দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর পদন্নোতি নিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তোলপাড়!
গণপূর্ত ইএম বিভাগের তিনজন প্রকৌশলীকে অবৈধভাবে বিপুল অংকের ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলম এবং গণপূর্তির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। এই পদোন্নতির বিষয়ে দেখা যায়, ক্যাডার সার্ভিসে পদোন্নতি বিধিমালা অনুসরণ না করে একতরফা ভাবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তিন প্রকৌশলীর পদোন্নতির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রেরিত এই প্রস্তাব হঠাৎ করে মন্ত্রণালয়ে অস্বাভাবিক গতি লাভ করেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন ক্যাডার) এর এক প্রজ্ঞাপনে চাকরিতে শুধুমাত্র ভাইবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে স্বৈরাচারী সরকারের এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সরকার প্রীতির কারণে কোন রকম লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই যোগসাজশ এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন ক্যাডার) এর অধীনে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অদৃশ্য ক্ষমতা বলে ক্যাডার বনে যান।
এমনকি, বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলা করলে উক্ত নিয়োগের বিষয়ে স্থগিত আদেশ প্রদান করা হয়। সেই স্থগিতাদেশের মাঝেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা বৃন্দ যোগদান করেন।
সরাসরি নবম গ্রেডে বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ থাকলেও শুধুমাত্র ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকদেরকে পুনর্বাসন করার উদ্দেশ্যেই ষষ্ঠ গ্রেডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়।
চাকরি বিধিতে পদোন্নতি বিধিমালার ৮ নম্বর বিধির দুই নম্বর উপবিধিতে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, কোন কর্মকর্তা বিভাগীয় পরীক্ষা এবং সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তিনি পঞ্চম গ্রেডের পদ পর্যন্ত পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু এরপরে আর কোন পদোন্নতি প্রাপ্য হবেন না। চাকরির এই বিধির তোয়াক্কা না করেই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলম ব্যাপক ঘুষ বিনিময় করে তাদের পদোন্নতির জন্য ডিপিসি ফাইল নোট ওঠানোর চেষ্টা করছেন।
মন্ত্রণালয়ের গুঞ্জন উঠেছে, ইতোমধ্যে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপক ঘুষ বিনিময় করে মন্ত্রী মহোদয়কে না জানিয়ে ডিপিসি ফাইল নোট সাইন করিয়েছেন।
মজার বিষয় হল, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদেরকে এই বৈতরণী পার হওয়ার জন্য উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সাথে ডিপিসি করার ফাইল তুলছেন বলে জানা যায়। সরোয়ার আলম এখানে চরম মেধার পরিচয় দিয়েছেন। কঠিন শূট মাল না হলে এ ধরনের চিন্তা সাধারণ কোন অফিসারের মাথা থেকে বের হওয়ার কথা নয়।
আরো মজার বিষয় হল, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নামের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। সে বিষয়টি লুকিয়ে রেখে তার শৃঙ্খলা প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সকল বিষয় অত্যন্ত সুক্ষভাবে প্যাকেজ আকারে হাতে নিয়েছেন বলে জানা যায়।
আরো মজার বিষয় হল, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কিংবা চলতি দায়িত্ব প্রদানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইতোমধ্যেই সচিব এবং প্রধান প্রকৌশলীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। সেটিকে আমলে না নিয়ে তাদের ডিপিসি আহবান করা চরম ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি করে বেতন নিয়েছেন। একই সময়ে তিনি পিডব্লিউডিতে চাকরি না করেও বেতন নিয়েছেন। জিগাতলা সরকারি কোয়ার্টারে মাল্টিপারপাস হলে কোন এলইডি ডিসপ্লে না লাগিয়েই পুরো টাকা গায়েব করে দেন জাহাঙ্গীর আলম। সেই বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তিনি কাজ গুলো শেষ করার জন্য বিভিন্ন মালামাল নিজে থেকে কিনে সেট আপ করছেন বলে জানা যায়। কাজ না করে ইতোমধ্যেই তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
তার পক্ষে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পদোন্নতি নেওয়া কোন বিষয়ই নয়। আর সেই কাজই করে যাচ্ছে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তার এ সকল দুর্বলতাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলম এর মত সূক্ষ্ম মেধাবী কর্মকর্তারা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছেন যা জাতির জন্য চরম দুর্ভাগ্যের।
অথচ বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
সারাক্ষণ ডেস্ক 


















