ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা। এমডি’র অব্যবস্থাপনায় ডুবছে অগ্রণী ব্যাংক! ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আলীগের সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে হত্যাচেষ্টা মামলা। শিশু খাদ্যে ভেজালে পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সকে লক্ষ টাকা জরিমানা। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির। গণপূর্তের ‘উজির’: ক্ষমতার বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ। গণপূর্তে ‘কায়কোবাদ বলয়’ : কমিশন বাণিজ্য, বদলি-পদায়ন ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত: আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাহারোলবাসী। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ।

মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস।

 

রাতের আকাশে যেন তারারাও অপেক্ষা করছিল। একদিকে ফুটবলের চিরচেনা পরাশক্তি আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে সাহসী মিশর। কেউ বলছিল, এটি হবে একতরফা লড়াই। কিন্তু ফুটবল কখনও কাগজের হিসাব মানে না।

খেলা শুরু হতেই মিশর যেন মরুভূমির ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি ট্যাকলে ছিল বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। প্রথম গোলটি হতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল বিস্ময়। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন নতুন করে লেখা শুরু করেছে।

কিন্তু ইতিহাসকে এত সহজে বদলাতে দেয় না আর্জেন্টিনা।

নীল-সাদা জার্সিধারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেল। বল যেন তাদের পায়ে গান গাইতে লাগল। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণ কেঁপে উঠল। সমতার গোলটি হতেই স্টেডিয়াম গর্জে উঠল বজ্রধ্বনির মতো।

তবু মিশর হার মানেনি। তারা আবারও এগিয়ে গেল। মরুভূমির সন্তানরা যেন বিশ্বকে বলতে চাইল—’আমরাও স্বপ্ন দেখতে জানি।’

সময় তখন শেষের দিকে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চোখে উদ্বেগ, আর মিশরের সমর্থকদের চোখে অলৌকিক জয়ের স্বপ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা যেন নিজের শতবর্ষের ফুটবল ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলল। দ্রুত আক্রমণ, নিখুঁত পাস, আর এক দুর্দান্ত সমাপ্তি—স্কোরলাইন আবার সমান।

এরপর অতিরিক্ত সময় যেন ছিল হৃদস্পন্দনের পরীক্ষা। প্রতিটি মিনিট ছিল এক একটি যুগের সমান দীর্ঘ। মিশরের খেলোয়াড়দের ক্লান্ত শরীরেও ছিল অদম্য লড়াই, আর আর্জেন্টিনার চোখে ছিল জয়ের অগ্নিশিখা।

হঠাৎই এলো সেই ক্ষণ।

একটি নিখুঁত আক্রমণ, কয়েক সেকেন্ডের জাদুকরী সমন্বয়, তারপর জালের ভেতর বল। পুরো স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হলো আনন্দে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল। শেষ বাঁশি বাজতেই নীল-সাদা সমুদ্র আনন্দে ভেসে উঠল।

কিন্তু সেদিনের সত্যিকারের নায়ক শুধু বিজয়ী দল ছিল না।

মিশরের খেলোয়াড়রা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল। কারও চোখে জল, কারও মুখে নীরবতা। তারা হারলেও মাথা নত করেনি। কারণ তারা বিশ্বকে দেখিয়েছিল—সাহস কখনও স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না।

আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যাচ, কিন্তু মিশর জয় করেছিল কোটি মানুষের শ্রদ্ধা।

ফুটবল এমনই এক খেলা—এখানে কেউ ট্রফি জেতে, কেউ মানুষের হৃদয়। আর কখনও কখনও, পরাজিতের চোখের জলও বিজয়ীর হাসির মতোই অমর হয়ে থাকে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা।

মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস।

আপডেট সময় : ১২:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

 

রাতের আকাশে যেন তারারাও অপেক্ষা করছিল। একদিকে ফুটবলের চিরচেনা পরাশক্তি আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে সাহসী মিশর। কেউ বলছিল, এটি হবে একতরফা লড়াই। কিন্তু ফুটবল কখনও কাগজের হিসাব মানে না।

খেলা শুরু হতেই মিশর যেন মরুভূমির ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি ট্যাকলে ছিল বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। প্রথম গোলটি হতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল বিস্ময়। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন নতুন করে লেখা শুরু করেছে।

কিন্তু ইতিহাসকে এত সহজে বদলাতে দেয় না আর্জেন্টিনা।

নীল-সাদা জার্সিধারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেল। বল যেন তাদের পায়ে গান গাইতে লাগল। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণ কেঁপে উঠল। সমতার গোলটি হতেই স্টেডিয়াম গর্জে উঠল বজ্রধ্বনির মতো।

তবু মিশর হার মানেনি। তারা আবারও এগিয়ে গেল। মরুভূমির সন্তানরা যেন বিশ্বকে বলতে চাইল—’আমরাও স্বপ্ন দেখতে জানি।’

সময় তখন শেষের দিকে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চোখে উদ্বেগ, আর মিশরের সমর্থকদের চোখে অলৌকিক জয়ের স্বপ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা যেন নিজের শতবর্ষের ফুটবল ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলল। দ্রুত আক্রমণ, নিখুঁত পাস, আর এক দুর্দান্ত সমাপ্তি—স্কোরলাইন আবার সমান।

এরপর অতিরিক্ত সময় যেন ছিল হৃদস্পন্দনের পরীক্ষা। প্রতিটি মিনিট ছিল এক একটি যুগের সমান দীর্ঘ। মিশরের খেলোয়াড়দের ক্লান্ত শরীরেও ছিল অদম্য লড়াই, আর আর্জেন্টিনার চোখে ছিল জয়ের অগ্নিশিখা।

হঠাৎই এলো সেই ক্ষণ।

একটি নিখুঁত আক্রমণ, কয়েক সেকেন্ডের জাদুকরী সমন্বয়, তারপর জালের ভেতর বল। পুরো স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হলো আনন্দে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল। শেষ বাঁশি বাজতেই নীল-সাদা সমুদ্র আনন্দে ভেসে উঠল।

কিন্তু সেদিনের সত্যিকারের নায়ক শুধু বিজয়ী দল ছিল না।

মিশরের খেলোয়াড়রা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল। কারও চোখে জল, কারও মুখে নীরবতা। তারা হারলেও মাথা নত করেনি। কারণ তারা বিশ্বকে দেখিয়েছিল—সাহস কখনও স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না।

আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যাচ, কিন্তু মিশর জয় করেছিল কোটি মানুষের শ্রদ্ধা।

ফুটবল এমনই এক খেলা—এখানে কেউ ট্রফি জেতে, কেউ মানুষের হৃদয়। আর কখনও কখনও, পরাজিতের চোখের জলও বিজয়ীর হাসির মতোই অমর হয়ে থাকে।