ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মধুপুরের জলছত্র হরিসভা মন্দিরে চুরি। নরসিংদীতে তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে জব ফেয়ার উদ্বোধন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ। মাদারীপুরের রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা। বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিমের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য ফাঁস!  বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল: একজন দলীয় নেতার সামনে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পরীক্ষা। শিক্ষার্থী ফেল করেনি, ফেল করেছে বাংলাদেশ। পরীক্ষার ফলাফলের আয়নায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকি, হয়রানি ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ,কুড়িগ্রাম থানায় প্রথম টিভির চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ। মিটফোর্ডের সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতপাত বিলোপ জোটের আয়োজনে মানববন্ধন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ: ফ্যাসিবাদের দোসর মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন এর গ্রাসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর!

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বিতর্কিত কান্ড। চুম্বনরত নারীর ছবি ঘিরে উত্তেজনা, চাপের মুখে অনুসন্ধান।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০০ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক উপ-পরিচালক আব্দুস সালামকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। নারীসংক্রান্ত অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণার অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী দাবি করেছেন, এসব সম্পর্কের মাধ্যমে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, এই অভিযোগগুলোর পক্ষে কিছু ছবি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে এসব উপাদানের স্বতন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি—যা পুরো বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

হোটেল-রিসোর্টে যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন : বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি, তথাপি অভিযোগের ধারাবাহিকতা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা ? অভিযোগ হুমকি ও হয়রানির অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তার হয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন শ্রমিক দলের কথিত এক নেতা জাকারিয়া, যিনি পল্টন এলাকার একটি অফিস থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, জাকারিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং কেন এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের “ব্ল্যাকমেইলার” ও “চাঁদাবাজ” বলে আখ্যা দেন।

এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা, বারবার ফোন করে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টিকে অনেকেই স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি চাপ ও ভীতির পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

গুরুতর অভিযোগের মুখে আব্দুস সালামের নীরবতা এবং তার পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসী অবস্থান নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে তা খণ্ডন করা।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে : প্রশাসনিক নৈতিকতা ও জনআস্থার প্রশ্নে এমন অভিযোগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই বিতর্কের কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব নয়। এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কি সত্য ? নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র?

যে কোনো উত্তরই হোক, সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বা তথ্য গোপন রেখে সত্য চাপা দেওয়া সম্ভব নয়। জনস্বার্থে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরের জলছত্র হরিসভা মন্দিরে চুরি।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বিতর্কিত কান্ড। চুম্বনরত নারীর ছবি ঘিরে উত্তেজনা, চাপের মুখে অনুসন্ধান।

আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক উপ-পরিচালক আব্দুস সালামকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। নারীসংক্রান্ত অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণার অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী দাবি করেছেন, এসব সম্পর্কের মাধ্যমে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, এই অভিযোগগুলোর পক্ষে কিছু ছবি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে এসব উপাদানের স্বতন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি—যা পুরো বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

হোটেল-রিসোর্টে যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন : বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি, তথাপি অভিযোগের ধারাবাহিকতা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা ? অভিযোগ হুমকি ও হয়রানির অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তার হয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন শ্রমিক দলের কথিত এক নেতা জাকারিয়া, যিনি পল্টন এলাকার একটি অফিস থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, জাকারিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং কেন এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের “ব্ল্যাকমেইলার” ও “চাঁদাবাজ” বলে আখ্যা দেন।

এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা, বারবার ফোন করে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টিকে অনেকেই স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি চাপ ও ভীতির পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

গুরুতর অভিযোগের মুখে আব্দুস সালামের নীরবতা এবং তার পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসী অবস্থান নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে তা খণ্ডন করা।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে : প্রশাসনিক নৈতিকতা ও জনআস্থার প্রশ্নে এমন অভিযোগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই বিতর্কের কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব নয়। এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কি সত্য ? নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র?

যে কোনো উত্তরই হোক, সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বা তথ্য গোপন রেখে সত্য চাপা দেওয়া সম্ভব নয়। জনস্বার্থে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি।