ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: ‘তথ্য সন্ত্রাস’ নাকি অনিয়মের অনুসন্ধান? নেপথ্যে কি পদ দখলের সমীকরণ ? কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭। সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার। কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার-৫। বীরগঞ্জে বাসাবাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মহিলাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন। হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন। রথযাত্রা: ইতিহাস, সনাতন সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবমুক্তির চিরন্তন বার্তা। হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা।

পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা: পিছিয়ে পড়ছে নওমুসলিমগণ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা জোরালো ভাবে চল্লেও বিভিন্ন ধর্ম থেকে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা নওমুসলিমরা পিছিয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। বুধবার ১৮ মে ২০২৬ তারিখ খাগড়াছড়ি জেলা রামগড়ে নওমুসলিমদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ কালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, খ্রিস্টান মিশনারি এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মাঝে দান/অনুদান প্রদান করে এবং লোভ-লালসা দেখিয়ে পাহাড়ের সহজসরল মানুষদের ধর্মান্তিত করাচ্ছে। যেন দীর্ঘ মেয়াদি সময়ে অত্র অঞ্চলপ একটি স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন করা যায়। খ্রিস্টান মিশনারি গুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসী সশস্ত্র সংগঠন গুলো কে দিয়ে নওমুসলিম, স্থানীয় মুসলিম এবং স্থানীয় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর মানুষকে অত্র অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই সব অপকৌশলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের করণীয় কী? আর কীভাবে ইসলাম ও মুসলিম এবং বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের এই মারাত্মক চক্রান্তের মুকাবিলা করা যাবে? কি ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নওমুসলিমদের তাদের জুলুম ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করা যাবে তা সরকার এবং সচেতন নাগরিকদের ঠিক করতে হবে। নিশ্চয় এ দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বড়, আর তা সকল মুসলিমের উপর সমভাবে আবর্তিত। এককভাবে হোক কিংবা সংঘবদ্ধভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে হোক কিংবা গোষ্ঠীগতভাবে। দেশের প্রতিটি মুসলিম ও দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর উপরই এ দায়িত্ব পতিত। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি মুসলিম, বৌদ্ধ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই খ্রিস্টান মিশনারি গুলোর বিষাক্ত টার্গেটের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ, নওমুসলিম সহ সকল মুসলমান ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন।

সভাপতি বক্তব্যে মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদের মুসলমানদের জন্য অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দিনটি আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য বড়ই আনন্দের এবং খুশির দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামের নওমুসলিমরা দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করায় এবং ভিন্ন ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে নিজ জাতিগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হতদরিদ্রের জন্য সহযোগিতা প্রদান করা হলেও পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো উপজাতিদের হাতে থাকায় নওমুসলিমগণ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নওমুসলিমদের প্রতি সাহার্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি। সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর উদ্যোগে নওমুসলিমদের ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে বরাবরের মতো এবারও ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে নওমুসলিম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হক, আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রবিউল ইসলাম লাদেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া,শিক্ষাবিদ মরিয়ম বেগম, নওমুসলিম কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও সম্পাদক মোঃ জুয়েল হোসেন, প্রমুখ।

ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল, চাউল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, নুডুলস, চিনি, লাচ্চা সেমাই, বাংলা সেমাই, নারিকেল, বাদাম, দুধ সহ ১৩ ধরনের খাদ্য সামগ্রী।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাননীয় সংসদ সদস্য ৩২-গাইবান্ধা ৪- গোবিন্দগঞ্জ ড. মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন কে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান গাইবান্ধাবাসী।

পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা: পিছিয়ে পড়ছে নওমুসলিমগণ।

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা জোরালো ভাবে চল্লেও বিভিন্ন ধর্ম থেকে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা নওমুসলিমরা পিছিয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। বুধবার ১৮ মে ২০২৬ তারিখ খাগড়াছড়ি জেলা রামগড়ে নওমুসলিমদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ কালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, খ্রিস্টান মিশনারি এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মাঝে দান/অনুদান প্রদান করে এবং লোভ-লালসা দেখিয়ে পাহাড়ের সহজসরল মানুষদের ধর্মান্তিত করাচ্ছে। যেন দীর্ঘ মেয়াদি সময়ে অত্র অঞ্চলপ একটি স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন করা যায়। খ্রিস্টান মিশনারি গুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসী সশস্ত্র সংগঠন গুলো কে দিয়ে নওমুসলিম, স্থানীয় মুসলিম এবং স্থানীয় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর মানুষকে অত্র অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই সব অপকৌশলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের করণীয় কী? আর কীভাবে ইসলাম ও মুসলিম এবং বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের এই মারাত্মক চক্রান্তের মুকাবিলা করা যাবে? কি ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নওমুসলিমদের তাদের জুলুম ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করা যাবে তা সরকার এবং সচেতন নাগরিকদের ঠিক করতে হবে। নিশ্চয় এ দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বড়, আর তা সকল মুসলিমের উপর সমভাবে আবর্তিত। এককভাবে হোক কিংবা সংঘবদ্ধভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে হোক কিংবা গোষ্ঠীগতভাবে। দেশের প্রতিটি মুসলিম ও দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর উপরই এ দায়িত্ব পতিত। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি মুসলিম, বৌদ্ধ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই খ্রিস্টান মিশনারি গুলোর বিষাক্ত টার্গেটের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ, নওমুসলিম সহ সকল মুসলমান ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন।

সভাপতি বক্তব্যে মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদের মুসলমানদের জন্য অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দিনটি আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য বড়ই আনন্দের এবং খুশির দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামের নওমুসলিমরা দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করায় এবং ভিন্ন ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে নিজ জাতিগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হতদরিদ্রের জন্য সহযোগিতা প্রদান করা হলেও পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো উপজাতিদের হাতে থাকায় নওমুসলিমগণ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নওমুসলিমদের প্রতি সাহার্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি। সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর উদ্যোগে নওমুসলিমদের ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে বরাবরের মতো এবারও ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে নওমুসলিম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হক, আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রবিউল ইসলাম লাদেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া,শিক্ষাবিদ মরিয়ম বেগম, নওমুসলিম কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও সম্পাদক মোঃ জুয়েল হোসেন, প্রমুখ।

ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল, চাউল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, নুডুলস, চিনি, লাচ্চা সেমাই, বাংলা সেমাই, নারিকেল, বাদাম, দুধ সহ ১৩ ধরনের খাদ্য সামগ্রী।