ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ঝালকাঠিতে সবার একটাই প্রশ্ন,আওয়ামী নেতা ও আমির হোসেন আমু’র ডোনার জর্দা মনু গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজল সম্পাদক রিজভী নির্বাচিত। দক্ষিণ বঙ্গসহ গোটা মাদারীপুরে বইছে আনন্দের বন্যা। মহিলা হুইপ হিসেবে অভিষিক্ত হতে পারেন হেলেন জেরিন খান। মাদারীপুরে বসতবাড়ির দরজা ভেঙে শিশুসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার। দিনাজপুরে ২০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন। তিনটি পিকআপ গাড়ি সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার। “ঘুষের টাকায় পদোন্নতির নীলনকশা!” — বিচারাধীন মামলা গোপন করে অবৈধ সুপারিশে গণপূর্তের সারওয়ার জাহান বিপ্লব!  চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ কর্মকর্তা বদলি। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র। চট্টগ্রামে ১৯ মে থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা।

“ঘুষের টাকায় পদোন্নতির নীলনকশা!” — বিচারাধীন মামলা গোপন করে অবৈধ সুপারিশে গণপূর্তের সারওয়ার জাহান বিপ্লব! 

 

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিতর্ক এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি চাকরি বিধি, উচ্চ আদালতের বিচারাধীন মামলা এবং প্রশাসনিক নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তৃতীয় পক্ষের হয়ে অবৈধ পদোন্নতির সুপারিশ তৈরির অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মোহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পাইয়ে দিতে মন্ত্রণালয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতামত পাঠানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারি করা স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.০০০.১৩০.১৯.০০১৭.১৮(অংশ-১)-৩৮৯; তারিখ: ১০ মে ২০২৬ অনুযায়ী, বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ই/এম অংশের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে ওঠা আপত্তির বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট মতামত চাওয়া হয়। কারণ, ২৭, ২৮ ও ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন—সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া কিছু কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে ৫ম গ্রেডের ঊর্ধ্বে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু এর আগেই ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্মারক নং-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২ এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক মতামতে সারওয়ার জাহান বিপ্লব দাবি করেন, ১৭টি পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। অথচ বিসিএস কর্মকর্তারা পাল্টা আবেদনে জানান, মহামান্য আপিল বিভাগে Civil Petition No. 4340/2024 এখনও বিচারাধীন এবং মামলার কেস হিস্ট্রি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও বিদ্যমান।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—১৭/১২/২০২৪ তারিখে Civil Miscellaneous Petition No. 360/2013 “Rejected for not press” আদেশে নিষ্পত্তি হলেও সেটিকে “মামলা খারিজ” বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, “Not Press” মানে আবেদনকারী স্বেচ্ছায় আবেদন প্রত্যাহার করেছেন; এটি মামলার মূল বিষয় চূড়ান্ত খারিজ নয়। ফলে চলমান মামলাকে মৃত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠানো ছিল পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭ এর ধারা-৮। বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ৫ম গ্রেডের উপরে পদোন্নতির সুযোগ নেই। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সেই বিধি পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সারওয়ার জাহান বিপ্লব।

২৭, ২৮ ও ৩০তম বিসিএস কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি একই বিধিমালার আওতায় হয়েছে, সেহেতু ধারা-৮ তাদের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক। কিন্তু সারওয়ার জাহান বিপ্লব তার মতামতে দাবি করেন—সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের জন্য ওই বিধিমালা প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, এটি “আইনকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে অবৈধ পদোন্নতির রাস্তা পরিষ্কার করার অপচেষ্টা”।

এছাড়াও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে জারিকৃত নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা, ০৪/০৯/২০১২, ১৮/০৯/২০১২ ও ১৯/০৯/২০১২ তারিখে যোগদানের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং দায়িত্ব পালন ছাড়াই বকেয়া বেতন উত্তোলনের মতো গুরুতর প্রশ্ন তার মতামতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন নতুন করে আরেকটি “ম্যানেজড মতামত” তৈরির কাজ চলছে। সেখানে চলমান মামলা, বিধিগত বাধা ও সাংবিধানিক সমতার প্রশ্ন আড়াল করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পক্ষে সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে এবং সেই টাকার প্রভাবেই সক্রিয় হয়েছেন সারওয়ার জাহান বিপ্লব।

এদিকে সারওয়ার জাহান বিপ্লবের অতীত রেকর্ডও প্রশ্নবিদ্ধ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ নং-২৫,০০,০০০০,০৩৭.০১৮.২৭.০০০৩.২৫-২৩৯; তারিখ: ২৯ জুন ২০২৫ অনুযায়ী, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে কাশিমপুর কারাগার-২ প্রকল্পে ঠিকাদারের জমাকৃত ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা হলেও “প্রথম অপরাধ” বিবেচনায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে গণপূর্তের ভেতরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যে কর্মকর্তা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্ত, তিনিই কীভাবে বিচারাধীন মামলা গোপন করে পদোন্নতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মতামত দেন? প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা ঘুষের বিনিময়ে জ্যেষ্ঠতা তালিকা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।

সচেতন কর্মকর্তাদের ভাষায়, “এটি শুধু একটি পদোন্নতির অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সরকারি চাকরি বিধির উপর সরাসরি আঘাত।”

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে সবার একটাই প্রশ্ন,আওয়ামী নেতা ও আমির হোসেন আমু’র ডোনার জর্দা মনু গ্রেফতার হচ্ছে না কেন?

