ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁও, রাঙিয়ে তোলা হয়েছে শহর। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব: দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও সমকালীন পৃথিবীতে কৃষ্ণের প্রাসঙ্গিকতা। ভাঙ্গার আলগীর ঝালডাঙ্গা বিলে শতাধিক নৌকার মহারণ, সেরা রাজৈরের ‘বৈতরণী’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের বার্তা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের জাগরণ- অপর্ণা রায় দাস। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এর কাজ শতভাগ আওয়ামী প্রতিষ্ঠানের দখলে! এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা! শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন আবুল কালাম আজাদ নজরুল বর্ষ ও আমাদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন: বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা ও উত্তরাধিকার। যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

মিটফোর্ডের সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতপাত বিলোপ জোটের আয়োজনে মানববন্ধন।

 

 

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মিনিয়ালস কোয়ার্টার (সুইপার কলোনি) থেকে প্রায় ২০০ বছর ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের অভিযোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

গতকাল রোববার (৯ আগস্ট,২৬) বিকেল ৪:০০টায় জাতপাত বিলোপ জোটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হরিজন ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি বাবু কৃষ্ণলাল।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু মিটফোর্ড নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত কলোনির বাসিন্দারাও প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের হুমকির মধ্যে রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছ থেকে প্রথমে পেশা, এরপর বসবাসের জায়গাটুকুও নানা কৌশলে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নিজেদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রেখে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পরও হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষকে ‘পরদেশী’ হিসেবে শুনতে হয়। অথচ তারা শত শত বছর ধরে এ দেশে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা থেকে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না।

বক্তারা আরও বলেন, মিটফোর্ডের সুইপার কলোনির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করে সেগুলো সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর নামে বরাদ্দ দিতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে বসবাসরত হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

মানববন্ধন থেকে ভূমির অধিকার আদায়ে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও জেলায় জেলায় সমাবেশ করারও আহ্বান জানান নেতারা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. হারুনর রশিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সদস্য কাইয়ূম হোসেন।

 

মানববন্ধনে মাইনরিটি রাইটস ফোরাম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন, সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম, বাংলাদেশ তফসিলি মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মহাদলিত পরিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন।

মিটফোর্ডের সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতপাত বিলোপ জোটের আয়োজনে মানববন্ধন।

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

 

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মিনিয়ালস কোয়ার্টার (সুইপার কলোনি) থেকে প্রায় ২০০ বছর ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের অভিযোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

গতকাল রোববার (৯ আগস্ট,২৬) বিকেল ৪:০০টায় জাতপাত বিলোপ জোটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হরিজন ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি বাবু কৃষ্ণলাল।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু মিটফোর্ড নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত কলোনির বাসিন্দারাও প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের হুমকির মধ্যে রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছ থেকে প্রথমে পেশা, এরপর বসবাসের জায়গাটুকুও নানা কৌশলে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নিজেদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রেখে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পরও হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষকে ‘পরদেশী’ হিসেবে শুনতে হয়। অথচ তারা শত শত বছর ধরে এ দেশে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা থেকে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না।

বক্তারা আরও বলেন, মিটফোর্ডের সুইপার কলোনির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করে সেগুলো সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর নামে বরাদ্দ দিতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে বসবাসরত হরিজন ও দলিত জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

মানববন্ধন থেকে ভূমির অধিকার আদায়ে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও জেলায় জেলায় সমাবেশ করারও আহ্বান জানান নেতারা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. হারুনর রশিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সদস্য কাইয়ূম হোসেন।

 

মানববন্ধনে মাইনরিটি রাইটস ফোরাম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন, সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম, বাংলাদেশ তফসিলি মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মহাদলিত পরিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।