গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল নিয়ে অনিয়ম, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার শুরু হয়েছে আরেক দফা বিতর্ক। তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত হওয়ার আগেই যে কৌশলে প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়েই উঠেছে নতুন প্রশ্ন—প্রতিবাদ কি মূল সংবাদমাধ্যমে পাঠানোর পরিবর্তে অন্যত্র প্রচার করে ‘ম্যানেজড সাংবাদিকতা’র আবরণ তৈরি করা হচ্ছে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। বরং স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, কার্যাদেশ, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী এবং বদলি-পদায়নের প্রশাসনিক ফাইল তদন্ত করা প্রয়োজন।
কিন্তু প্রতিবেদনের জবাব হিসেবে কায়কোবাদ যে প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন, সেটি নিয়ে এখন আরও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে যথাযথ প্রতিবাদ পাঠিয়ে জবাব দেওয়ার পরিবর্তে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমে বা কথিত ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রচার করা হলো কেন ?
‘প্রতিবাদ’ নাকি পাল্টা প্রচারণা ? কোনো সংবাদে নিজের বক্তব্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিবাদ জানানোর অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ কীভাবে, কোথায় এবং কোন সাংবাদিকতার মানদণ্ডে প্রকাশিত হচ্ছে—সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব যদি এমন কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার করা হয়, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সাংবাদিক মহলেই প্রশ্ন রয়েছে, তাহলে সেটিকে কি নিছক প্রতিবাদ বলা হবে, নাকি প্রভাব খাটিয়ে পাল্টা জনমত তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হবে ? আর যদি সত্যিই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী পথ তো ছিল—অভিযোগকারী সংবাদমাধ্যমে সরাসরি লিখিত প্রতিবাদ, সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে আইনগত প্রতিকার চাওয়া।
তার পরিবর্তে ‘নিজস্ব’ বা ‘গৃহপালিত’ সাংবাদিক চক্রের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিবেদন করানোর অভিযোগ সত্য হলে তা সাংবাদিকতার জন্য যেমন বিব্রতকর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জন্যও তেমনই প্রশ্নবিদ্ধ কৌশল।
সাংবাদিকতা কি ‘পিআর অফিসের বর্ধিত সংস্করণ’?
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হলে তার বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকাও স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য।
কিন্তু বক্তব্য প্রকাশের সুযোগকে যদি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সাফাই প্রচারের নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম বানানো হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এটি সংবাদ, নাকি জনসংযোগ ? আর যদি কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে মূল প্রতিবেদনের জবাবকে এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে শুধু প্রতিবেদক বা সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই আক্রমণ করা হয়, তাহলে সেটিও জনস্বার্থের সাংবাদিকতার মানদণ্ডে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
কায়কোবাদ তার প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘অসত্য’, ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছেন। এটি তার অধিকার।
কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন হলো—অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণের জন্য তিনি কি কোনো নির্দিষ্ট নথি প্রকাশ করেছেন ?
৪-৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ মিথ্যা—তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিল-ভাউচার ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার নথি প্রকাশ করা হোক। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ মিথ্যা—তাহলে প্রকল্পের পরিমাপ বই, কাজের অগ্রগতি ও বিলের হিসাব যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
সম্পদের অভিযোগ মিথ্যা—তাহলে আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য তদন্তে বাধা কোথায় ? বদলি-পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ ভিত্তিহীন—তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিই তো সত্য-মিথ্যার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। সাংবাদিককে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বললেই নথি গায়েব হয়ে যায় না।
‘ক্যাশিয়ার’ পরিচিতির জবাব কোথায় ? প্রতিবেদনে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অতীতে দপ্তরের অভ্যন্তরে ‘ক্যাশিয়ার’ নামে পরিচিতি পাওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি গুরুতর অভিযোগ—এবং এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের একমাত্র পথ হলো তদন্ত। প্রতিবাদলিপিতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কোন সময় তিনি কার সঙ্গে কী ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন, তার দাপ্তরিক নথি কি পরীক্ষা করা হয়েছে?
