ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল চাষে ডুমুরিয়ায় বিপ্লব: আড়াই বছরেই ফলন, বছরে মিলছে ৩৫০ নারকেল। কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দরে মাদক বিরোধী মানববন্ধন।  কুমিল্লা দাউদ কান্দিতে পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার। বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আল আমিন’কে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প কর্তৃক গ্রেফতার। বিদেশি সিগারেটসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার, ৩০ কার্টুন সিগারেট উদ্ধার। কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তায় নিম্ন মানের নির্মান সামগ্রী। ১৭ বছর যাবত যুবলীগ নেতা সাঈদ মীরের দখলে মাগুরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক মালিক গ্রুপের কর্তৃত্ব! জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা। ভাইরাল গান, ভাইরাল বিতর্ক: একজন শিক্ষকের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নাকি পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন? বিয়ের আশ্বাসে সুন্দরী নারীর দেহভোগ: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

দুনীতিবাজ মাফিয়া মাসুদ এখন আলমডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা, সারের বাড়তি দামে ঝুকিতে আলমডাঙ্গা কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ২০১ জন সংবাদটি পড়েছেন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বহাল তবিয়তে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

৩২তম বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে আলমডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে যশোরের ঝিকরগাছায় কর্মরত থাকাকালীন মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে কৃষক ইমদাদুল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। তৎকালীন উপ-পরিচালক (যশোর) কর্তৃক তদন্তে মাসুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির

মাশরুম প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ: মাশরুম চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা কৃষকদের না দিয়ে ‘মেসার্স বাংলা এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

মডেল ইউনিয়ন প্রকল্পে অনিয়ম: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিনি মাত্র ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখান, বাকি টাকা নয়ছয় করা হয়।সাপ্তাহিক অধিবেশনে অনুপস্থিতি এবং রাজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর অস্তিত্ব না থাকার সত্যতাও তদন্তে উঠে আসে।

রাজনৈতিক ভোল পরিবর্তন ও অবৈধ সম্পদ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে বদলি হন।

৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজেকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় পদায়ন বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকারি দলীয় (বিএনপি) ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, যশোর বিমানবন্দর এলাকায় তার কোটি টাকার জমি ও বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি সবসময় তা অস্বীকার করে আসছেন।

ঝুঁকিতে আলমডাঙ্গার কৃষিখাত ।আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই সারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও সারের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিসের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

যশোরে দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দেওয়া হলো তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার কৃষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই ‘দুর্নীতিবাজ মাফিয়া’ কর্মকর্তার অপসারণ ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল চাষে ডুমুরিয়ায় বিপ্লব: আড়াই বছরেই ফলন, বছরে মিলছে ৩৫০ নারকেল।

দুনীতিবাজ মাফিয়া মাসুদ এখন আলমডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা, সারের বাড়তি দামে ঝুকিতে আলমডাঙ্গা কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন।

আপডেট সময় : ১২:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বহাল তবিয়তে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

৩২তম বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে আলমডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকের উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে যশোরের ঝিকরগাছায় কর্মরত থাকাকালীন মাসুদ পলাশের বিরুদ্ধে কৃষক ইমদাদুল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। তৎকালীন উপ-পরিচালক (যশোর) কর্তৃক তদন্তে মাসুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির

মাশরুম প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ: মাশরুম চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা কৃষকদের না দিয়ে ‘মেসার্স বাংলা এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

মডেল ইউনিয়ন প্রকল্পে অনিয়ম: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিনি মাত্র ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখান, বাকি টাকা নয়ছয় করা হয়।সাপ্তাহিক অধিবেশনে অনুপস্থিতি এবং রাজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর অস্তিত্ব না থাকার সত্যতাও তদন্তে উঠে আসে।

রাজনৈতিক ভোল পরিবর্তন ও অবৈধ সম্পদ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে বদলি হন।

৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজেকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় পদায়ন বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকারি দলীয় (বিএনপি) ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, যশোর বিমানবন্দর এলাকায় তার কোটি টাকার জমি ও বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি সবসময় তা অস্বীকার করে আসছেন।

ঝুঁকিতে আলমডাঙ্গার কৃষিখাত ।আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই সারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও সারের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিসের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

যশোরে দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দেওয়া হলো তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার কৃষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই ‘দুর্নীতিবাজ মাফিয়া’ কর্মকর্তার অপসারণ ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।