ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে ৫৭১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ।  নওগাঁয় পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই শিশু ধর্ষণেরর অভিযোগ।  বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ২২ নাবিক।   শার্শায় সাংবাদিক হত্যাসহ ১৮ মামলার আসামি উকিল মল্লিক আটক। খুলনা মেডিকেলের সামনে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশই যেন সোনার হরিণ: ২হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা কেজি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা নাভিশ্বাস, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার।

 

 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই,২৬) রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের (স্বনির্ভর মোড়) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

আটককৃতরা হলেন— চরঝাকালিয়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিনের ছেলে ও এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মো. শামীম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের মো. আরমান মিয়া (২০)।

 

অভিযানকালে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, দেশে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করছে। মাদকের মূল উৎপাটন করতে সরকার কেবল প্রশাসনিক অ্যাকশনই নয়, বরং আইনি কাঠামোকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাদকবিরোধী আইন সংশোধন করে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর আইনের ফলে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

অভিযান শেষে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন:

“মাদকের মরণছোবল থেকে আমাদের যুবসমাজ ও সমাজকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে মাদক আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কটিয়াদী থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

 

তিনি আরো বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— কটিয়াদীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারি, গডফাদার কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, না হয় কটিয়াদী ছাড়তে হবে; অন্যথায় লোহার গরাদই হবে তাদের শেষ ঠিকানা। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই চিরুনি অভিযান অবিরাম চলবে।”

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী।

কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার।

আপডেট সময় : ১১:২৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

 

 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই,২৬) রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের (স্বনির্ভর মোড়) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

আটককৃতরা হলেন— চরঝাকালিয়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিনের ছেলে ও এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মো. শামীম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের মো. আরমান মিয়া (২০)।

 

অভিযানকালে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, দেশে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করছে। মাদকের মূল উৎপাটন করতে সরকার কেবল প্রশাসনিক অ্যাকশনই নয়, বরং আইনি কাঠামোকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাদকবিরোধী আইন সংশোধন করে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর আইনের ফলে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

অভিযান শেষে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন:

“মাদকের মরণছোবল থেকে আমাদের যুবসমাজ ও সমাজকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে মাদক আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কটিয়াদী থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

 

তিনি আরো বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— কটিয়াদীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারি, গডফাদার কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, না হয় কটিয়াদী ছাড়তে হবে; অন্যথায় লোহার গরাদই হবে তাদের শেষ ঠিকানা। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই চিরুনি অভিযান অবিরাম চলবে।”