সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেয়েকে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫৫) ও বেল্লাল হোসেন (৬০) নামে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে ভুক্তোভুগীগন জানান ।
এ ঘটনায় তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের মোঃ আব্দুল হালিম (৪৬) বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—হাজী মোঃ রইচ উদ্দিন, মোঃ সানোয়ার হোসেন, মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ সলেমান আলী, মোঃ আতিক, মোঃ লালন, মোঃ উজ্জল হোসেন, মোঃ আব্দুল হালিম, মোঃ আল আমিন, মোঃ জুয়েল রানা, মোঃ আমিরুল, মোঃ ফরিদ উদ্দিন, মোঃ আব্দুল বারিক, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ হাসমত, মোঃ রাজ্জাক প্রামানিক ও মোঃ একরাম প্রামানিক। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিমের মেয়ে মোছাঃ সুমাইয়া খাতুন (১৮) প্রায় দুই মাস আগে আজুগড়া গ্রামের মোঃ আকাশ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে করেন। পরে তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের মোঃ আতিক মোবাইল ফোনে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ১৭ জুলাই রাতে আব্দুর রহমান মাস্টারের বাড়িতে সালিশ বৈঠক এর আয়োজন করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, সালিশ শেষে ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে হামলা চালান, এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে লুৎফর রহমান ও বেল্লাল হোসেন মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া আব্দুল হালিম, তার ভাই হাসান, চাচাতো ভাই রুবেল ও বড় ভাই হেলাল আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত লুৎফর রহমান ও বেল্লাল হোসেনকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক । পরবর্তীতে লুৎফর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















