হামদর্দের চিফ মোতাওয়াল্লী ইউসুফ হারুন ভুঁইয়ার ওপর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কঠোর এ্যাকশন
আইনি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দেশের অন্যতম শীর্ষ ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ’-এ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির চীফ মোতাওয়াল্লী ও মোতাওয়াল্লী নিয়োগের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ওয়াক্ক প্রশাসকের কার্যালয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎকালের সব আর্থিক অডিট এবং প্রতিবেদন প্রতিবেদন সংস্থটির মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির এক জরুরি স্মারকের (১৬.০০.০০০০.০২৭.১১.০০০৪.২৩ (অংশ-১).১৩৫) সুপারিশ বাস্তবায়নে ২৪ আগস্ট হামদর্দ ল্যাবরেটরীজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এসব পৃথক নির্দেশনামূলক পত্র পাঠায় ওয়াকফ্ প্রশাসন। এই আদেশের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে হামদর্দ ট্রাস্টে চলে আসা পারিবারিক আধিপত্য এবং বিধিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ধাক্কা এলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিধি সংশোধন বাতিল ও বিতর্কিত পদ স্থগিত:
ওয়াকফ্ফ প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়, হামদর্দ ল্যাবরেটরীজের মূল গঠনতন্ত্র-‘প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিধি, ১৯৮৬’-এর বিতর্কিত পরবর্তী সংশোধনীসমূহ আইনি পর্যালোচনার অধীন রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ২ নম্বর সুপারিশ অনুযায়ী,
মূল বিধির ‘রুল-৫’ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড বহাল রেখে পরবর্তী সময়ে ২০১২ ও ২০১৯ সালে ব্যক্তি ও পারিবারিক স্বার্থরক্ষায় আনা অবৈধ সংশোধনীগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামদর্দের উত্তরাধিকার নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিতর্কিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিসমূহ অবিলম্বে বাতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালের মূল বিধিতে ‘চীফ মোতাওয়াল্লী’ ‘মোতাওয়াল্লী’ বলতে ও কোনো পদ ছিল না; পরবর্তী সময়ে বিধিবহির্ভ তভাবে সংশোধনের মাধ্যমে এ পদগুলো সৃষ্টি করা হয়। ফলে উক্ত বিধিমালা স্থায়ীভাবে সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি জারি করা (স্মারক নংঃ ওঃপ্রঃ/ঢাঃ-৪/৫১) চীফ মোতাওয়াল্লী ও মোতাওয়াল্লী নিয়োগ সংক্রান্ত সকল আদেশ স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অডিটের নির্দেশ:
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ৭ নম্বর সুপারিশ অনুযায়ী, হামদর্দের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি প্রতি হিসাব বছরের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রতিবেদন তলব করেছে ওয়াক্ফ্ প্রশাসন। আদেশে বলা হয়, প্রতিটি অডিট সম্পন্ন হয়ে থাকলে তার অনুলিপি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে। আর যদি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোনো বছরের অডিট বকেয়া থাকে, তবে দেশের স্বীকৃত কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের মাধ্যমে দ্রুত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করে তা অবিলম্বে প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার ওয়াক্ফ্ তহবিল তসরুপ বা অব্যবস্থাপনার তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। (চলবে)
সারাক্ষণ ডেস্ক 

















