ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ: ফ্যাসিবাদের দোসর মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন এর গ্রাসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর! গোয়েন্দা সংস্থার পদক্ষেপ জরুরী, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আমলা ও গুপ্ত সিন্ডিকেটের নানামুখি চক্রান্ত! মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি। কুমিল্লার লাকসামের সোহান হত্যা মামলায় মিজানুর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পার্কিং করা গাড়িতে আগুন। সরকারি রাস্তা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ। উচ্ছেদ নয়, আগে পুনর্বাসন: মিটফোর্ড সুইপার কলোনির সংকট রাষ্ট্রের মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের পরীক্ষা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী রায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজস্ব ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা:  এনবিআর এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ। সরকারের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র:  মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন বিতর্কিত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও চুক্তিভিত্তিক সচিব!

সন্ত্রাস, হুমকি ও মাদক: আইনের কঠোর প্রয়োগই হোক প্রতিকার।

  • উপ সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৯৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনের শাসনের বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি যদি কারও জীবননাশের হুমকি দেয়, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বা মাদকসহ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সম্প্রতি সাবেক কর কমিশনার প্রশান্ত রায়কে হত্যার হুমকির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দেবাশীষ গাইন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সমাজে সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে যথাযথ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ যেমন কারও নেই, তেমনি অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর প্রতি অযথা সহানুভূতিরও সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মাদক ও সন্ত্রাস—এই দুই অভিশাপ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক অনেক সময় অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি হুমকি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশান্ত রায়ের মতো একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সামাজিক শান্তি রক্ষায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হুমকি, সন্ত্রাস বা মাদকের মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সাহস না পায়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মানে প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো—নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ: ফ্যাসিবাদের দোসর মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন এর গ্রাসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর!

সন্ত্রাস, হুমকি ও মাদক: আইনের কঠোর প্রয়োগই হোক প্রতিকার।

আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনের শাসনের বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি যদি কারও জীবননাশের হুমকি দেয়, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বা মাদকসহ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সম্প্রতি সাবেক কর কমিশনার প্রশান্ত রায়কে হত্যার হুমকির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দেবাশীষ গাইন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সমাজে সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে যথাযথ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ যেমন কারও নেই, তেমনি অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর প্রতি অযথা সহানুভূতিরও সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মাদক ও সন্ত্রাস—এই দুই অভিশাপ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক অনেক সময় অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি হুমকি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশান্ত রায়ের মতো একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সামাজিক শান্তি রক্ষায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হুমকি, সন্ত্রাস বা মাদকের মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সাহস না পায়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মানে প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো—নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।