ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে ৫৭১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ।  নওগাঁয় পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই শিশু ধর্ষণেরর অভিযোগ।  বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ২২ নাবিক।   শার্শায় সাংবাদিক হত্যাসহ ১৮ মামলার আসামি উকিল মল্লিক আটক। খুলনা মেডিকেলের সামনে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশই যেন সোনার হরিণ: ২হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা কেজি, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা নাভিশ্বাস, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাগরের নীল জলে নিজেকে খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা।

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

 

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই,২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওরের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। নিহত বাছির উদ্দিন মিলন ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। মানুষের ব্যথা লাঘব করাই ছিল যার পেশা, শেষ মুহূর্তে তিনিই নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য।

 

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবার নিয়ে হাওরে নৌভ্রমণে বেরিয়েছিলেন মিলন। একপর্যায়ে করিমগঞ্জের শেষ সীমান্তে মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ এলাকার কাছে নৌকা থামিয়ে সবাই গোসল করতে নামেন। হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তার মেজো মেয়ে। এক মুহূর্তও দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা।

 

প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে নিরাপদে তীরে তুলতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে নিজেই তীব্র স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি। অল্প সময়ের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের দীর্ঘ চেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে তলিয়ে মারা যান। স্থানীয়দের সহায়তায় পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, বর্ষা মৌসুমে হাওর, নদী কিংবা গভীর জলাশয়ে সামান্য অসতর্কতাও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে ভ্রমণে গেলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, গভীর পানিতে নামার আগে সতর্কতা এবং স্রোতের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

একটি আনন্দভ্রমণ শেষ হলো এক বাবার আত্মত্যাগের গল্পে। মেয়েটি বেঁচে থাকবে, কিন্তু বাবার সেই শেষ ঝাঁপ তার পরিবারের কাছে সারাজীবনের এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী।

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

আপডেট সময় : ১০:২৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই,২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওরের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। নিহত বাছির উদ্দিন মিলন ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। মানুষের ব্যথা লাঘব করাই ছিল যার পেশা, শেষ মুহূর্তে তিনিই নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য।

 

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবার নিয়ে হাওরে নৌভ্রমণে বেরিয়েছিলেন মিলন। একপর্যায়ে করিমগঞ্জের শেষ সীমান্তে মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ এলাকার কাছে নৌকা থামিয়ে সবাই গোসল করতে নামেন। হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তার মেজো মেয়ে। এক মুহূর্তও দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা।

 

প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে নিরাপদে তীরে তুলতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে নিজেই তীব্র স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি। অল্প সময়ের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের দীর্ঘ চেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে তলিয়ে মারা যান। স্থানীয়দের সহায়তায় পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, বর্ষা মৌসুমে হাওর, নদী কিংবা গভীর জলাশয়ে সামান্য অসতর্কতাও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে ভ্রমণে গেলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, গভীর পানিতে নামার আগে সতর্কতা এবং স্রোতের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

একটি আনন্দভ্রমণ শেষ হলো এক বাবার আত্মত্যাগের গল্পে। মেয়েটি বেঁচে থাকবে, কিন্তু বাবার সেই শেষ ঝাঁপ তার পরিবারের কাছে সারাজীবনের এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে থাকবে।