ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

 

জীবন কখনো কখনো আমাদের এমন এক নীল দিগন্তের সামনে এনে দাঁড় করায়, যেখানে পৃথিবীর সব কোলাহল যেন হঠাৎ থেমে যায়। সামনে শুধু বিশাল সমুদ্র, মাথার ওপরে অসীম আকাশ আর দূরে নোঙর করা জাহাজ—মনে হয়, প্রকৃতি নীরবে আমাদের বলছে, “একবার নিজের ভেতরটাকেও দেখে নাও।”

সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে তোলা এই ছবিটি তাই আমার কাছে নিছক একটি ছবি নয়; এটি একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি, প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্যের স্মারক এবং নিজের সঙ্গে নিজের একান্ত কথোপকথনের মুহূর্ত।

এই সফরে আমার সঙ্গী ছিলেন আমার পছন্দের, আমার হৃদয়ের কাছের কয়েকজন মানুষ। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, অনেকেই আসে-যায়; কিন্তু অল্প কিছু মানুষ থেকে যান হৃদয়ের গভীরে। তাঁদের সঙ্গে পথ চলার আনন্দই আলাদা। তাঁদের উপস্থিতি পথকে শুধু সহজ করে না, পথের স্মৃতিকেও করে তোলে আরও উজ্জ্বল।

ছবির বাম দিক থেকে প্রথমেই আমার প্রিয় ভাইপো নৃপেন। অত্যন্ত রুচিশীল, মার্জিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। তার চলনে-বলনে যেমন সৌন্দর্য, তেমনি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় রয়েছে এক নির্মলতা। আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও নৃপেন আমার কাছে একজন আপনজন, একজন প্রিয় সফরসঙ্গী—যার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও যেন ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তিতে একটুখানি প্রশান্তির বাতাস।

তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ, কর্মঠ ও নির্ভীক ব্যক্তিত্বের অধিকারী শিক্ষক শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী। একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁর ব্যক্তিত্ব, সততা, সাহস ও জীবনদর্শনও সমাজকে শিক্ষা দেয়। শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর মধ্যে আমি সেই সরলতা ও দৃঢ়তার এক সুন্দর সমন্বয় দেখি। জীবনের প্রতিকূলতার সামনে মাথা নত না করে নিজের বিশ্বাস ও দায়িত্বের জায়গায় অবিচল থাকার যে মানসিকতা—সেটিই তাঁকে আমার কাছে আলাদা করে তোলে।

আর একেবারে ডান পাশে চট্টগ্রামের আমার দলীয় ছোট ভাই—নামটি হয়তো ছবির ফ্রেমে নেই, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতায় তিনি এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ একজন সঙ্গী। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথচলায় বয়সের ব্যবধান থাকলেও ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অনেক দূরত্বকে মুছে দেয়। ছোট ভাইয়ের মতো তার আন্তরিক উপস্থিতি এই সফরের আনন্দকে করেছে আরও আপন, আরও প্রাণবন্ত।

আমরা চারজন—চারটি ভিন্ন জীবন, ভিন্ন অভিজ্ঞতা, ভিন্ন পরিচয়; কিন্তু একটি জায়গায় আমাদের মিল—মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং একসঙ্গে কিছু সুন্দর সময়কে স্মৃতিতে ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা।

পেছনে তখন বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি। অসংখ্য মানুষ নিজেদের মতো করে আনন্দে ব্যস্ত। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ঢেউ দেখছে, কেউ হয়তো প্রিয়জনের হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। আর আমরা দাঁড়িয়ে আছি সময়ের একটি ছোট্ট মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে।

কিন্তু ছবির বাইরেও তো জীবনের আরও বড় একটি ছবি রয়েছে।

আমরা প্রতিদিন ছুটছি—সাফল্যের পেছনে, পরিচিতির পেছনে, দায়িত্বের পেছনে, স্বপ্নের পেছনে। এই ছুটতে ছুটতে কখনো কখনো নিজের কাছ থেকেই দূরে সরে যাই। অথচ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সফরটি হলো নিজের কাছে ফিরে আসার সফর।

সমুদ্র আমাকে সেই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দেয়।

ঢেউ ভাঙে, আবার ফিরে আসে। জাহাজ দূর দিগন্তের দিকে চলে যায়, আবার কোনো একদিন ফিরে আসে বন্দরে। মানুষের জীবনও তেমন—হারানোর মধ্যেও ফিরে পাওয়ার গল্প থাকে, ব্যর্থতার মধ্যেও নতুন শুরুর সম্ভাবনা থাকে।

আর সেই দীর্ঘ যাত্রায় যদি পাশে থাকে নৃপেনের মতো আপনজন, শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর মতো নির্ভীক ও সাদা মনের মানুষ এবং চট্টগ্রামের সেই প্রিয় ছোট ভাইয়ের মতো আন্তরিক সহযাত্রী—তবে পথটি নিঃসন্দেহে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

কারণ জীবনের প্রকৃত সম্পদ শুধু অর্থ, পদ কিংবা পরিচিতি নয়। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো—কিছু প্রিয় মানুষ, যাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করা যায়, কষ্টের কথা বলা যায়, নীরবতাও ভাগ করে নেওয়া যায়।

আজ সাগরের নীল জলে তাকিয়ে তাই মনে হয়—আমি শুধু সমুদ্র দেখতে যাইনি; আমি খুঁজেছি আমার ভেতরের মানুষটিকেও। আর সেই খোঁজের পথে পাশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর মুখগুলো হয়ে থাকুক এই ছবির সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।

সমুদ্র একদিন তার ঢেউ ফিরিয়ে নেবে, সূর্য ডুবে যাবে, এই মুহূর্তও একদিন অতীত হয়ে যাবে। কিন্তু প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত—সেগুলো হৃদয়ের তীরে চিরকাল ঢেউ তুলতে থাকবে।

সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার এই নিরন্তর চেষ্টায় তাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—সাগর নয়, সাগরের পাড়ে পাওয়া প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য।

এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু – সম্পাদক

সারাক্ষণ বার্তা

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

আপডেট সময় : ১২:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

জীবন কখনো কখনো আমাদের এমন এক নীল দিগন্তের সামনে এনে দাঁড় করায়, যেখানে পৃথিবীর সব কোলাহল যেন হঠাৎ থেমে যায়। সামনে শুধু বিশাল সমুদ্র, মাথার ওপরে অসীম আকাশ আর দূরে নোঙর করা জাহাজ—মনে হয়, প্রকৃতি নীরবে আমাদের বলছে, “একবার নিজের ভেতরটাকেও দেখে নাও।”

সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে তোলা এই ছবিটি তাই আমার কাছে নিছক একটি ছবি নয়; এটি একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি, প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্যের স্মারক এবং নিজের সঙ্গে নিজের একান্ত কথোপকথনের মুহূর্ত।

এই সফরে আমার সঙ্গী ছিলেন আমার পছন্দের, আমার হৃদয়ের কাছের কয়েকজন মানুষ। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, অনেকেই আসে-যায়; কিন্তু অল্প কিছু মানুষ থেকে যান হৃদয়ের গভীরে। তাঁদের সঙ্গে পথ চলার আনন্দই আলাদা। তাঁদের উপস্থিতি পথকে শুধু সহজ করে না, পথের স্মৃতিকেও করে তোলে আরও উজ্জ্বল।

ছবির বাম দিক থেকে প্রথমেই আমার প্রিয় ভাইপো নৃপেন। অত্যন্ত রুচিশীল, মার্জিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। তার চলনে-বলনে যেমন সৌন্দর্য, তেমনি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় রয়েছে এক নির্মলতা। আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও নৃপেন আমার কাছে একজন আপনজন, একজন প্রিয় সফরসঙ্গী—যার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও যেন ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তিতে একটুখানি প্রশান্তির বাতাস।

তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ, কর্মঠ ও নির্ভীক ব্যক্তিত্বের অধিকারী শিক্ষক শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী। একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁর ব্যক্তিত্ব, সততা, সাহস ও জীবনদর্শনও সমাজকে শিক্ষা দেয়। শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর মধ্যে আমি সেই সরলতা ও দৃঢ়তার এক সুন্দর সমন্বয় দেখি। জীবনের প্রতিকূলতার সামনে মাথা নত না করে নিজের বিশ্বাস ও দায়িত্বের জায়গায় অবিচল থাকার যে মানসিকতা—সেটিই তাঁকে আমার কাছে আলাদা করে তোলে।

আর একেবারে ডান পাশে চট্টগ্রামের আমার দলীয় ছোট ভাই—নামটি হয়তো ছবির ফ্রেমে নেই, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতায় তিনি এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ একজন সঙ্গী। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথচলায় বয়সের ব্যবধান থাকলেও ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অনেক দূরত্বকে মুছে দেয়। ছোট ভাইয়ের মতো তার আন্তরিক উপস্থিতি এই সফরের আনন্দকে করেছে আরও আপন, আরও প্রাণবন্ত।

আমরা চারজন—চারটি ভিন্ন জীবন, ভিন্ন অভিজ্ঞতা, ভিন্ন পরিচয়; কিন্তু একটি জায়গায় আমাদের মিল—মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং একসঙ্গে কিছু সুন্দর সময়কে স্মৃতিতে ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা।

পেছনে তখন বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি। অসংখ্য মানুষ নিজেদের মতো করে আনন্দে ব্যস্ত। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ঢেউ দেখছে, কেউ হয়তো প্রিয়জনের হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। আর আমরা দাঁড়িয়ে আছি সময়ের একটি ছোট্ট মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে।

কিন্তু ছবির বাইরেও তো জীবনের আরও বড় একটি ছবি রয়েছে।

আমরা প্রতিদিন ছুটছি—সাফল্যের পেছনে, পরিচিতির পেছনে, দায়িত্বের পেছনে, স্বপ্নের পেছনে। এই ছুটতে ছুটতে কখনো কখনো নিজের কাছ থেকেই দূরে সরে যাই। অথচ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সফরটি হলো নিজের কাছে ফিরে আসার সফর।

সমুদ্র আমাকে সেই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দেয়।

ঢেউ ভাঙে, আবার ফিরে আসে। জাহাজ দূর দিগন্তের দিকে চলে যায়, আবার কোনো একদিন ফিরে আসে বন্দরে। মানুষের জীবনও তেমন—হারানোর মধ্যেও ফিরে পাওয়ার গল্প থাকে, ব্যর্থতার মধ্যেও নতুন শুরুর সম্ভাবনা থাকে।

আর সেই দীর্ঘ যাত্রায় যদি পাশে থাকে নৃপেনের মতো আপনজন, শচীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর মতো নির্ভীক ও সাদা মনের মানুষ এবং চট্টগ্রামের সেই প্রিয় ছোট ভাইয়ের মতো আন্তরিক সহযাত্রী—তবে পথটি নিঃসন্দেহে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

কারণ জীবনের প্রকৃত সম্পদ শুধু অর্থ, পদ কিংবা পরিচিতি নয়। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো—কিছু প্রিয় মানুষ, যাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করা যায়, কষ্টের কথা বলা যায়, নীরবতাও ভাগ করে নেওয়া যায়।

আজ সাগরের নীল জলে তাকিয়ে তাই মনে হয়—আমি শুধু সমুদ্র দেখতে যাইনি; আমি খুঁজেছি আমার ভেতরের মানুষটিকেও। আর সেই খোঁজের পথে পাশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর মুখগুলো হয়ে থাকুক এই ছবির সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।

সমুদ্র একদিন তার ঢেউ ফিরিয়ে নেবে, সূর্য ডুবে যাবে, এই মুহূর্তও একদিন অতীত হয়ে যাবে। কিন্তু প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত—সেগুলো হৃদয়ের তীরে চিরকাল ঢেউ তুলতে থাকবে।

সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার এই নিরন্তর চেষ্টায় তাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—সাগর নয়, সাগরের পাড়ে পাওয়া প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য।

এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু – সম্পাদক

সারাক্ষণ বার্তা