একজন তত্ত্বাবধায়ক বা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যদি বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনিক প্রভাব, বদলি-পদায়ন ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পর্যায়ে আটকে রাখা যায় না।
এখানে প্রয়োজন নথি—সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারণা নয়।
সম্পদের প্রশ্নে ‘প্রতিবাদ’ যথেষ্ট নয় কায়কোবাদের : প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করা হয়নি।
এখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন সংস্থার জন্য প্রশ্নটি অত্যন্ত সরল—
তাহলে যাচাই করুন।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, ঋণ, বিনিয়োগ এবং দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না—এটি যাচাই করতে সাংবাদিক সম্মেলন বা পাল্টা প্রতিবাদ প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নথি যাচাইয়ের।
যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তদন্তেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর অভিযোগ সত্য হলে প্রতিবাদলিপি দিয়ে সেটি চাপা দেওয়ার সুযোগও থাকবে না।
প্রেস কাউন্সিলের নীতির আলোকে প্রশ্ন আরও গুরুতর : বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪ সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। কোনো সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থা সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠলে প্রেস কাউন্সিল বিষয়টি তদন্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে সতর্ক, তিরস্কার বা নিন্দা জানাতে পারে। অতএব, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত পথ রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সংবাদমাধ্যম যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে সংবাদ প্রচার করে থাকে, সেটিও তদন্তের বাইরে থাকার বিষয় নয়। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—এক পত্রিকার প্রতিবাদের জবাব অন্য পত্রিকায় প্রকাশ করাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা, প্রতিপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ অথবা যাচাইহীন পাল্টা প্রচারণা চালানো হয়েছে, তাহলে সেটি সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।
‘গৃহপালিত দালাল সাংবাদিকতা’র অভিযোগ তদন্ত হবে কি ? গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো কর্মকর্তা নিজের প্রভাববলয় রক্ষায় নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি নিছক মিডিয়া বিতর্ক নয়। এটি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাব্য একটি দিকও হতে পারে। কারা নিয়মিত ওই কর্মকর্তার পক্ষে সংবাদ করেন ? কারা অভিযোগ প্রকাশের পরপরই পাল্টা প্রতিবাদ ছাপেন ?
কোন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কার কী ধরনের যোগাযোগ?
কোনো আর্থিক বা পেশাগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না?
কোনো বিজ্ঞাপন, কাজ, যোগাযোগ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’ নিয়ে ওঠা অভিযোগও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
অবশ্য এসব অভিযোগও প্রমাণসাপেক্ষ। অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়া যেমন সাংবাদিকতার নীতি নয়, তেমনি তদন্ত না করেই সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেওয়াও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে এখন মূল প্রশ্ন একটাই— একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে, তার জবাব কি কেবল সংবাদপত্রের পাতায় পাল্টা প্রতিবাদ দিয়ে শেষ হবে, নাকি নথি খুলে প্রকৃত সত্য বের করা হবে ? মন্ত্রণালয় চাইলে একটি স্বাধীন ও নথিভিত্তিক তদন্ত কমিটি করতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিল-ভাউচার, এমবি, কার্যাদেশ, টেন্ডার নথি, ঠিকাদার তালিকা, দায়িত্ব বণ্টন, বদলি-পদায়ন, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেন যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। কারণ, অভিযোগ মিথ্যা হলে একজন কর্মকর্তার সুনাম ফিরবে; আর অভিযোগ সত্য হলে রাষ্ট্রের অর্থ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শেষ কথা: প্রতিবাদ নয়, এবার নথি কথা বলুক : কায়কোবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন—এটি তার আইনগত ও নৈতিক অধিকার। সংবাদমাধ্যমেরও তার বক্তব্য প্রকাশের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তার নিষ্পত্তি হওয়ার কথা প্রতিবাদলিপির কালি দিয়ে নয়, তদন্তের নথিতে। আর কোনো সংবাদমাধ্যম যদি সত্যিই কারও ‘গৃহপালিত মুখপাত্র’ হয়ে থাকে, সেটিও প্রমাণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা উচিত। কারণ সাংবাদিকতা কারও ব্যক্তিগত ঢাল নয়। সাংবাদিকতা কোনো কর্মকর্তার পিআর শাখাও নয়। আর সংবাদমাধ্যম কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তা বা ঠিকাদার সিন্ডিকেটের ‘সেফটি ভল্ট’ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি পত্রিকা নয়—ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা। তাই এখন সময় এসেছে প্রতিবাদ-প্রতিবাদের খেলা বন্ধ করে নথি খোলার। কায়কোবাদ নির্দোষ হলে তদন্তেই তা প্রমাণিত হোক।
অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ সত্য হলে শুধু কায়কোবাদ নয়—যারা সুবিধা নিয়েছে, যারা সহযোগিতা করেছে এবং যারা সাংবাদিকতার নামে সেই বলয়কে আড়াল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হোক।
জনগণের প্রশ্ন এখন একটাই—
গণপূর্তে সত্যিই কি ‘কায়কোবাদ বলয়’ আছে, নাকি সবই কল্পকাহিনি?
এর উত্তর কোনো প্রতিবাদলিপি দেবে না।
উত্তর দেবে ফাইল, হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী, প্রকল্পের এমবি এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















