ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন।

 

রাজধানীর উপকণ্ঠ ধামরাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল তৈরির অবৈধ কারখানা। এই কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও সীসা মিশ্রিত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে ফসলি জমি ও জলাশয়, সেই সাথে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানায় টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও কটু গন্ধে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি মিশছে স্থানীয় পুকুর ও খাল-বিলে, যার ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় নারী ও শিশুরা।

মালিক ও কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতা

এই অবৈধ কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে কারখানা মালিক জিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কারখানার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি না, সে বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

একইভাবে, ঢাকা জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ইলিয়াস মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা মনিটরিং সম্পর্কে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কারখানাটির বিষয়ে প্রশাসন অবগত। তিনি বলেন, “এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি গোপনে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়, তবে অচিরেই আমরা কঠোর অভিযান পরিচালনা করব এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জনগণের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জরিমানা করার পরও কারখানাটি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে, সরকারি আদেশ অমান্য করে যারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন।

আপডেট সময় : ০৪:১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

রাজধানীর উপকণ্ঠ ধামরাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল তৈরির অবৈধ কারখানা। এই কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও সীসা মিশ্রিত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে ফসলি জমি ও জলাশয়, সেই সাথে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানায় টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও কটু গন্ধে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি মিশছে স্থানীয় পুকুর ও খাল-বিলে, যার ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় নারী ও শিশুরা।

মালিক ও কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতা

এই অবৈধ কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে কারখানা মালিক জিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কারখানার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি না, সে বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

একইভাবে, ঢাকা জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ইলিয়াস মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা মনিটরিং সম্পর্কে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কারখানাটির বিষয়ে প্রশাসন অবগত। তিনি বলেন, “এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি গোপনে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়, তবে অচিরেই আমরা কঠোর অভিযান পরিচালনা করব এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জনগণের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জরিমানা করার পরও কারখানাটি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে, সরকারি আদেশ অমান্য করে যারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।