ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাদারীপুরে মদ ও ইয়াবাসহ চারজন গ্রেফতার। নিয়োগ দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ভুয়া বিল ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ, পদোন্নতি কেলেংকারী সহ প্রায় এক ডজন অভিযোগে বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে দুদকের টিম: সিংহভাগ অভিযোগ পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।  হিলিতে দাম কমেছে পেঁয়াজের, স্বস্তিতে ক্রেতারা। বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং নির্মাণ, রাজশাহীর ৭২১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বিপদ! ডুমুরিয়ায় পাটজাত মোড়ক উপেক্ষা করে পলিথিনের ছড়াছড়ি: বিপন্ন পরিবেশ, নির্বিকার প্রশাসন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মানবিক সাহায্যের আবেদন। ১৫ বছরে ১৫ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো: হুমায়ুন রশিদ মুহিত। ৪১৫ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মে জড়িত থেকেও মোঃ শওকত আলী খান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ! রূপগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ৫৫ বোতল স্কার্ফ, ৮৫ বোতল বিদেশি মদ, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৪১ পিস ইয়াবাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কৃষি গবেষণার এমদাদের হাতে লাঞ্চিত ডিএই’র ডিজি বিব্রত কৃষি মন্ত্রী।

বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং নির্মাণ, রাজশাহীর ৭২১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বিপদ!

গত দুই দশকে রাজশাহীর নগরায়ণের চিত্র আমূল বদলে গেছে। শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। তবে এই উন্নয়নের আড়ালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে নির্মিত হচ্ছে অনেক ভবন, যেগুলোর বড় একটি অংশের নেই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন। ফলে এসব ভবন এখন নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই দশক আগে জীবন বীমা কর্পোরেশনের ভবনটিই ছিল রাজশাহীর একমাত্র ১০ তলা ভবন। বর্তমানে নগরজুড়ে বহুতল ভবনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হয়নি নির্মাণবিধি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা।

নগরীর উপশহর নিউমার্কেট মোড়ে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ রানা। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত ভবনটির ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে গেলেও পরে আরডিএ জানতে পারে, ভবনটি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সাহেববাজার এলাকার ১২ তলা এসএস টাওয়ারের বিরুদ্ধেও।

সাধারণত সাত তলার বেশি উচ্চতার ভবনকে বহুতল ভবন হিসেবে ধরা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভবন মালিক সাত তলার অনুমোদন নিয়ে আট থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

আরডিএর তথ্য অনুযায়ী,

রাজশাহী জেলায় বর্তমানে বহুতল ভবনের সংখ্যা ১ হাজার ২৪৫টি। এর মধ্যে ৮৪৮টি ভবনই প্রয়োজনীয় রাস্তার জায়গা না রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে বর্তমানে ১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।রাজশাহী বিভাগীয় খবর

নগরবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, আরডিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে এসব ভবনের আশপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হবে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।”

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটসহ নগরীর ৭২১টি ভবন বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেন, “শুধু নোটিশ বা মামলা করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। আরডিএকে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর হতে হবে। নিয়মবহির্ভূত অংশ ভেঙে দিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জোরদার না করলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।”

আরডিএর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, গত পাঁচ বছরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪০টি ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, “অনুমোদনহীন ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ ও মামলা করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। তবে নিয়মবহির্ভূত সব বর্ধিত অংশ পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে। বর্তমানে কোনো কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্ল্যান পাস করানোর সুযোগ নেই।”

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে নকশা বহির্ভূত বা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রাজশাহীর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন এখন অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি শুধু রাজশাহী নগরীতেই নয় বাংলাদেশের গোটা শহর, বন্দর ও মহানগরীর অবস্থা আরো আরো বেশি ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা। যার মাশুল গুনতে হতে পারে এদেশের  সাধারণ মানুষকেই।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে মদ ও ইয়াবাসহ চারজন গ্রেফতার।

বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং নির্মাণ, রাজশাহীর ৭২১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বিপদ!

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

গত দুই দশকে রাজশাহীর নগরায়ণের চিত্র আমূল বদলে গেছে। শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। তবে এই উন্নয়নের আড়ালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে নির্মিত হচ্ছে অনেক ভবন, যেগুলোর বড় একটি অংশের নেই রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন। ফলে এসব ভবন এখন নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই দশক আগে জীবন বীমা কর্পোরেশনের ভবনটিই ছিল রাজশাহীর একমাত্র ১০ তলা ভবন। বর্তমানে নগরজুড়ে বহুতল ভবনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হয়নি নির্মাণবিধি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা।

নগরীর উপশহর নিউমার্কেট মোড়ে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ রানা। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত ভবনটির ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে গেলেও পরে আরডিএ জানতে পারে, ভবনটি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সাহেববাজার এলাকার ১২ তলা এসএস টাওয়ারের বিরুদ্ধেও।

সাধারণত সাত তলার বেশি উচ্চতার ভবনকে বহুতল ভবন হিসেবে ধরা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভবন মালিক সাত তলার অনুমোদন নিয়ে আট থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

আরডিএর তথ্য অনুযায়ী,

রাজশাহী জেলায় বর্তমানে বহুতল ভবনের সংখ্যা ১ হাজার ২৪৫টি। এর মধ্যে ৮৪৮টি ভবনই প্রয়োজনীয় রাস্তার জায়গা না রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে বর্তমানে ১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।রাজশাহী বিভাগীয় খবর

নগরবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, আরডিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে এসব ভবনের আশপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হবে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।”

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটসহ নগরীর ৭২১টি ভবন বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেন, “শুধু নোটিশ বা মামলা করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। আরডিএকে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর হতে হবে। নিয়মবহির্ভূত অংশ ভেঙে দিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জোরদার না করলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।”

আরডিএর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, গত পাঁচ বছরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪০টি ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, “অনুমোদনহীন ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ ও মামলা করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। তবে নিয়মবহির্ভূত সব বর্ধিত অংশ পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে। বর্তমানে কোনো কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্ল্যান পাস করানোর সুযোগ নেই।”

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে নকশা বহির্ভূত বা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রাজশাহীর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন এখন অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি শুধু রাজশাহী নগরীতেই নয় বাংলাদেশের গোটা শহর, বন্দর ও মহানগরীর অবস্থা আরো আরো বেশি ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা। যার মাশুল গুনতে হতে পারে এদেশের  সাধারণ মানুষকেই।