ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ভাইরাল গান, ভাইরাল বিতর্ক: একজন শিক্ষকের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নাকি পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন? বিয়ের আশ্বাসে সুন্দরী নারীর দেহভোগ: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদার রিটে হাইকোর্টের আদেশ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহা-পরিচালককে তলব। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে হাড়িভাসা ইউপির উদ্যোগ, ১৭ বিদ্যালয়ে ফ্লোর ম্যাট প্রদান। ডুমুরিয়ার আন্দুলিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ছানি রোগী বাছাই। ঠাকুরগাঁওয়ে সারের সিন্ডিকেটের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির দাবি। ফতুল্লায় শামীম ওসমানের আস্থাভাজন আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক গ্রেফতারে জনমনে স্বস্তি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন।

কক্সবাজারে এটিএসআই ফরহাদের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ।

 

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত এটিএসআই ফরহাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে তার অমানবিক আচরণ এবং রোগী নামানোর পরপরই গাড়ি জব্দ করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন প্রয়োগের নামে এই ধরণের “হয়রানি” সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায় , কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় এটিএসআই ফরহাদ জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনের গতিরোধ করছেন। যদিও মানবিক দিক বিবেচনায় জরুরি রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অলিখিত নিয়ম রয়েছে, তবে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে রোগী বহনকারী গাড়িগুলোকে ছাড় না দিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, রোগী যখন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেমে যান, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই গাড়িটিকে আইনের বিভিন্ন মারপ্যাঁচে ফেলে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চালক বা রোগীর স্বজনরা অনুরোধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত করেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, আমার মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নামানোর সাথে সাথেই এটিএসআই ফরহাদ গাড়ির চাবি কেড়ে নেন। রোগীকে ভেতরে নেওয়া পর্যন্তও তিনি অপেক্ষা করেননি। তার এমন মারমুখী ও রূঢ় আচরণে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।অন্য এক চালক অভিযোগ করেন, জরুরি রোগী থাকায় আমরা দ্রুত আসার চেষ্টা করি। কিন্তু রোগী নামানোর পর কোনো কথা না শুনেই গাড়িটি রিকুইজিশন বা যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এটি আইন রক্ষা নয়, বরং স্পষ্ট হয়রানি।

এটিএসআই ফরহাদের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পর্যটন শহর হওয়ায় এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্যের এমন অপেশাদার আচরণে পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে তার কথা বলার ভঙ্গি এবং সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে এই বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, ট্রাফিক আইন অবশ্যই পালনীয়, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। জরুরি রোগী সেবার ক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিষয়ে এটিএসআই ফরহাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইরাল গান, ভাইরাল বিতর্ক: একজন শিক্ষকের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নাকি পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন?

কক্সবাজারে এটিএসআই ফরহাদের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ।

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

 

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত এটিএসআই ফরহাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে তার অমানবিক আচরণ এবং রোগী নামানোর পরপরই গাড়ি জব্দ করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন প্রয়োগের নামে এই ধরণের “হয়রানি” সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায় , কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় এটিএসআই ফরহাদ জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনের গতিরোধ করছেন। যদিও মানবিক দিক বিবেচনায় জরুরি রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অলিখিত নিয়ম রয়েছে, তবে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে রোগী বহনকারী গাড়িগুলোকে ছাড় না দিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, রোগী যখন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেমে যান, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই গাড়িটিকে আইনের বিভিন্ন মারপ্যাঁচে ফেলে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চালক বা রোগীর স্বজনরা অনুরোধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত করেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, আমার মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নামানোর সাথে সাথেই এটিএসআই ফরহাদ গাড়ির চাবি কেড়ে নেন। রোগীকে ভেতরে নেওয়া পর্যন্তও তিনি অপেক্ষা করেননি। তার এমন মারমুখী ও রূঢ় আচরণে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।অন্য এক চালক অভিযোগ করেন, জরুরি রোগী থাকায় আমরা দ্রুত আসার চেষ্টা করি। কিন্তু রোগী নামানোর পর কোনো কথা না শুনেই গাড়িটি রিকুইজিশন বা যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এটি আইন রক্ষা নয়, বরং স্পষ্ট হয়রানি।

এটিএসআই ফরহাদের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পর্যটন শহর হওয়ায় এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্যের এমন অপেশাদার আচরণে পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে তার কথা বলার ভঙ্গি এবং সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে এই বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, ট্রাফিক আইন অবশ্যই পালনীয়, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। জরুরি রোগী সেবার ক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিষয়ে এটিএসআই ফরহাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।