ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

নিয়োগ দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ভুয়া বিল ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ, পদোন্নতি কেলেংকারী সহ প্রায় এক ডজন অভিযোগে বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে দুদকের টিম: সিংহভাগ অভিযোগ পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১৯৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) এর নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রায় ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত ঢাকা-১ এর কার্যালয়।

তদপ্রেক্ষিতে একজন সহকারী পরিচলকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুজ্জামান ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ফাইলপত্র দেখতে চান এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদী চান। বিসিক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে সকল ফাইলপত্র ও তথ্যদি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

দুদক সুত্রে জানাগেছে, বিসিক এ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আমলে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি সংগঠিত হয়।

সে সব অনিয়ম দুর্নীতির সাথে যে সব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তারা কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন। কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত আছেন।

তারা ঠিক আগের নিয়মেই অনিয়ম,দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এসব কর্মকর্তারা সরকারী টাকা লোপাট করে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা নিয়োগ দুর্নীতির সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে এতদিন দুদকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তারা আবার একটি পদোন্নতি নিয়েছেন আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে। বর্তমান সরকার আমলে এসে তারা গা থেকে আওয়ামী লীগের মুজিব কোট নামিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন।

গত ২৪/৪/২০২৬ তারিখের দুদক থেকে প্রদত্ত এক নোটিশ থেকে জানা যায়,এই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর শুনানী করার জন্য গত মে মাসের ১১/১২/১৩ তারিখে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়। তারা লিখিত ও মৌখিক জবাব দেন।

কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা তাতে সন্তুষ্টি না হতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে আরো অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন। সেই আলোকেই গতকাল বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে তারা উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১ নম্বরে নাম রয়েছে মুন্সিগঞ্জ কেমিকেল পার্কের পিডি মো হাফিজুর রহমানের নাম।২ নম্বরে আছেন সেফালি খাতুন।৩ নম্বরে আছেন মোঃ রাসেদুর রহমন। ৪,৫,৬ ও ৭ নম্বরে আরো কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদের মধ্যে পিডি হাফিজুরের বিরুদ্ধে সব থেকে বেশি অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ২৮ টি বিভাগীয় মামলা ছিল। যেগুলো তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ধামা চাপা দিয়েছেন বা বিভাগীয় মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টেন্ডার দুর্নীতি সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে থেকে কয়েক কোটি টাকা কমিশন গ্রহন করে তাদেরকে কাজ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভুয়া বিল ভাউচারে মোটা অংকের টাকা গ্রাস করেছেন। তিনি কি পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তা নিরুপন করার জন্য দুদক থেকে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে।

অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা,জালিয়াতি,অর্থ তছরুপ সহ বেশকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার,নারীবাজি,প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক না থাকা। ভুয়া কর্মচারীদের নামে বেতন তুলে আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইল শিল্প পার্কের মাটি ভরাটের টেন্ডারে হস্তক্ষেপ করে একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে বসে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নিয়েছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে বিসিক এর চেয়ারম্যান মোাঃ সাইফুল ইসলাম দুদক কর্মকর্তারা তার সাথে দেখা করে তথ্য প্রমান চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পিডি হাফিজুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে নয় অখিল রঞ্জনের নিয়োগ বিষয়ের ফাইলপত্র চেয়েছেন তারা। (আরো বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে)

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

নিয়োগ দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ভুয়া বিল ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ, পদোন্নতি কেলেংকারী সহ প্রায় এক ডজন অভিযোগে বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে দুদকের টিম: সিংহভাগ অভিযোগ পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

 

বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) এর নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রায় ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত ঢাকা-১ এর কার্যালয়।

তদপ্রেক্ষিতে একজন সহকারী পরিচলকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুজ্জামান ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ফাইলপত্র দেখতে চান এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদী চান। বিসিক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে সকল ফাইলপত্র ও তথ্যদি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

দুদক সুত্রে জানাগেছে, বিসিক এ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আমলে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি সংগঠিত হয়।

সে সব অনিয়ম দুর্নীতির সাথে যে সব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তারা কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন। কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত আছেন।

তারা ঠিক আগের নিয়মেই অনিয়ম,দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এসব কর্মকর্তারা সরকারী টাকা লোপাট করে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা নিয়োগ দুর্নীতির সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে এতদিন দুদকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তারা আবার একটি পদোন্নতি নিয়েছেন আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে। বর্তমান সরকার আমলে এসে তারা গা থেকে আওয়ামী লীগের মুজিব কোট নামিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন।

গত ২৪/৪/২০২৬ তারিখের দুদক থেকে প্রদত্ত এক নোটিশ থেকে জানা যায়,এই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর শুনানী করার জন্য গত মে মাসের ১১/১২/১৩ তারিখে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়। তারা লিখিত ও মৌখিক জবাব দেন।

কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা তাতে সন্তুষ্টি না হতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে আরো অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন। সেই আলোকেই গতকাল বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে তারা উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১ নম্বরে নাম রয়েছে মুন্সিগঞ্জ কেমিকেল পার্কের পিডি মো হাফিজুর রহমানের নাম।২ নম্বরে আছেন সেফালি খাতুন।৩ নম্বরে আছেন মোঃ রাসেদুর রহমন। ৪,৫,৬ ও ৭ নম্বরে আরো কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদের মধ্যে পিডি হাফিজুরের বিরুদ্ধে সব থেকে বেশি অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ২৮ টি বিভাগীয় মামলা ছিল। যেগুলো তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ধামা চাপা দিয়েছেন বা বিভাগীয় মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টেন্ডার দুর্নীতি সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে থেকে কয়েক কোটি টাকা কমিশন গ্রহন করে তাদেরকে কাজ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভুয়া বিল ভাউচারে মোটা অংকের টাকা গ্রাস করেছেন। তিনি কি পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তা নিরুপন করার জন্য দুদক থেকে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে।

অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা,জালিয়াতি,অর্থ তছরুপ সহ বেশকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার,নারীবাজি,প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক না থাকা। ভুয়া কর্মচারীদের নামে বেতন তুলে আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইল শিল্প পার্কের মাটি ভরাটের টেন্ডারে হস্তক্ষেপ করে একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে বসে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নিয়েছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে বিসিক এর চেয়ারম্যান মোাঃ সাইফুল ইসলাম দুদক কর্মকর্তারা তার সাথে দেখা করে তথ্য প্রমান চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পিডি হাফিজুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে নয় অখিল রঞ্জনের নিয়োগ বিষয়ের ফাইলপত্র চেয়েছেন তারা। (আরো বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে)