ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় এক নারী ও এক পুরুষকে অসামাজিক কার্যকলাপের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই,২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় ব্যক্তিগত কাজে ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান শাহে আলম। একই সময়ে সেখানে যান তাসলিমা বেগম (৫০) নামে এক নারী।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় সজিবের নেতৃত্বে শরীফ জমাদার, ভূট্টো, সুমন ভূলাই, মহিউদ্দিন মাঝি, সবুজ ভূলাই, রুবেল, সিদ্দিক ও জুয়েলসহ ৮-১০ জন তাদের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে জোরপূর্বক তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে ঘোরানো হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহে আলম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে তজুমদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সজিব (২৮), রাকিব ভূট্টো, রায়হান (১৯) ও রাসেলকে (২১) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া সজিব একসময় মেঘনা নদীকেন্দ্রিক কুখ্যাত জলদস্যু ‘দুলাল বাহিনীর’ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া এর আগেও চাঁদার দাবিতে একাধিক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালে এক নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভোলা জেলা প্রতিনিধি 


















