ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২ উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ‘ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী মব সন্ত্রাসীদের উৎখাতেই সব মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র সম্ভব’ পাহাড়তলী গ্রীনভিউ ঈদে আজম মাহফিলে আল্লামা রেজাউল কাউসার নবীনগরে তিতাস পাড়ের অবৈধ বালু অপসারণ শুরু: শেষ পর্যন্ত কি রক্ষা পাবে নদী? অলি আহমদের বক্তব্য ঘিরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফে আসন্ন মহা পবিত্র উরস শরীফ ২০২৭ দাওয়াতী জলসা ভোটারের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি দল তাকেই মনোনয়ন দেবে : আইনমন্ত্রী ধামইরহাটে ট্যাপন্ডাডল সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  টেকনাফে নাফ নদীতে বস্তা ফেলে পালাল পাচারকারীরা, মিলল ১৪ হাজার ইয়াবা

বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিমের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য ফাঁস! 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মাহমুদ চৌধুরীর দোসর হিসেবে পরিচিত বিআইডব্লিউটিএ এর শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং জাল জালিয়াতির মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের বিআইডব্লিউটিএতে এখনো দাপটের সাথে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

 

এই দুর্নীতিবাজ অতিরিক্ত পরিচালক চাকরিতে বহাল থেকে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে বিআইডব্লিউটিএর সর্বস্তরে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছেন। পতিত সরকারের আমলে মোঃ আব্দুর রহিম বিভিন্ন ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে জাল-জালিয়াতি এবং ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তেল খরচের নামে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অনেকের নামে দুদক এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য কারণে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

 

নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রহিমের নিজস্ব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারী জাহাজ পরিচালনায় ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তেল খরচের নামে সরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত করে দুদক। তদন্তে নেমে দুদক নারায়ণগঞ্জের নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নথিপত্রের ব্যাপক গরমিল পায়।

 

বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জে কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে পূর্বে প্রত্যয় ও নির্ভীক নামে দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ ছিল। তবে নির্বিক এখন বরিশাল থেকে পরিচালিত হয় আর নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পরিচালিত হয়। বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের অদূরে শহরের ৫ নম্বর ঘাটের শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙ্গর করা থাকে আড়াইশো টন ওজনের উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ধার জাহাজটি। এই জাহাজের ভূয়া তেল খরচের বিল ভাউচার তৈরি করে রহিমের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

 

বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বয়া বিকন বাতি যা প্রজেক্ট তৈরি করে বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে কিন্তু অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের তার নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মালিক বাহারের কোম্পানির নামে ২০১৯-২০ হতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কোম্পানির নামে ভুয়া বিল বানিয়ে লুট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ। এ ছাড়াও পরিচালক রহিম তার নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মালিক বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় বিভিন্ন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভূয়া বিল ভাউচার করে লুটপাট করছেন সরকারি কোটি কোটি টাকা এবং এই কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এই দপ্তরের সমস্ত কাজগুলি পেয়ে থাকেন। আখি এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে টিপি- ১৩৫, ভূয়া বিল করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা , তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে এমপি ১২ এর ভূয়া বিল করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। তানজিল ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এর নামে টিপি ৮০ এর ভূয়া বিল বাবদ ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা, তানজিল ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এর নামে টিপি ১৭৩ এর ভূয়া বিল ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ এর নামে স্পিড বোট-১ মেরামতের ভূয়া বিল ৮, ৮৪১০০/ আলিফ এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি ৪৫ এর ভূয়া বিল করে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

 

এভাবে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া বিল ভাউচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। রাজধানী ঢাকার বাড়ির নং ৫৮/৩০/গ উত্তর মুগদাতে আলিফ গার্ডেন নামক বাড়িটিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়ে। উত্তর মুগদার ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নং বাড়িতে ক্রয় করেছেন দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আলিশান ফ্ল্যাট। ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটের নদীর পশ্চিমপাড় কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় ঠিকাদার বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডক ইয়ার্ড তৈরি করেছেন। মোঃ রহিম এবং লিমা তাবাসসুম এর নামে আর এস দাগ নং ১৮৩৩, ইসলামনগর, পাথালিয়া ইউনিয়ন, আশুলিয়া ঢাকাতে ১০ কাঠা জায়গার উপর প্রায় ২০ কোটি ব্যায়ে নির্মাণ করেছেন একটি ৫ তলা যুগ্ম ভবন। ঢাকা সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের দুই তলায় ক্রয় করেছেন দুটি দোকান। সাভার কাঠগড়ায় নির্মাণ করেছেন চার ইউনিটের আরো একটি সাত তলা ভবন যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২০ কোটি টাকা। মোহাম্মদপুর হাউজিং এ প্রায় ৭ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন ৬ শতাংশ জমি।

 

এছাড়াও ঢাকার রামপুরা এবং হাতিরপুল এলাকায় একাধিক ফ্লাট এবং বাড়ি তৈরি করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এর বাইরে পরিচালক শাহজাহানের নামে বেনামে ঢাকা এবং সাভারে একাধিক প্লট ক্রয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন কোটি কোটি টাক।রহিমের এক নিকট আত্মীয়র সাথে কথা বলে তিনি জানান রাহিম নিজ গ্রামে অর্থাৎ পাবনার পাশে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি হিন্দু বাড়ি ক্রয় করেছেন যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

 

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শাহজাহানের ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কিশোর অপহরণ, উখিয়ায় গ্রেপ্তার ২

বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিমের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য ফাঁস! 

আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মাহমুদ চৌধুরীর দোসর হিসেবে পরিচিত বিআইডব্লিউটিএ এর শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং জাল জালিয়াতির মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের বিআইডব্লিউটিএতে এখনো দাপটের সাথে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

 

এই দুর্নীতিবাজ অতিরিক্ত পরিচালক চাকরিতে বহাল থেকে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে বিআইডব্লিউটিএর সর্বস্তরে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছেন। পতিত সরকারের আমলে মোঃ আব্দুর রহিম বিভিন্ন ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে জাল-জালিয়াতি এবং ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তেল খরচের নামে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অনেকের নামে দুদক এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য কারণে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

 

নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রহিমের নিজস্ব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারী জাহাজ পরিচালনায় ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তেল খরচের নামে সরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত করে দুদক। তদন্তে নেমে দুদক নারায়ণগঞ্জের নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নথিপত্রের ব্যাপক গরমিল পায়।

 

বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জে কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে পূর্বে প্রত্যয় ও নির্ভীক নামে দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ ছিল। তবে নির্বিক এখন বরিশাল থেকে পরিচালিত হয় আর নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পরিচালিত হয়। বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের অদূরে শহরের ৫ নম্বর ঘাটের শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙ্গর করা থাকে আড়াইশো টন ওজনের উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ধার জাহাজটি। এই জাহাজের ভূয়া তেল খরচের বিল ভাউচার তৈরি করে রহিমের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

 

বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বয়া বিকন বাতি যা প্রজেক্ট তৈরি করে বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে কিন্তু অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের তার নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মালিক বাহারের কোম্পানির নামে ২০১৯-২০ হতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কোম্পানির নামে ভুয়া বিল বানিয়ে লুট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ। এ ছাড়াও পরিচালক রহিম তার নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মালিক বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় বিভিন্ন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভূয়া বিল ভাউচার করে লুটপাট করছেন সরকারি কোটি কোটি টাকা এবং এই কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এই দপ্তরের সমস্ত কাজগুলি পেয়ে থাকেন। আখি এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে টিপি- ১৩৫, ভূয়া বিল করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা , তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে এমপি ১২ এর ভূয়া বিল করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। তানজিল ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এর নামে টিপি ৮০ এর ভূয়া বিল বাবদ ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা, তানজিল ডক ইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এর নামে টিপি ১৭৩ এর ভূয়া বিল ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ এর নামে স্পিড বোট-১ মেরামতের ভূয়া বিল ৮, ৮৪১০০/ আলিফ এন্টারপ্রাইজের নামে টিপি ৪৫ এর ভূয়া বিল করে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

 

এভাবে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া বিল ভাউচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। রাজধানী ঢাকার বাড়ির নং ৫৮/৩০/গ উত্তর মুগদাতে আলিফ গার্ডেন নামক বাড়িটিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়ে। উত্তর মুগদার ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নং বাড়িতে ক্রয় করেছেন দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আলিশান ফ্ল্যাট। ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটের নদীর পশ্চিমপাড় কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় ঠিকাদার বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডক ইয়ার্ড তৈরি করেছেন। মোঃ রহিম এবং লিমা তাবাসসুম এর নামে আর এস দাগ নং ১৮৩৩, ইসলামনগর, পাথালিয়া ইউনিয়ন, আশুলিয়া ঢাকাতে ১০ কাঠা জায়গার উপর প্রায় ২০ কোটি ব্যায়ে নির্মাণ করেছেন একটি ৫ তলা যুগ্ম ভবন। ঢাকা সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের দুই তলায় ক্রয় করেছেন দুটি দোকান। সাভার কাঠগড়ায় নির্মাণ করেছেন চার ইউনিটের আরো একটি সাত তলা ভবন যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২০ কোটি টাকা। মোহাম্মদপুর হাউজিং এ প্রায় ৭ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন ৬ শতাংশ জমি।

 

এছাড়াও ঢাকার রামপুরা এবং হাতিরপুল এলাকায় একাধিক ফ্লাট এবং বাড়ি তৈরি করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এর বাইরে পরিচালক শাহজাহানের নামে বেনামে ঢাকা এবং সাভারে একাধিক প্লট ক্রয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন কোটি কোটি টাক।রহিমের এক নিকট আত্মীয়র সাথে কথা বলে তিনি জানান রাহিম নিজ গ্রামে অর্থাৎ পাবনার পাশে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি হিন্দু বাড়ি ক্রয় করেছেন যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

 

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শাহজাহানের ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।