“ঘুষের টাকায় পদোন্নতির নীলনকশা!” — বিচারাধীন মামলা গোপন করে অবৈধ সুপারিশে গণপূর্তের সারওয়ার জাহান বিপ্লব! 

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিতর্ক এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি চাকরি বিধি, উচ্চ আদালতের বিচারাধীন মামলা এবং প্রশাসনিক নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তৃতীয় পক্ষের হয়ে অবৈধ পদোন্নতির সুপারিশ তৈরির অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মোহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পাইয়ে দিতে মন্ত্রণালয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতামত পাঠানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারি করা স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.০০০.১৩০.১৯.০০১৭.১৮(অংশ-১)-৩৮৯; তারিখ: ১০ মে ২০২৬ অনুযায়ী, বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ই/এম অংশের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে ওঠা আপত্তির বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট মতামত চাওয়া হয়। কারণ, ২৭, ২৮ ও ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন—সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া কিছু কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে ৫ম গ্রেডের ঊর্ধ্বে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু এর আগেই ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্মারক নং-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২ এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক মতামতে সারওয়ার জাহান বিপ্লব দাবি করেন, ১৭টি পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। অথচ বিসিএস কর্মকর্তারা পাল্টা আবেদনে জানান, মহামান্য আপিল বিভাগে Civil Petition No. 4340/2024 এখনও বিচারাধীন এবং মামলার কেস হিস্ট্রি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও বিদ্যমান।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—১৭/১২/২০২৪ তারিখে Civil Miscellaneous Petition No. 360/2013 “Rejected for not press” আদেশে নিষ্পত্তি হলেও সেটিকে “মামলা খারিজ” বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, “Not Press” মানে আবেদনকারী স্বেচ্ছায় আবেদন প্রত্যাহার করেছেন; এটি মামলার মূল বিষয় চূড়ান্ত খারিজ নয়। ফলে চলমান মামলাকে মৃত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠানো ছিল পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭ এর ধারা-৮। বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ৫ম গ্রেডের উপরে পদোন্নতির সুযোগ নেই। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সেই বিধি পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সারওয়ার জাহান বিপ্লব।

২৭, ২৮ ও ৩০তম বিসিএস কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি একই বিধিমালার আওতায় হয়েছে, সেহেতু ধারা-৮ তাদের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক। কিন্তু সারওয়ার জাহান বিপ্লব তার মতামতে দাবি করেন—সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের জন্য ওই বিধিমালা প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, এটি “আইনকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে অবৈধ পদোন্নতির রাস্তা পরিষ্কার করার অপচেষ্টা”।

এছাড়াও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে জারিকৃত নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা, ০৪/০৯/২০১২, ১৮/০৯/২০১২ ও ১৯/০৯/২০১২ তারিখে যোগদানের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং দায়িত্ব পালন ছাড়াই বকেয়া বেতন উত্তোলনের মতো গুরুতর প্রশ্ন তার মতামতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন নতুন করে আরেকটি “ম্যানেজড মতামত” তৈরির কাজ চলছে। সেখানে চলমান মামলা, বিধিগত বাধা ও সাংবিধানিক সমতার প্রশ্ন আড়াল করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পক্ষে সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে এবং সেই টাকার প্রভাবেই সক্রিয় হয়েছেন সারওয়ার জাহান বিপ্লব।

এদিকে সারওয়ার জাহান বিপ্লবের অতীত রেকর্ডও প্রশ্নবিদ্ধ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ নং-২৫,০০,০০০০,০৩৭.০১৮.২৭.০০০৩.২৫-২৩৯; তারিখ: ২৯ জুন ২০২৫ অনুযায়ী, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে কাশিমপুর কারাগার-২ প্রকল্পে ঠিকাদারের জমাকৃত ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা হলেও “প্রথম অপরাধ” বিবেচনায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে গণপূর্তের ভেতরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যে কর্মকর্তা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্ত, তিনিই কীভাবে বিচারাধীন মামলা গোপন করে পদোন্নতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মতামত দেন? প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা ঘুষের বিনিময়ে জ্যেষ্ঠতা তালিকা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।

সচেতন কর্মকর্তাদের ভাষায়, “এটি শুধু একটি পদোন্নতির অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সরকারি চাকরি বিধির উপর সরাসরি আঘাত।”