ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে মহা মিছিল, ধর্মতলা উত্তাল।  ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হলো পবিত্র উল্টো রথযাত্রা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। রাউজান ফকিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি সাংবিধানিক বিশ্লেষণ।

একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ..ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।

কিছুক্ষণ আগে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) বিকেলে প্রথমে তুলনামূলক কম মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, পরে রাত ০৯.৩০মিঃ দিকে আবারও শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫, যার কেন্দ্র ছিল রংপুরের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৪৩ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ০৯.৩০ মিনিটে অনুভূত দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৯, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম অঞ্চলে, ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে। এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

একদিনে পরপর দুই দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন নির্মাণ, সরু সড়ক, জনঘনত্ব এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এ বাস্তবতায় শুধু আতঙ্ক নয়, সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে সিঁড়িতে নামার চেষ্টা না করে ‘ড্রপ, কাভার, হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে—অর্থাৎ নিচু হয়ে বসা, মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং শক্তভাবে ধরে থাকা। বাসা, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্গমনপথ, খোলা নিরাপদ স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, টর্চ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। পরিবারভিত্তিক একটি জরুরি পরিকল্পনাও থাকা দরকার, যাতে দুর্যোগের সময় কে কোথায় যাবে এবং কীভাবে যোগাযোগ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।

সরকারের পক্ষ থেকেও এখন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার বা অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মহড়া চালু করা জরুরি। পাশাপাশি, দেশের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক করা, দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নত করা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোও সময়ের দাবি।

ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব যদি এখনই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে প্রস্তুত হয়। ঘনঘন ভূমিকম্পের এই বার্তা তাই আতঙ্কের নয়, বরং সতর্ক হয়ে ওঠার শেষ সুযোগ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো।

একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ..ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।

আপডেট সময় : ১১:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কিছুক্ষণ আগে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) বিকেলে প্রথমে তুলনামূলক কম মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, পরে রাত ০৯.৩০মিঃ দিকে আবারও শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫, যার কেন্দ্র ছিল রংপুরের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৪৩ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ০৯.৩০ মিনিটে অনুভূত দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৯, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম অঞ্চলে, ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে। এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

একদিনে পরপর দুই দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন নির্মাণ, সরু সড়ক, জনঘনত্ব এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এ বাস্তবতায় শুধু আতঙ্ক নয়, সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে সিঁড়িতে নামার চেষ্টা না করে ‘ড্রপ, কাভার, হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে—অর্থাৎ নিচু হয়ে বসা, মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং শক্তভাবে ধরে থাকা। বাসা, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্গমনপথ, খোলা নিরাপদ স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, টর্চ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। পরিবারভিত্তিক একটি জরুরি পরিকল্পনাও থাকা দরকার, যাতে দুর্যোগের সময় কে কোথায় যাবে এবং কীভাবে যোগাযোগ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।

সরকারের পক্ষ থেকেও এখন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার বা অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মহড়া চালু করা জরুরি। পাশাপাশি, দেশের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক করা, দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নত করা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোও সময়ের দাবি।

ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব যদি এখনই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে প্রস্তুত হয়। ঘনঘন ভূমিকম্পের এই বার্তা তাই আতঙ্কের নয়, বরং সতর্ক হয়ে ওঠার শেষ সুযোগ।