কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুতুবপুর গ্রামে হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে একজন কৃষক ও হারভেস্টার মেশিনের চুক্তিভিত্তিক মালিক পক্ষের মধ্যে মারামারি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এলাচ নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এলাচ নামে এক কৃষক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত কৃষককে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
আহত কৃষক এলাচ অভিযোগ করেন, হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটার বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে তাকে মারধর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে মারধরের পর তার বসত ঘরেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত হারভেস্টারের চুক্তিভিত্তিক মালিক বাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো এলাচের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন । বাবুলের দাবি, তাকে “দালাল” বলে অপমান করা হয়েছে এবং তার মাকে নিয়েও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক নয়। বরং আমাদের সম্মানহানি করার জন্যই সে এসব সাজানো নাটক করছে।
অন্যদিকে আহত কৃষক এলাচ সাংবাদিকদের কাছে বাবুলকে “দালাল” ডাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, আজিজ নামে অন্য একজনকে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়েও এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর উভয় পক্ষই সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। তবে উভয় পক্ষই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা জানিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধান কাটার মতো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের কারণে অনেক সময় শ্রমিক, জমির মালিক ও মেশিন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এসব বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 

















