ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি। কুমিল্লার লাকসামের সোহান হত্যা মামলায় মিজানুর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পার্কিং করা গাড়িতে আগুন। সরকারি রাস্তা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ। উচ্ছেদ নয়, আগে পুনর্বাসন: মিটফোর্ড সুইপার কলোনির সংকট রাষ্ট্রের মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের পরীক্ষা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী রায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজস্ব ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা:  এনবিআর এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ। সরকারের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র:  মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন বিতর্কিত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও চুক্তিভিত্তিক সচিব! জুলাই সনদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান: ইতিহাসের ভাষ্য, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা ও দাউদকান্দির সব নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা।

 

 

আজ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও মারাত্মক মোড় এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেন-সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়া বা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে গেছে।

 

হুথিদের দেওয়া তথ্য মতে, আজ সকালে তেহরান থেকে একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, বিমানটি কোনো সামরিক বিমান ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের অবরোধের পর ইয়েমেনের আটকে পড়া সাধারণ নাগরিক, প্রতিনিধি দল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে আসা একটি বেসামরিক বিমান ছিল। বিমানটি যেন কোনোভাবেই ইয়েমেনের মাটিতে নামতে না পারে, সেজন্য সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালায়।

 

তবে হামলার পরপরই সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের অফিশিয়াল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনার দায় তারা স্বীকার করে। তারা জানায়, হুথিরা ইয়েমেনি জাতীয় বিমান সংস্থাকে সানায় নামতে বাধা দিচ্ছিল, অথচ অবৈধভাবে একটি ইরানি বিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিচ্ছিল।দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হুথিরা ইরানি বিমানকে জোরপূর্বক অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিল, তাই তারা এই রানওয়েতে স্ট্রাইক করেছে এবং সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা দায় স্বীকার করেনি।

 

এই হামলার কারণে সানার রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ইরানি বিমানটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে দিক পরিবর্তন করে এবং লোহিত সাগর উপকূলের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—হোদেইদাহ বিমানবন্দরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে অবতরণ করে।

 

এই ঘটনার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সৌদি আরবের এই সরাসরি আগ্রাসন সব ধরণের যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটালো। এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর সব পরিণতির জন্য সৌদি আরবকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি।

হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা।

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

 

আজ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও মারাত্মক মোড় এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেন-সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়া বা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে গেছে।

 

হুথিদের দেওয়া তথ্য মতে, আজ সকালে তেহরান থেকে একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, বিমানটি কোনো সামরিক বিমান ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের অবরোধের পর ইয়েমেনের আটকে পড়া সাধারণ নাগরিক, প্রতিনিধি দল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে আসা একটি বেসামরিক বিমান ছিল। বিমানটি যেন কোনোভাবেই ইয়েমেনের মাটিতে নামতে না পারে, সেজন্য সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালায়।

 

তবে হামলার পরপরই সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের অফিশিয়াল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনার দায় তারা স্বীকার করে। তারা জানায়, হুথিরা ইয়েমেনি জাতীয় বিমান সংস্থাকে সানায় নামতে বাধা দিচ্ছিল, অথচ অবৈধভাবে একটি ইরানি বিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিচ্ছিল।দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হুথিরা ইরানি বিমানকে জোরপূর্বক অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিল, তাই তারা এই রানওয়েতে স্ট্রাইক করেছে এবং সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা দায় স্বীকার করেনি।

 

এই হামলার কারণে সানার রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ইরানি বিমানটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে দিক পরিবর্তন করে এবং লোহিত সাগর উপকূলের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—হোদেইদাহ বিমানবন্দরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে অবতরণ করে।

 

এই ঘটনার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সৌদি আরবের এই সরাসরি আগ্রাসন সব ধরণের যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটালো। এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর সব পরিণতির জন্য সৌদি আরবকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।