ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

প্রশাসন সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১১০ জন সংবাদটি পড়েছেন
10

মাঠ প্রশাসন সাজাতে বেকায়দায় পড়েছে বর্তমান সরকার। তদবির ও চাপ ঠিকমতো সামলে উঠতে না পারায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডিসি নিয়োগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পিছু ছাড়ছে না। নানা সমালোচনার একপর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোখলেস উর রহমানকে। কিন্তু সেখানেও নতুন মুখ বসাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। গত তিন দিন ধরে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকেও এখন পর্যন্ত সুফল আসেনি। ফলে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদটি গত ১৬ দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।

নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের অফিসার বাছাই ও পদায়নে ব্যস্ত থাকার বদলে এই মন্ত্রণালয় নিজেই গতিহীন হয়ে আছে। জনপ্রশাসনের সচিব পদটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শূন্য। রুটিন দায়িত্বে আছেন একই মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কাকে বসানো হবে, এ নিয়ে নানা কানাঘুষা চলছে। চুক্তিভিত্তিক সচিবদের কাউকে বসানো হবে নাকি নিয়মিত কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে এ পদে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। বিএনপি কিংবা জামায়াত কোন পন্থি কর্মকর্তার আসন হবে জনপ্রশাসন সচিবের মতো পদটি, এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় চিন্তার বাইরে শক্ত অবস্থান নিতে বেগ পেতে হচ্ছে বর্তমান প্রশাসনের।

অন্তর্বর্তী সরকারের এমন অবস্থা দেখে হতাশ জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দক্ষ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি দেখে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কে কোন দলের সেসব বিষয় বিবেচনার বাইরে রেখে এ রকম পদে কাউকে বসাতে না পারলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কতটা পারদর্শী হবে সরকার, তা সহজে অনুমেয়। কারণ, মাঠ প্রশাসন সাজাতে জনপ্রশসাসন সচিবের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিঞা সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন নাজুক অবস্থায় আছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গেল এক বছরে সচিব পদে পদোন্নতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় বর্তমান সরকারকে। পলাতক হাসিনার সরকারের সুবিধাভোগীরা যেমন পদোন্নতি পেয়েছেন। তেমনি বিতর্ক ওঠায় তাঁদের ওএসডি করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা দিয়ে বড় লোকসান হচ্ছে রাষ্ট্রের। এ রকম নানামুখী কাণ্ড থেকে বের হতে চেষ্টা করলেও বাস্তবে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি-পদোন্নতির দায়িত্বের কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড় দুটি দলই এ জন্য জোর লবিয়িং চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে ডিসিসহ মাঠ প্রশাসনে কারা দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি এখন মুখ্য আলোচ্য বিষয়। তাই সব দলের নজর এখন সরকারের প্রশাসন সাজানোর দিকে।

এদিকে জনপ্রশাসন সচিব পদটি শূন্য থাকায় অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদোন্নতির প্রক্রিয়া থমকে গেছে। নতুন সচিব যোগ না দেওয়া পর্যন্ত পরবর্তী সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পরপরই সচিব নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি এখনও।

আলোচনায় পাঁচ সচিব : সূত্র মতে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গণি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের নাম পরবর্তী জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে আলোচনায় আছে। এ ছাড়া গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদীসহ অন্তত পাঁচজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। জনপ্রশাসন সচিব সাধারণত জ্যেষ্ঠতম ব্যাচ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের কাউকে দায়িত্ব না দেওয়া হলে ১১ বা ১৩ ব্যাচের কাউকেও জনপ্রশাসন সচিব পদে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রশাসন সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
10

মাঠ প্রশাসন সাজাতে বেকায়দায় পড়েছে বর্তমান সরকার। তদবির ও চাপ ঠিকমতো সামলে উঠতে না পারায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডিসি নিয়োগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পিছু ছাড়ছে না। নানা সমালোচনার একপর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোখলেস উর রহমানকে। কিন্তু সেখানেও নতুন মুখ বসাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। গত তিন দিন ধরে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকেও এখন পর্যন্ত সুফল আসেনি। ফলে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদটি গত ১৬ দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।

নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের অফিসার বাছাই ও পদায়নে ব্যস্ত থাকার বদলে এই মন্ত্রণালয় নিজেই গতিহীন হয়ে আছে। জনপ্রশাসনের সচিব পদটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শূন্য। রুটিন দায়িত্বে আছেন একই মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কাকে বসানো হবে, এ নিয়ে নানা কানাঘুষা চলছে। চুক্তিভিত্তিক সচিবদের কাউকে বসানো হবে নাকি নিয়মিত কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে এ পদে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। বিএনপি কিংবা জামায়াত কোন পন্থি কর্মকর্তার আসন হবে জনপ্রশাসন সচিবের মতো পদটি, এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় চিন্তার বাইরে শক্ত অবস্থান নিতে বেগ পেতে হচ্ছে বর্তমান প্রশাসনের।

অন্তর্বর্তী সরকারের এমন অবস্থা দেখে হতাশ জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দক্ষ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি দেখে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কে কোন দলের সেসব বিষয় বিবেচনার বাইরে রেখে এ রকম পদে কাউকে বসাতে না পারলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কতটা পারদর্শী হবে সরকার, তা সহজে অনুমেয়। কারণ, মাঠ প্রশাসন সাজাতে জনপ্রশসাসন সচিবের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিঞা সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন নাজুক অবস্থায় আছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গেল এক বছরে সচিব পদে পদোন্নতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় বর্তমান সরকারকে। পলাতক হাসিনার সরকারের সুবিধাভোগীরা যেমন পদোন্নতি পেয়েছেন। তেমনি বিতর্ক ওঠায় তাঁদের ওএসডি করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা দিয়ে বড় লোকসান হচ্ছে রাষ্ট্রের। এ রকম নানামুখী কাণ্ড থেকে বের হতে চেষ্টা করলেও বাস্তবে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি-পদোন্নতির দায়িত্বের কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড় দুটি দলই এ জন্য জোর লবিয়িং চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে ডিসিসহ মাঠ প্রশাসনে কারা দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি এখন মুখ্য আলোচ্য বিষয়। তাই সব দলের নজর এখন সরকারের প্রশাসন সাজানোর দিকে।

এদিকে জনপ্রশাসন সচিব পদটি শূন্য থাকায় অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদোন্নতির প্রক্রিয়া থমকে গেছে। নতুন সচিব যোগ না দেওয়া পর্যন্ত পরবর্তী সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পরপরই সচিব নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি এখনও।

আলোচনায় পাঁচ সচিব : সূত্র মতে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গণি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের নাম পরবর্তী জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে আলোচনায় আছে। এ ছাড়া গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদীসহ অন্তত পাঁচজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। জনপ্রশাসন সচিব সাধারণত জ্যেষ্ঠতম ব্যাচ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের কাউকে দায়িত্ব না দেওয়া হলে ১১ বা ১৩ ব্যাচের কাউকেও জনপ্রশাসন সচিব পদে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।