ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২ উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ‘ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী মব সন্ত্রাসীদের উৎখাতেই সব মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র সম্ভব’ পাহাড়তলী গ্রীনভিউ ঈদে আজম মাহফিলে আল্লামা রেজাউল কাউসার নবীনগরে তিতাস পাড়ের অবৈধ বালু অপসারণ শুরু: শেষ পর্যন্ত কি রক্ষা পাবে নদী? অলি আহমদের বক্তব্য ঘিরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফে আসন্ন মহা পবিত্র উরস শরীফ ২০২৭ দাওয়াতী জলসা ভোটারের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি দল তাকেই মনোনয়ন দেবে : আইনমন্ত্রী ধামইরহাটে ট্যাপন্ডাডল সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  টেকনাফে নাফ নদীতে বস্তা ফেলে পালাল পাচারকারীরা, মিলল ১৪ হাজার ইয়াবা

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফের খানাখন্দ: নোংরা পানিতে ভিজছে পথচারী, সওজের দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস।

 

শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে সংস্কারের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে যানবাহন চলাচল, আর প্রতিদিন যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজের আশপাশের অংশ এখন পথচারীদের জন্য এক প্রকার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই,২৬) সকাল ৬টার দিকে বালিয়াখালী ব্রিজের পাশে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে এক চরম বিব্রতকর ও নোংরা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শেখ মাহতাব হোসেন এবং সরকারি চাকুরিজীবী খান জাহান আলী।

ভুক্তভোগী শেখ মাহতাব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৬টার দিকে আমরা বালিয়াখালী ব্রিজের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। এমন সময় খুলনাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস সড়কের একটি বড় গর্তে পপাত খায়। সঙ্গে সঙ্গে গর্তে জমে থাকা কর্দমাক্ত নোংরা পানি ছিটকে এসে আমাদের কাপড়ে পড়ে। সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের পুরো শরীর ও পোশাক নোংরা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রতিদিন এই সড়কের কারণে হাজারো মানুষকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া অংশের বালিয়াখালী ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিটুমিন ও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো আকার ধারণ করে। চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে হুট করে ব্রেক কষায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের ওপর নোংরা পানি ছিটকে আসা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহাসড়কের এই বেহাল দশা এবং জনগণের চলমান ভোগান্তি নিয়ে কথা বলা হয়। খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আবারো বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কর্দমাক্ত পানির কারণে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে, গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বর্ষা মৌসুম এবং অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে মহাসড়কের কিছু কিছু অংশের পিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের এই সাময়িক দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

বালিয়াখালী ব্রিজ সংলগ্ন অংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে কোনো সংস্কার কাজ করা হবে কি না?

“অবশ্যই। আমরা বসে নেই। মহাসড়কের ডুমুরিয়া ও বালিয়াখালী অংশের গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করার জন্য আমাদের একটি টেকনিক্যাল টিমকে আজই (শনিবার) স্পট পরিদর্শনে পাঠানো হচ্ছে। বর্ষার কারণে এখন স্থায়ী কার্পেটিং করা সম্ভব না হলেও, ইট-খোয়া এবং কোল্ড মিক্সড দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ভরাট করা হবে, যাতে আজ-কালের মধ্যেই যানবাহন ও পথচারীরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন। আর বর্ষা কমলেই স্থায়ীভাবে পুরো সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হবে।”

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, জোড়াতালির সংস্কার না করে সওজ বিভাগের উচিত বালিয়াখালী ব্রিজ ও সংলগ্ন মহাসড়কের টেকসই উন্নয়ন করা। দ্রুত এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফের খানাখন্দ: নোংরা পানিতে ভিজছে পথচারী, সওজের দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস।

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে সংস্কারের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে যানবাহন চলাচল, আর প্রতিদিন যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজের আশপাশের অংশ এখন পথচারীদের জন্য এক প্রকার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই,২৬) সকাল ৬টার দিকে বালিয়াখালী ব্রিজের পাশে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে এক চরম বিব্রতকর ও নোংরা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শেখ মাহতাব হোসেন এবং সরকারি চাকুরিজীবী খান জাহান আলী।

ভুক্তভোগী শেখ মাহতাব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৬টার দিকে আমরা বালিয়াখালী ব্রিজের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। এমন সময় খুলনাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস সড়কের একটি বড় গর্তে পপাত খায়। সঙ্গে সঙ্গে গর্তে জমে থাকা কর্দমাক্ত নোংরা পানি ছিটকে এসে আমাদের কাপড়ে পড়ে। সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের পুরো শরীর ও পোশাক নোংরা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রতিদিন এই সড়কের কারণে হাজারো মানুষকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া অংশের বালিয়াখালী ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিটুমিন ও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো আকার ধারণ করে। চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে হুট করে ব্রেক কষায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের ওপর নোংরা পানি ছিটকে আসা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহাসড়কের এই বেহাল দশা এবং জনগণের চলমান ভোগান্তি নিয়ে কথা বলা হয়। খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আবারো বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কর্দমাক্ত পানির কারণে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে, গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বর্ষা মৌসুম এবং অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে মহাসড়কের কিছু কিছু অংশের পিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের এই সাময়িক দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

বালিয়াখালী ব্রিজ সংলগ্ন অংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে কোনো সংস্কার কাজ করা হবে কি না?

“অবশ্যই। আমরা বসে নেই। মহাসড়কের ডুমুরিয়া ও বালিয়াখালী অংশের গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করার জন্য আমাদের একটি টেকনিক্যাল টিমকে আজই (শনিবার) স্পট পরিদর্শনে পাঠানো হচ্ছে। বর্ষার কারণে এখন স্থায়ী কার্পেটিং করা সম্ভব না হলেও, ইট-খোয়া এবং কোল্ড মিক্সড দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ভরাট করা হবে, যাতে আজ-কালের মধ্যেই যানবাহন ও পথচারীরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন। আর বর্ষা কমলেই স্থায়ীভাবে পুরো সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হবে।”

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, জোড়াতালির সংস্কার না করে সওজ বিভাগের উচিত বালিয়াখালী ব্রিজ ও সংলগ্ন মহাসড়কের টেকসই উন্নয়ন করা। দ্রুত এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।