ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত অভিযানে: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার মান্দার ২ কিশোর গ্যাং লিডার। ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা বাগান দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গোপালগঞ্জ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিক্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্ধোধন। লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বাংলাদেশ: বিদ্যুৎ সংকট নয়, এটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরীক্ষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও ফের শোন-অ্যারেস্ট শাহেদ। গোপালগঞ্জ শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তার চুরি, রাতে আতঙ্ক। মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার। গোপালগঞ্জে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন অ্যাডিশনাল ডিআইজির। মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটলুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। 

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।