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদরের গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ এখন প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।

অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক

স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব

টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের!

টাঙ্গাইলে আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ বসন্তের বার্তা, ভালো ফলনের আশায় কৃষক।

আপডেট সময় : ০২:১২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই টাঙ্গাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার ১২টি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগানগুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

 

১২ উপজেলাতেই মুকুলের সমারোহ

জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী উপজেলা, ঘাটাইল উপজেলা, মধুপুর উপজেলা, ধনবাড়ী উপজেলা, ভূঞাপুর উপজেলা, গোপালপুর উপজেলা, বাসাইল উপজেলা, সখিপুর উপজেলা, নাগরপুর উপজেলা, দেলদুয়ার উপজেলা ও মির্জাপুর উপজেলা—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।

বিশেষ করে মধুপুর ও ঘাটাইলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদরের গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ এখন প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।

অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক

স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব

টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।