ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮০ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।