ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎ লটারির নামে জালিয়াতি মন্ত্রী সচিব কে ভুল বুঝিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করিয়েছে রক্ষক যেখানে ভক্ষক গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই/এম প্রকৌশলী পদে পদায়নের লটারি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের

পাটগ্রামে অস্তিত্বহীন মিলের নামে চাল বরাদ্দ—সিন্ডিকেটের কবলে খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা।

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অস্তিত্বহীন রাইস মিলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খাদ্য বিভাগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, পাটগ্রামে হাস্কিং ও অটো মিল মিলিয়ে মোট ৪৪টি রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ২৪টি। তবে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ ধরে ২৩টি মিল সম্পূর্ণ অকার্যকর ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও এসব মিলের নামেই সরকারি চাল বরাদ্দের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বন্ধ মিলের কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, নেই বয়লার, সাইনবোর্ড বা অবকাঠামোগত অস্তিত্বও। অনেক স্থানে মিলের জায়গা এখন আগাছায় পরিণত হয়েছে। অথচ এসব নাম ব্যবহার করেই নিয়মিতভাবে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বোরো মৌসুমে পাটগ্রাম উপজেলায় প্রায় ১৬৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের জন্য ২৪টি মিলারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রতিবেদন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কেবল কাগজপত্রের ভিত্তিতে তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে অস্তিত্বহীন মিলও বরাদ্দ তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, কিছু মিল মালিক এবং খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে প্রকৃত কৃষক ও বৈধ মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: নাসিম আল আকতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অস্তিত্বহীন মিলের নাম বরাদ্দ তালিকায় নেই। যেসব মিল একেবারেই অকার্যকর, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পাটগ্রাম উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিনুর ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সভায় আলোচনা করা হবে।

চলতি মৌসুমে উপজেলার ২৪টি মিলারের সঙ্গে নির্ধারিত দামে প্রায় ১৬৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব মিল যাচাই প্রয়োজন। অন্যথায় পুরো খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎

পাটগ্রামে অস্তিত্বহীন মিলের নামে চাল বরাদ্দ—সিন্ডিকেটের কবলে খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা।

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অস্তিত্বহীন রাইস মিলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খাদ্য বিভাগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, পাটগ্রামে হাস্কিং ও অটো মিল মিলিয়ে মোট ৪৪টি রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ২৪টি। তবে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ ধরে ২৩টি মিল সম্পূর্ণ অকার্যকর ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও এসব মিলের নামেই সরকারি চাল বরাদ্দের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বন্ধ মিলের কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, নেই বয়লার, সাইনবোর্ড বা অবকাঠামোগত অস্তিত্বও। অনেক স্থানে মিলের জায়গা এখন আগাছায় পরিণত হয়েছে। অথচ এসব নাম ব্যবহার করেই নিয়মিতভাবে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বোরো মৌসুমে পাটগ্রাম উপজেলায় প্রায় ১৬৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের জন্য ২৪টি মিলারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রতিবেদন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কেবল কাগজপত্রের ভিত্তিতে তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে অস্তিত্বহীন মিলও বরাদ্দ তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, কিছু মিল মালিক এবং খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে প্রকৃত কৃষক ও বৈধ মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: নাসিম আল আকতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অস্তিত্বহীন মিলের নাম বরাদ্দ তালিকায় নেই। যেসব মিল একেবারেই অকার্যকর, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পাটগ্রাম উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিনুর ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সভায় আলোচনা করা হবে।

চলতি মৌসুমে উপজেলার ২৪টি মিলারের সঙ্গে নির্ধারিত দামে প্রায় ১৬৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব মিল যাচাই প্রয়োজন। অন্যথায় পুরো খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।