ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল চাষে ডুমুরিয়ায় বিপ্লব: আড়াই বছরেই ফলন, বছরে মিলছে ৩৫০ নারকেল। কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দরে মাদক বিরোধী মানববন্ধন।  কুমিল্লা দাউদ কান্দিতে পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার। বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আল আমিন’কে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প কর্তৃক গ্রেফতার। বিদেশি সিগারেটসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার, ৩০ কার্টুন সিগারেট উদ্ধার। কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তায় নিম্ন মানের নির্মান সামগ্রী। ১৭ বছর যাবত যুবলীগ নেতা সাঈদ মীরের দখলে মাগুরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক মালিক গ্রুপের কর্তৃত্ব! জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা। ভাইরাল গান, ভাইরাল বিতর্ক: একজন শিক্ষকের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নাকি পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন? বিয়ের আশ্বাসে সুন্দরী নারীর দেহভোগ: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

সাংবাদিক নিবন্ধন: মর্যাদা রক্ষার নতুন দিগন্ত, নাকি নিয়ন্ত্রণের নতুন ঝুঁকি? – এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু, সম্পাদক – সারাক্ষণ বার্তা 

  • সম্পাদকীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১০২ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

সাংবাদিকতা এমন এক পেশা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, জনগণের অধিকার এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না; তিনি সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। অন্যায়, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং সত্যকে সামনে তুলে ধরাই তার প্রধান দায়িত্ব।

কিন্তু বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার পরিসর যত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে, পেশাটির সামনে ততই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন যে কেউ একটি অনলাইন পেজ খুলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিক, অপেশাদার সংবাদকর্মী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিচয়ধারীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই বাস্তবতায় বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। আইন পেশায় যেমন একজন আইনজীবী নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে পেশায় প্রবেশ করেন, তেমনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি ন্যূনতম পেশাগত মানদণ্ড থাকা অযৌক্তিক নয়।

প্রশ্ন হলো—সাংবাদিক নিবন্ধন কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে, নাকি পেশাটির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে? এর উত্তর নির্ভর করবে নিবন্ধন ব্যবস্থার কাঠামো ও পরিচালনার ওপর।

যদি নিবন্ধনের নামে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। কারণ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না।

অন্যদিকে, যদি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিক কাউন্সিল গঠন করা যায়, তাহলে এটি সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একজন নিবন্ধিত সাংবাদিকের যেমন একটি পেশাগত পরিচয় থাকবে, তেমনি থাকবে নৈতিক দায়বদ্ধতার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো।

বর্তমানে সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। মিথ্যা তথ্য, গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পেশাগত শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।

তবে সাংবাদিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন সাংবাদিক হওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত না করে। দ্বিতীয়ত, নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানকে হতে হবে স্বাধীন। তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়; এটি জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই এই পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ভালো সাংবাদিক তৈরি হয় শুধু নিবন্ধনের মাধ্যমে নয়—তৈরি হয় সততা, সাহস, জ্ঞান ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে।

সময়ের দাবি হলো, সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা। বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধন সেই কাঠামোর একটি অংশ হতে পারে। তবে এর মূল লক্ষ্য হতে হবে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সাংবাদিকতার পেশাগত উৎকর্ষ সাধন।

কারণ শক্তিশালী গণমাধ্যম মানেই শক্তিশালী গণতন্ত্র। আর শক্তিশালী গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সমাজ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল চাষে ডুমুরিয়ায় বিপ্লব: আড়াই বছরেই ফলন, বছরে মিলছে ৩৫০ নারকেল।

সাংবাদিক নিবন্ধন: মর্যাদা রক্ষার নতুন দিগন্ত, নাকি নিয়ন্ত্রণের নতুন ঝুঁকি? – এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু, সম্পাদক – সারাক্ষণ বার্তা 

আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

সাংবাদিকতা এমন এক পেশা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা, জনগণের অধিকার এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না; তিনি সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। অন্যায়, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং সত্যকে সামনে তুলে ধরাই তার প্রধান দায়িত্ব।

কিন্তু বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার পরিসর যত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে, পেশাটির সামনে ততই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন যে কেউ একটি অনলাইন পেজ খুলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিক, অপেশাদার সংবাদকর্মী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিচয়ধারীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই বাস্তবতায় বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। আইন পেশায় যেমন একজন আইনজীবী নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে পেশায় প্রবেশ করেন, তেমনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি ন্যূনতম পেশাগত মানদণ্ড থাকা অযৌক্তিক নয়।

প্রশ্ন হলো—সাংবাদিক নিবন্ধন কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে, নাকি পেশাটির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে? এর উত্তর নির্ভর করবে নিবন্ধন ব্যবস্থার কাঠামো ও পরিচালনার ওপর।

যদি নিবন্ধনের নামে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। কারণ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না।

অন্যদিকে, যদি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিক কাউন্সিল গঠন করা যায়, তাহলে এটি সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একজন নিবন্ধিত সাংবাদিকের যেমন একটি পেশাগত পরিচয় থাকবে, তেমনি থাকবে নৈতিক দায়বদ্ধতার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো।

বর্তমানে সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। মিথ্যা তথ্য, গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পেশাগত শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।

তবে সাংবাদিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন সাংবাদিক হওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত না করে। দ্বিতীয়ত, নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানকে হতে হবে স্বাধীন। তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়; এটি জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই এই পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ভালো সাংবাদিক তৈরি হয় শুধু নিবন্ধনের মাধ্যমে নয়—তৈরি হয় সততা, সাহস, জ্ঞান ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে।

সময়ের দাবি হলো, সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা। বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধন সেই কাঠামোর একটি অংশ হতে পারে। তবে এর মূল লক্ষ্য হতে হবে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সাংবাদিকতার পেশাগত উৎকর্ষ সাধন।

কারণ শক্তিশালী গণমাধ্যম মানেই শক্তিশালী গণতন্ত্র। আর শক্তিশালী গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সমাজ।