ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ : কর্মকর্তাদের পক্ষে তিন সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ, নরসিংদী কারাগার প্রকল্পের চুক্তি বাতিল ঘিরে নতুন আলোচনা ‎ গোপালগঞ্জের হিন্দু যুবকের প্রেমে টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী মহারাজপুর হাজির ‎ খুলনায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা ‎ যেখানে-সেখানে ময়লা নয়, শহরকে নিজের ঘরের মতো ভালোবাসার আহ্বান সুনামগঞ্জে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশায় নতুন নম্বর প্লেট প্রদানের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মালিক শ্রমিক সমবায় পরিষদ গোপালগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, হেলপার নিহত ফজলুল হক মিলন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ‎নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গাজীপুর-৫ বাসীর অভিনন্দন মুন্সীগঞ্জের হোগলাকান্দিতে ডিবির অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জের সকল থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ পুলিশি অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ মোট ৭১ জন আসামী গ্রেফতার। নেত্রকোনায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হাতে বাবা খুন

বন বিভাগের সরকারি জমি বিক্রি ও নেপথ্যে আমিন ভাঙ্গারি চক্র, প্রশাসন নির্বিকার।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংরক্ষিত বনের জায়গা দখল করে নন-জ্যুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও জাল দলিলের মাধ্যমে প্রকাশ্যে কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় ‘ভাঙ্গারি আমিন’ নামে এক ব্যক্তির নাম। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

 

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিটের ভলূয়া গ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকায় বনের জমি দখল করে সেখানে ঘর, মার্কেট ও প্লট তৈরি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আমিন ভাঙ্গারি ও তার চক্র ৩০০ টাকার নন-জ্যুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এসব সরকারি জমি সাধারণ মানুষের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন। এমনকি বনের জায়গা বন্ধক রাখা এবং কিস্তিতে বিক্রির মতো অভিনব প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আমিন নিজেই এসব স্ট্যাম্পে দলিল লেখক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌচাক ইউনিটের সংরক্ষিত এলাকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভূমি এখন ভূমিদস্যুদের দখলে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের এই বনভূমি উদ্ধারে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন বা বন বিভাগের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। যখনই দখলদারিত্বের বিষয়টি সামনে আসে, তখনই রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভলূয়া গ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকায় আমিন ভাঙ্গারির বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবার চললেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এবং দেশের বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌচাক ইউনিট বন কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমরা আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি এবং সেই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে লোকবল সংকট ও স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় এসব ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংরক্ষিত বনের জমি যেখানে হস্তান্তরযোগ্য নয়, সেখানে কীভাবে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে এই ভূমিদস্যু চক্রকে আইনের আওতায় এনে সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হোক।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ : কর্মকর্তাদের পক্ষে তিন সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ, নরসিংদী কারাগার প্রকল্পের চুক্তি বাতিল ঘিরে নতুন আলোচনা ‎

বন বিভাগের সরকারি জমি বিক্রি ও নেপথ্যে আমিন ভাঙ্গারি চক্র, প্রশাসন নির্বিকার।

আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংরক্ষিত বনের জায়গা দখল করে নন-জ্যুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও জাল দলিলের মাধ্যমে প্রকাশ্যে কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় ‘ভাঙ্গারি আমিন’ নামে এক ব্যক্তির নাম। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

 

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিটের ভলূয়া গ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকায় বনের জমি দখল করে সেখানে ঘর, মার্কেট ও প্লট তৈরি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আমিন ভাঙ্গারি ও তার চক্র ৩০০ টাকার নন-জ্যুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এসব সরকারি জমি সাধারণ মানুষের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন। এমনকি বনের জায়গা বন্ধক রাখা এবং কিস্তিতে বিক্রির মতো অভিনব প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আমিন নিজেই এসব স্ট্যাম্পে দলিল লেখক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌচাক ইউনিটের সংরক্ষিত এলাকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভূমি এখন ভূমিদস্যুদের দখলে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের এই বনভূমি উদ্ধারে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন বা বন বিভাগের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। যখনই দখলদারিত্বের বিষয়টি সামনে আসে, তখনই রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভলূয়া গ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকায় আমিন ভাঙ্গারির বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবার চললেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এবং দেশের বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌচাক ইউনিট বন কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমরা আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি এবং সেই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে লোকবল সংকট ও স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় এসব ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংরক্ষিত বনের জমি যেখানে হস্তান্তরযোগ্য নয়, সেখানে কীভাবে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে এই ভূমিদস্যু চক্রকে আইনের আওতায় এনে সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হোক।