ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৩৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
8

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

“মানুষ মানুষের জন্য” আবারো প্রমাণিত হলো।

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
8

বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য! বাবা-মায়ের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলো ছোট্ট একটি শিশু। কে জানতো, প্রকৃতির সেই অপরূপ রূপই মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠবে!

হঠাৎ করেই ঝর্ণার তীব্র স্রোত অবুঝ শশুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে আটকে ফেলে দুটি পাহাড়ের দুর্গম খাঁজে।  একপাশে উত্তাল পানির স্রোত, অন্যপাশে পাথরের কঠিন দেয়াল—মাঝখানে অসহায় শিশুটির বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার! বাবা-মায়ের পৃথিবী যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল।

যখন প্রায় সমস্ত আশা শেষ, ঠিক তখনই সেখানে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। উপস্থিত পর্যটকরা আর দর্শক হয়ে থাকতে পারলেন না। জেগে উঠলো তাদের ভেতরের মানবতা!

কয়েকজন সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন পানির স্রোতের সামনে। তারা শরীর দিয়ে তৈরি করলেন এক “মানবিক দেয়াল”, যাতে ঝর্ণার ভয়ংকর স্রোত কিছুটা বাধা পায় এবং শিশুটি ভেসে না যায়। একদিকে তীব্র স্রোতের চাপ, অন্যদিকে পাথরের খাঁজে আটকে থাকা শিশুটির কান্না ,সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, অসীম সাহসিকতা আর বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা সফল হন। কৌশলে ছোট্ট শিশুটিকে সেই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাটি শুধু একটি উদ্ধারকাজ নয়, এটি এক চরম সংকটে মানুষের একতার নিদর্শন। প্রমাণ করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে বিপদের মুহূর্তে অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে একে অপরের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা রাখছি যে সকল মহৎ প্রাণ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় নিপতিত নাবালক শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে শুধু বাবা- মায়ের মুখে হাসি ফোটায়নি।তারা আমাদের হৃদয়ের চক্ষু ফুটিয়ে দিয়েছে। শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেছে।এটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের হাজার বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক নিগূঢ় মেলবন্ধন।যা মানবিক দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।স্যালুট সেই সকল প্রকৃত নায়ককে, যারা প্রমাণ করলেন—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।