ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে ৫৭১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ।  নওগাঁয় পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই শিশু ধর্ষণেরর অভিযোগ।  বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ২২ নাবিক।   শার্শায় সাংবাদিক হত্যাসহ ১৮ মামলার আসামি উকিল মল্লিক আটক। খুলনা মেডিকেলের সামনে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশই যেন সোনার হরিণ: ২হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা কেজি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা নাভিশ্বাস, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৭৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল বন্ধের দাবিতে উপজেলা পরিষদের সম্মূখে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৬ জুলাই,২৬ বৃহস্পতিবার মদন উপজেলা গ্রীন কোয়ালিশন ও বারসিকের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে গ্রীন কোয়ালিশন মদন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিতে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বারসিক নেত্রকোনার আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. অহিদুর রহমান।

তিনি বলেন, হাওর আমাদের মিঠাপানির মাছের উৎস, জীবিকা, সংস্কৃতি ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মগড়ানদী, বিল, খালসহ সকল জলাশয়ে ব্যাপকহারে “চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের ফলে জলজ প্রাণীর অবাধ প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এবং হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অতীতে হাওরে ২৭০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু জলাভূমির বিলুপ্তি, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, জলাশয় সেচদিয়ে মাছধরা, রোটানল ব্যবহার, পোনামাছ নিধন, হাওরে জলজ উদ্ভিদের বিলুপ্তি ও বর্তমানে আগ্রাসী প্রজাতির চায়না দুয়ারি জালের আগ্রাসনে শতাধিক প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ বিলুপ্ত ও বিপন্ন অবস্থায় আছে। চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারে জলজ প্রাণবৈচিত্র্যকে মারাত্মক ভাবে ধ্বংস করে, বিশেষ করে ছোট মাছ, মাছের পোনা, চিংড়ি, মাটির ডিম, কচ্ছপ, ব্যাঙ এবং কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজপ্রাণীর ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যায়। এই জাল প্রজনন চক্রকে ব্যাহত করে এবং মাছের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য সম্পদ, মাছবৈচিত্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। চায়না দুয়ারি জাল অবৈধ এবং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া এই জাল ব্যবহারের সময় পানির নিচের ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়, যা মাছের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে শুধু মাছ নয়, হাওরের পুরো খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। দীর্ঘ মেয়াদে চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহার হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এবং স্থানীয় মৎস্য সম্পদ টেকসইভাবে সংরক্ষণের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, জেলেদের মতে, জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করছে এই চায়না দুয়ারি জাল। এই জালের হালকা ও মিহি বুননের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এবং মাছের পোনা সহজেই আটকা পড়ে মারা যায়। মাছ ও অন্যান্য প্রাণের প্রজনন চক্রের ধ্বংস করছে এই জাল। এটি মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেয়, ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের সংখ্যা কমে যাবে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত মৎস আইন ও বিধিতে এই জালের নাম করে কোন নিষিদ্ধ আইন না থাকলেও আইনের ব্যাখ্যায় জালের বুনন বা ফাঁস এর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও হাওর এলাকায় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে, মাছের উৎপাদন কমছে এবং বাস্তুতন্ত্র বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যান্যের মাঝে

বক্তব্য রাখেন, মদন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দাস, প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বিপুলসহ আরো অনেকে।

বক্তারা, হাওরের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় মদন উপজেলার হাওর, নদী, খাল, বিলে চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ, অবৈধভাবে ব্যবহৃত জালসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ ও ধ্বংসের ব্যবস্থা নেয়া, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা, মৎস্য অফিসের তদারকি আরো বাড়ানো ও চায়নাজাল উৎপাদন, বিপণন, আমদানি, রপ্তানি, বুনন, সংরক্ষণসহ সার্বিকভাবে বন্ধ করাসহ হাওরে মাছ ধরার জন্য রোটানল নামক বিষ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান। এ সময় সুধী সমাজের লোকজন, স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে হাওরে চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের নিকট একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী।

হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে মামদনেনববন্ধন।

আপডেট সময় : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

হাওরে ব্যবহৃত চায়না দুয়ারি জাল বন্ধের দাবিতে উপজেলা পরিষদের সম্মূখে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৬ জুলাই,২৬ বৃহস্পতিবার মদন উপজেলা গ্রীন কোয়ালিশন ও বারসিকের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে গ্রীন কোয়ালিশন মদন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিতে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বারসিক নেত্রকোনার আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. অহিদুর রহমান।

তিনি বলেন, হাওর আমাদের মিঠাপানির মাছের উৎস, জীবিকা, সংস্কৃতি ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মগড়ানদী, বিল, খালসহ সকল জলাশয়ে ব্যাপকহারে “চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের ফলে জলজ প্রাণীর অবাধ প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এবং হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অতীতে হাওরে ২৭০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু জলাভূমির বিলুপ্তি, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, জলাশয় সেচদিয়ে মাছধরা, রোটানল ব্যবহার, পোনামাছ নিধন, হাওরে জলজ উদ্ভিদের বিলুপ্তি ও বর্তমানে আগ্রাসী প্রজাতির চায়না দুয়ারি জালের আগ্রাসনে শতাধিক প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ বিলুপ্ত ও বিপন্ন অবস্থায় আছে। চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারে জলজ প্রাণবৈচিত্র্যকে মারাত্মক ভাবে ধ্বংস করে, বিশেষ করে ছোট মাছ, মাছের পোনা, চিংড়ি, মাটির ডিম, কচ্ছপ, ব্যাঙ এবং কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজপ্রাণীর ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যায়। এই জাল প্রজনন চক্রকে ব্যাহত করে এবং মাছের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য সম্পদ, মাছবৈচিত্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। চায়না দুয়ারি জাল অবৈধ এবং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া এই জাল ব্যবহারের সময় পানির নিচের ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়, যা মাছের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে শুধু মাছ নয়, হাওরের পুরো খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। দীর্ঘ মেয়াদে চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহার হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এবং স্থানীয় মৎস্য সম্পদ টেকসইভাবে সংরক্ষণের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, জেলেদের মতে, জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করছে এই চায়না দুয়ারি জাল। এই জালের হালকা ও মিহি বুননের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এবং মাছের পোনা সহজেই আটকা পড়ে মারা যায়। মাছ ও অন্যান্য প্রাণের প্রজনন চক্রের ধ্বংস করছে এই জাল। এটি মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেয়, ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের সংখ্যা কমে যাবে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত মৎস আইন ও বিধিতে এই জালের নাম করে কোন নিষিদ্ধ আইন না থাকলেও আইনের ব্যাখ্যায় জালের বুনন বা ফাঁস এর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও হাওর এলাকায় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে, মাছের উৎপাদন কমছে এবং বাস্তুতন্ত্র বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যান্যের মাঝে

বক্তব্য রাখেন, মদন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দাস, প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বিপুলসহ আরো অনেকে।

বক্তারা, হাওরের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় মদন উপজেলার হাওর, নদী, খাল, বিলে চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ, অবৈধভাবে ব্যবহৃত জালসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ ও ধ্বংসের ব্যবস্থা নেয়া, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা, মৎস্য অফিসের তদারকি আরো বাড়ানো ও চায়নাজাল উৎপাদন, বিপণন, আমদানি, রপ্তানি, বুনন, সংরক্ষণসহ সার্বিকভাবে বন্ধ করাসহ হাওরে মাছ ধরার জন্য রোটানল নামক বিষ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান। এ সময় সুধী সমাজের লোকজন, স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে হাওরে চায়না দুয়ারি জাল” বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের নিকট একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।