ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শিক্ষকের প্রতি সহিংসতা: একটি ভাইরাল ছবি নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের মূল্যবোধের আয়না। মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: ‘তথ্য সন্ত্রাস’ নাকি অনিয়মের অনুসন্ধান? নেপথ্যে কি পদ দখলের সমীকরণ ? কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭। সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার। কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা।

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪০ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকের প্রতি সহিংসতা: একটি ভাইরাল ছবি নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের মূল্যবোধের আয়না।

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।