ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: ‘তথ্য সন্ত্রাস’ নাকি অনিয়মের অনুসন্ধান? নেপথ্যে কি পদ দখলের সমীকরণ ? কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭। সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার। কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা।

পদ্মার ঢেউয়ে বিলীন ঈদ আনন্দ, আর কত লাশের মিছিল দেখবে বাংলাদেশ?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১১২ জন সংবাদটি পড়েছেন

২৬ মার্চ, ২০২৬ পদ্মার উত্তাল ঢেউ আজ শুধু জলরাশি নয়, বহন করছে এক অবুঝ শিশুর আর্তনাদ আর অসংখ্য পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের হাহাকার। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে বাস ছিটকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার চরম উদাসীনতার এক জীবন্ত দলিল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রাইয়ান এবং তার পরিবারের ট্র্যাজেডি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রতিটি ঈদযাত্রা কীভাবে আনন্দের পরিবর্তে ‘মৃত্যুর মিছিলে’ রূপ নিচ্ছে। যেখানে কতনা প্রাণ ঝরে যায়, সেখানে শোক জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলে জাতি।দুর্ঘটনার নেপথ্যে ও বর্তমান বাস্তবতা

দৌলতদিয়া ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি বাস পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে সুপারিশগুলো অনেক সময়ই আলোর মুখ দেখে না।অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন: দূরপাল্লার বাসগুলোতে অনেক সময় ক্লান্ত বা অনভিজ্ঞ চালক নিয়োগ করা হয়, যা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

ঘাটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা: পন্টুনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাসের চাকা আটকানোর পর্যাপ্ত প্রতিবন্ধক না থাকা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।যাত্রী সংখ্যা ও নিরাপত্তা: ৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মাঝপথে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এবং সঠিক মনিটরিং না থাকা বিপদের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি ও সুপারিশ,এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে কেবল শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ:

চালকদের কঠোর স্ক্রিনিং ও লাইসেন্স যাচাই: দূরপাল্লার যানে কোনোভাবেই অনভিজ্ঞ বা লাইসেন্সবিহীন চালক রাখা যাবে না। উৎসবের সময় চালকদের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করতে হবে যাতে ক্লান্তির কারণে দুর্ঘটনা না ঘটে।

ঘাট ও পন্টুনের নিরাপত্তা সংস্কার: দেশের প্রতিটি ফেরিঘাট ও পন্টুনে শক্তিশালী ‘সেফটি ব্যারিয়ার’ স্থাপন করতে হবে। পন্টুনের ঢালু অংশ এবং পিচ্ছিল ভাব দূর করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো এবং বাসের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর নজরদারি আরও জোরালো করা প্রয়োজন।দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বা ‘রুস্তম’ পৌঁছাতে যেন দীর্ঘ সময় ব্যয় না হয়, সে জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উদ্ধারকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা ও বিচার: প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি বা সংস্থাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করতে সাহস না পায়।

উপসংহার,রাইয়ানের মায়ের নিথর দেহ আর সেই ছোট্ট শিশুটির “মা কোথায়?”এই আর্তনাদ যেন আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলছে। আমরা চাই না আর কোনো সন্তান তার মায়ের হাত এভাবে হারিয়ে ফেলুক। প্রশাসন এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমাদের বিনীত দাবি—সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখুন। সড়ক, রেল বা নৌপথ যেন আর কারো শোকের কারণ না হয়, বরং তা যেন হয় নিরাপদ মিলনের সেতু।

আল্লাহ এই শোকাবহ পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করুন এবং নিখোঁজদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার তৌফিক দিন

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী।

পদ্মার ঢেউয়ে বিলীন ঈদ আনন্দ, আর কত লাশের মিছিল দেখবে বাংলাদেশ?

আপডেট সময় : ১১:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

২৬ মার্চ, ২০২৬ পদ্মার উত্তাল ঢেউ আজ শুধু জলরাশি নয়, বহন করছে এক অবুঝ শিশুর আর্তনাদ আর অসংখ্য পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের হাহাকার। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে বাস ছিটকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার চরম উদাসীনতার এক জীবন্ত দলিল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রাইয়ান এবং তার পরিবারের ট্র্যাজেডি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রতিটি ঈদযাত্রা কীভাবে আনন্দের পরিবর্তে ‘মৃত্যুর মিছিলে’ রূপ নিচ্ছে। যেখানে কতনা প্রাণ ঝরে যায়, সেখানে শোক জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলে জাতি।দুর্ঘটনার নেপথ্যে ও বর্তমান বাস্তবতা

দৌলতদিয়া ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি বাস পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে সুপারিশগুলো অনেক সময়ই আলোর মুখ দেখে না।অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন: দূরপাল্লার বাসগুলোতে অনেক সময় ক্লান্ত বা অনভিজ্ঞ চালক নিয়োগ করা হয়, যা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

ঘাটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা: পন্টুনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাসের চাকা আটকানোর পর্যাপ্ত প্রতিবন্ধক না থাকা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।যাত্রী সংখ্যা ও নিরাপত্তা: ৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মাঝপথে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এবং সঠিক মনিটরিং না থাকা বিপদের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি ও সুপারিশ,এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে কেবল শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ:

চালকদের কঠোর স্ক্রিনিং ও লাইসেন্স যাচাই: দূরপাল্লার যানে কোনোভাবেই অনভিজ্ঞ বা লাইসেন্সবিহীন চালক রাখা যাবে না। উৎসবের সময় চালকদের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করতে হবে যাতে ক্লান্তির কারণে দুর্ঘটনা না ঘটে।

ঘাট ও পন্টুনের নিরাপত্তা সংস্কার: দেশের প্রতিটি ফেরিঘাট ও পন্টুনে শক্তিশালী ‘সেফটি ব্যারিয়ার’ স্থাপন করতে হবে। পন্টুনের ঢালু অংশ এবং পিচ্ছিল ভাব দূর করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো এবং বাসের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর নজরদারি আরও জোরালো করা প্রয়োজন।দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বা ‘রুস্তম’ পৌঁছাতে যেন দীর্ঘ সময় ব্যয় না হয়, সে জন্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উদ্ধারকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা ও বিচার: প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি বা সংস্থাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করতে সাহস না পায়।

উপসংহার,রাইয়ানের মায়ের নিথর দেহ আর সেই ছোট্ট শিশুটির “মা কোথায়?”এই আর্তনাদ যেন আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলছে। আমরা চাই না আর কোনো সন্তান তার মায়ের হাত এভাবে হারিয়ে ফেলুক। প্রশাসন এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমাদের বিনীত দাবি—সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখুন। সড়ক, রেল বা নৌপথ যেন আর কারো শোকের কারণ না হয়, বরং তা যেন হয় নিরাপদ মিলনের সেতু।

আল্লাহ এই শোকাবহ পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করুন এবং নিখোঁজদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার তৌফিক দিন