ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা। কিশোরগঞ্জ মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা। সিলেটে জামায়াত সমর্থিত ১৭ সরকারি আইনজীবীর একযোগে পদত্যাগ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবি সহকর্মীদের। আর্জেন্টিনার বিজয়ে ভোররাত থেকেই ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন।

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসকে ঘিরে বিতর্ক: আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কঠিন পরীক্ষা।

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।