ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের! অসীম ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম একসাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে।  বিআইডব্লিউটিএ’ র বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দেশের জ্বালানী ও অর্থনীতি সংকটেও বিআইডব্লিউটিএতে বিলাসী বনভোজনের নামে অর্থ ও জ্বালানি অপচয়ে মনোরঞ্জন।  বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”—মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাধীনতা পদক–২০২৬ ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ ‘চাক্তাই ডাইভারশন খালটি’ সংস্কার জরুরী। আমতলীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকারে, বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা। বাংলাদেশ সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক বর্ধিত সভা অনুষ্টিত। অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত। ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

পূজা চলাকালীন বোমা হামলা,পূজার থালা ভাসলো রক্তে। সনাতনী সম্প্রদায় শঙ্কায়!

কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় শনি দেবের পূজায় বোমা হামলা: সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের ওপর নির্মম আঘাত

কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় শনি দেবের পূজার মতো একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি মানবতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই বলছিলেন জনৈক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

আজ ( ৭ মার্চ,২৬) শনিবার কুমিল্লা জেলার ঠাকুরপড়ায় শনি ঠাকুরের পূজা চলাকালীন একদল দুর্বৃত্ত বোমা হামলা চালায়। মূহুর্তেই পূজার থালা রক্তে ভেসে যায়। পূজারী- পূজারিণী হতচকিত হয়ে পড়ে।

পূজা চলাকালীন মুহূর্তে হঠাৎ বোমা হা*ম*লার বিস্ফোরণে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্ত রক্তাক্ত ও গুরুতরভাবে জখম হন। যে ভোগের থালা ভক্তি ও প্রার্থনার প্রতীক হয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়েছিল, সেই ভোগের থালা মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিহ্ন। পূজাস্থলের পাশে থাকা পুরনো বটবৃক্ষের ডালপালাও আগুনের তাপে ঝলসে যায়—যেন সেই গাছটিও এই বর্বরতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

একটি স্বাধীন দেশে কেউ তার ধর্মীয় আচার পালন করতে গিয়ে যদি প্রাণভয়ে থাকতে বাধ্য হয়, তবে সেটি কেবল নিরাপত্তাহীনতারই প্রমাণ নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে একটি গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। বারবার একই ধরণের হামলা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার ঘটনা প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার এক ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বারবার আঘাতের শিকার হলেও তারা এই মাটিরই মানুষ, এই দেশেরই নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—প্রতিটি হামলার পর শুধু নিন্দা আর প্রতিশ্রুতির শব্দ শোনা যায়, অথচ অপরাধীরা অনেক সময়ই আইনের কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা বন্ধ না হলে এটি কেবল একটি সম্প্রদায়ের সংকট থাকবে না; এটি পুরো জাতির বিবেকের ওপর কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

কুমিল্লার এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংখ্যালঘুরা ভিক্ষা চায় না—তারা শুধু নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার চায়।এই দেশের মাটি, ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে তাদের অবদান সমানভাবে জড়িয়ে আছে।ন্যায়বিচার চাই। নিরাপত্তা চাই।এই দেশে সংখ্যালঘুরাও বাঁচতে চায় মাথা উঁচু করে- বলছিলেন ভক্তি রঞ্জন রায়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন সহ ৪ জনের নামে সাংবাদিকের মামলা দায়ের!

পূজা চলাকালীন বোমা হামলা,পূজার থালা ভাসলো রক্তে। সনাতনী সম্প্রদায় শঙ্কায়!

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় শনি দেবের পূজায় বোমা হামলা: সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের ওপর নির্মম আঘাত

কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় শনি দেবের পূজার মতো একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি মানবতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই বলছিলেন জনৈক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

আজ ( ৭ মার্চ,২৬) শনিবার কুমিল্লা জেলার ঠাকুরপড়ায় শনি ঠাকুরের পূজা চলাকালীন একদল দুর্বৃত্ত বোমা হামলা চালায়। মূহুর্তেই পূজার থালা রক্তে ভেসে যায়। পূজারী- পূজারিণী হতচকিত হয়ে পড়ে।

পূজা চলাকালীন মুহূর্তে হঠাৎ বোমা হা*ম*লার বিস্ফোরণে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্ত রক্তাক্ত ও গুরুতরভাবে জখম হন। যে ভোগের থালা ভক্তি ও প্রার্থনার প্রতীক হয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়েছিল, সেই ভোগের থালা মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিহ্ন। পূজাস্থলের পাশে থাকা পুরনো বটবৃক্ষের ডালপালাও আগুনের তাপে ঝলসে যায়—যেন সেই গাছটিও এই বর্বরতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

একটি স্বাধীন দেশে কেউ তার ধর্মীয় আচার পালন করতে গিয়ে যদি প্রাণভয়ে থাকতে বাধ্য হয়, তবে সেটি কেবল নিরাপত্তাহীনতারই প্রমাণ নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে একটি গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। বারবার একই ধরণের হামলা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার ঘটনা প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার এক ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বারবার আঘাতের শিকার হলেও তারা এই মাটিরই মানুষ, এই দেশেরই নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—প্রতিটি হামলার পর শুধু নিন্দা আর প্রতিশ্রুতির শব্দ শোনা যায়, অথচ অপরাধীরা অনেক সময়ই আইনের কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা বন্ধ না হলে এটি কেবল একটি সম্প্রদায়ের সংকট থাকবে না; এটি পুরো জাতির বিবেকের ওপর কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

কুমিল্লার এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংখ্যালঘুরা ভিক্ষা চায় না—তারা শুধু নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার চায়।এই দেশের মাটি, ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে তাদের অবদান সমানভাবে জড়িয়ে আছে।ন্যায়বিচার চাই। নিরাপত্তা চাই।এই দেশে সংখ্যালঘুরাও বাঁচতে চায় মাথা উঁচু করে- বলছিলেন ভক্তি রঞ্জন রায়।